কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরে প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম সোনাহাট সেতুর স্টিলের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। বুধবার ভোররাতে বালুবোঝাই একটি ড্রাম ট্রাক সেতুর ভাঙা পাটাতনে আটকে পড়ার পর পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে দুই পাড়ে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
**সেতুর জরাজীর্ণ অবস্থা ও জীবনের ঝুঁকি**
ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৭ সালে নির্মিত এই সেতুটির আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ১০০ বছর। সেই হিসেবে প্রায় চার দশক আগেই এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক সেতুটি দিয়ে চলাচল করছে।
স্থানীয় সংবাদকর্মী হাসান মাহমুদ জয় এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘সেতুটির আয়ুষ্কাল অনেক আগেই শেষ হয়েছে, অথচ এর ওপর দিয়েই প্রতিদিন ভারী যানবাহন চলাচল করছে। সেতুটি বর্তমানে জীবনের অনিশ্চয়তার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচলের সময় পুরো সেতু থরথর করে কেঁপে ওঠে। সেতুটি এতটাই সরু যে, একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় অন্য কোনো যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকে না, ফলে নিত্যদিন দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আরেক ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘পাটাতন ভেঙে গেলে সওজ বিভাগ দায়সারাভাবে মেরামত করে, যা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।’
**স্থলবন্দরে প্রভাব ও নতুন সেতুর ধীরগতি**
সেতুটি অচল হয়ে পড়লে সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে, ভোগান্তি নিরসনে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর পাশেই ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু দুই বছরের প্রকল্পের কাজ আট বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
**কর্তৃপক্ষের বক্তব্য**
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সেতুটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরপরই যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।’
উল্লেখ্য, ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেলপথের অংশ হিসেবে নির্মিত এই সেতুটি স্বাধীনতার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে তা সংস্কার করে সড়ক যোগাযোগ চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে স্থানীয়দের একটাই দাবি, দ্রুত নতুন সেতুটির কাজ শেষ করা হোক এবং বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির স্থায়ী সমাধান করা হোক।

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরে প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম সোনাহাট সেতুর স্টিলের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। বুধবার ভোররাতে বালুবোঝাই একটি ড্রাম ট্রাক সেতুর ভাঙা পাটাতনে আটকে পড়ার পর পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে দুই পাড়ে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
**সেতুর জরাজীর্ণ অবস্থা ও জীবনের ঝুঁকি**
ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৭ সালে নির্মিত এই সেতুটির আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ১০০ বছর। সেই হিসেবে প্রায় চার দশক আগেই এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক সেতুটি দিয়ে চলাচল করছে।
স্থানীয় সংবাদকর্মী হাসান মাহমুদ জয় এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘সেতুটির আয়ুষ্কাল অনেক আগেই শেষ হয়েছে, অথচ এর ওপর দিয়েই প্রতিদিন ভারী যানবাহন চলাচল করছে। সেতুটি বর্তমানে জীবনের অনিশ্চয়তার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচলের সময় পুরো সেতু থরথর করে কেঁপে ওঠে। সেতুটি এতটাই সরু যে, একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় অন্য কোনো যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকে না, ফলে নিত্যদিন দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আরেক ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘পাটাতন ভেঙে গেলে সওজ বিভাগ দায়সারাভাবে মেরামত করে, যা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।’
**স্থলবন্দরে প্রভাব ও নতুন সেতুর ধীরগতি**
সেতুটি অচল হয়ে পড়লে সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে, ভোগান্তি নিরসনে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর পাশেই ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু দুই বছরের প্রকল্পের কাজ আট বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
**কর্তৃপক্ষের বক্তব্য**
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সেতুটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরপরই যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।’
উল্লেখ্য, ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেলপথের অংশ হিসেবে নির্মিত এই সেতুটি স্বাধীনতার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে তা সংস্কার করে সড়ক যোগাযোগ চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে স্থানীয়দের একটাই দাবি, দ্রুত নতুন সেতুটির কাজ শেষ করা হোক এবং বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটির স্থায়ী সমাধান করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন