পিরোজপুরের জিয়ানগরে হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধন সোমবার (২০ এপ্রিল) জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো.হাফিজুর রহমানঅনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ননী গোপাল রায়।উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ ক্যাম্পেইনের আওতায় মোট ৭ হাজার ৭৪০ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে মোট ৫ হাজার ভ্যাকসিন সরবরাহ করা আছে । পুরো উপজেলায় ১১ টি অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে এ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত করা হবে।প্রথম দিনে উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আজকের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫১জন শিশুকে টিকা প্রদান।টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো.হাফিজুর রহমান ,বক্তব্যে বলেন হাম ও রুবেলা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ রোগ। সময়মতো টিকাদানের মাধ্যমে এসব রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। তাই সকল অভিভাবককে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাদের শিশুদের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ধাপে ধাপে পুরো উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ক্যাম্পেইনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডাঃ আকাস সাহা, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মারুফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তারা।
আর্কাইভ
অনলাইন জরিপ
দেশে জ্বালানি সংকট ও ভোগান্তির মধ্যে আজ (২০ এপ্রিল ২০২৬) থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মূলত চাহিদা বৃদ্ধি, দীর্ঘ লাইন এবং বাজারে অস্থিরতা কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের সব ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্তে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১৩ হাজার ৪৮ টন ডিজেল, ১ হাজার ৫১১ টন পেট্রোল এবং ১ হাজার ৪২২ টন অকটেন বাজারে সরবরাহ করা হবে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি নিতে গিয়ে মানুষের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি। বিশেষ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাম্পে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় চাপ বারছেএর আগে সরকার জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে, যার ফলে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সরবরাহ বাড়ালেই পুরো সমস্যা সমাধান হবে না—সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, মজুদদারি ও কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।সব মিলিয়ে, আজ থেকে বাড়তি সরবরাহ চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে, তবে বাস্তবে এর প্রভাব কতটা দ্রুত পড়বে, সেটাই এখন দেশে জ্বালানি সংকট ও ভোগান্তির মধ্যে আজ (২০ এপ্রিল ২০২৬) থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মূলত চাহিদা বৃদ্ধি, দীর্ঘ লাইন এবং বাজারে অস্থিরতা কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের সব ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্তে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১৩ হাজার ৪৮ টন ডিজেল, ১ হাজার ৫১১ টন পেট্রোল এবং ১ হাজার ৪২২ টন অকটেন বাজারে সরবরাহ করা হবে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশিএই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি নিতে গিয়ে মানুষের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি। বিশেষ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাম্পে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় চাপ বাড়ে। এর আগে সরকার জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে, যার ফলে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সরবরাহ বাড়ালেই পুরো সমস্যা সমাধান হবে না—সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, মজুদদারি ও কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সব মিলিয়ে, আজ থেকে বাড়তি সরবরাহ চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে, তবে বাস্তবে এর প্রভাব কতটা দ্রুত পড়বে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।দেখার বিষয়।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে—এই সিদ্ধান্তটি ইচ্ছাকৃত নয়, বরং পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়েই নেওয়া হয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকারকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ের ওপর। আগে সরকার ভর্তুকি দিয়ে মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করলেও, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ভর্তুকি দেওয়া অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। ফলে টেকসই সমাধানের জন্যই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক চাপ সৃষ্টি করলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সরকার বিকল্প জ্বালানি উৎস, বিদ্যুৎ উৎপাদনে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অপচয় রোধে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।তবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনে পড়তে শুরু করেছে। পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।এ অবস্থায় সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে মূল্য পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। তবে আপাতত আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তই সবচেয়ে যৌক্তিক বলে মনে করছে সরকার।
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দেশের জ্বালানি দামের যে পার্থক্য তৈরি হয়েছিল, তা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সরকারের সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয়কে তারা বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।সমিতির নেতারা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ওঠানামা করলেও দেশে তা অনেক সময় সমন্বয় করা হতো না, ফলে আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের মিল থাকত না। এতে পেট্রোল পাম্প মালিকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাতের অন্যান্য অংশীদাররাও আর্থিক চাপে পড়তেন। নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে সেই চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে তারা আশা করছেন।তাদের মতে, জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করা প্রয়োজন। এতে করে সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক থাকবে এবং হঠাৎ করে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে। বিশেষ করে, পাম্প পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি বা অনিশ্চয়তা তৈরি না হওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ—এ দিক থেকেও এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।তবে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি স্বীকার করেছে, এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা কষ্টের কারণ হতে পারে। পরিবহন ব্যয় বাড়ার মাধ্যমে এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপরও পড়তে পারে। তারপরও তারা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল।এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এই বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে সরকার যদি পরিবহন খাত ও নিত্যপণ্যের বাজার তদারকি জোরদার করে, তাহলে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও বিকল্প জ্বালানির দিকে ধীরে ধীরে ঝুঁকতেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।সব মিলিয়ে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে পেট্রোল পাম্প মালিকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, এর প্রভাব যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে, সেদিকেও সমানভাবে নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে সরকার এখন তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের মজুদ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তাঁর ভাষায়, এই মজুদ দিয়ে দেশের স্বাভাবিক চাহিদা নিরবচ্ছিন্নভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি ওঠানামা করলেও বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত। সরকার সময়মতো আমদানি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করার কারণে জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি অনেকটা কমে এসেছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিবেচনায় অন্তত প্রায় দুই মাসের জ্বালানি মজুদ রয়েছে, যা একটি নিরাপদ অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু আমদানি নির্ভরতা নয়, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতেও সরকার কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অপচয় কমানো, সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বিকল্প জ্বালানি উৎস নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতি ও শিল্প উৎপাদনের জন্য ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাতে জ্বালানির ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।সবশেষে তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এই খাতে আরও বিনিয়োগ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
পহেলা বৈশাখকে ঘিরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ইলিশের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ কম থাকায় প্রতি মণ ইলিশের দাম ৩ লাখ টাকারও বেশি হয়ে গেছে। আর ইলিশের দাম এত অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে এবারের বর্ষবরণের ইলিশ।সরে জমিনে দেখা যায়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ১৩ এপ্রিল সোমবার সকাল ও তার আগের দিন রোববার বিকাল থেকে উপজেলার মেঘনা নদীপাড়ের মাছের আড়তগুলোতে ইলিশের দাম অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আড়তদাররা জানায় এর মূল কারণ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত পাইকাররা। তাদের কারনেই ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার ৬০০ টাকায়। সে হিসেবে প্রতি মণ ইলিশের দাম দাঁড়াচ্ছে ৩ লাখ থেকে ৩ লাখ ৪ হাজার টাকায়।অন্যদিকে, ৪শ' থেকে ৬শ' গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২ হাজার ৪শ থেকে ২ হাজার ৬শ টাকায়, যা মণপ্রতি ৯৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৪ হাজার টাকার মতো।স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা হলে তারা জানান, পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাওয়া বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ হওয়ায় উচ্চমূল্য সত্ত্বেও তারা ইলিশ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।অন্যদিক, স্থানীয় মাছের আড়তদার ও খচরা ব্যবসায়ীরা জানান, এ সময় ইলিশের চাহিদা বেড়ে গেলেও সরবরাহ তুলনামূলক অনেক কম। এর অন্যতম কারণ হিসেবে মেঘনা নদীতে দুই মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করছেন তারা। যদিও কিছু জেলে রাতের আঁধারে মাছ ধরছেন এবং কিছু জেলে সাগর থেকেও ইলিশ এনে মতলবের আড়ত ও বাজারে বিক্রি করছেন।আড়তদারদের মতে, মতলবের নদীতীরবর্তী বাজারগুলো থেকে অধিকাংশ বড় ইলিশ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও দাউদকান্দির পাইকাররা বেশি দামে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ আরও কমে যাচ্ছে এবং দাম বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে।আড়তদাররা জানান, নববর্ষের পর ইলিশের দাম আবার স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দরে ৫১ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল পৌঁছেছেমালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন ও ২৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে দুটি ফুয়েল ট্যাংকার বুধবার রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে। এই ট্যাংকারগুলো বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলের মধ্যে পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে নোঙর করবে। সেখানে পুরো জ্বালানি তেল খালাস করা হবে।বন্দর সূত্র জানায়, নতুন এই সরবরাহ দেশের জ্বালানি সঙ্কট প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অকটেন মূলত যানবাহনের জন্য, আর ফার্নেস অয়েল ব্যবহৃত হয় শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে। পূর্ববর্তী কয়েক মাসে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য ওঠানামার কারণে দেশে যোগান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল।ট্যাংকারগুলোর নিরাপদ প্রবেশ ও খালাস নিশ্চিত করতে বন্দরের পক্ষ থেকে সব ধরনের নৌপরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই সরবরাহ সরকারের জ্বালানি মজুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।সরবরাহের পরে জ্বালানি তেল বিতরণ পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন শক্তিশালী কেন্দ্র ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের নিয়মিত আমদানি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত জরুরি।