দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে নিহত ৬ বাংলাদেশির দাফন সম্পন্নদক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের সো'মো এলাকার মা ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় বাংলাদেশি প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।শনিবার (১৫ আগস্ট) বাদ জোহর কুইন্সটাউন জামে মসজিদে দুই দফায় তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কুইন্সটাউনের ইজিবিলিনি মুসলিম কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।এর আগে গত ২৮ জুলাই ভোরে সো'মো শহরের একটি সুপারশপে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। ওই সময় দোকানের ভেতরের আবাসিক কক্ষে সাত বাংলাদেশি ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনে ছয়জন নিহত হন এবং গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।নিহতদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের পাঁচজন এবং মুন্সিগঞ্জের একজন ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের মৃত্যুতে স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়।অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন।
আর্কাইভ
অনলাইন জরিপ
বরিশালে দিনে ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ টেনে নিচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশাবরিশাল: সরকারি হিসাবের বাইরে বরিশাল নগরে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা। এসব যান চার্জ দিতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ ঘাটতির মধ্যে জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, বরিশাল নগরে ইজিবাইকের সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার ৬০০। তবে মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, প্রকৃত সংখ্যা ৩০ হাজারের কম নয়। এর সঙ্গে রয়েছে অন্তত ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা। অর্থাৎ সরকারি অনুমোদনের তুলনায় নগরে ব্যাটারিচালিত যান কয়েক গুণ বেশি চলাচল করছে।বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৩০ হাজার ইজিবাইক ও ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ দিতে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম ১০ টাকা ধরে এর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬২ লাখ টাকা।তবে এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের কতটা বাণিজ্যিক মিটারের মাধ্যমে এবং কতটা আবাসিক মিটার বা অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ব্যবহার হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই। সরকারি অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত যান চলাচল করায় বিদ্যুৎ ব্যবহার ও চার্জিং ব্যবস্থাপনাও কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধভাবে পরিচালিত চার্জিং ব্যবস্থা বন্ধ করা এবং ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। অন্যথায় বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপের পাশাপাশি নগরের যানজট ও সড়ক ব্যবস্থাপনাতেও সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
এফএসআরইউ মেরামত না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং ছাড়া উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রীবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশে চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় আপাতত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা করা ছাড়া সরকারের হাতে আর কোনো বিকল্প নেই।বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, ‘এই সংকটের সময়ে আসলে আমার কিছু করার নেই এখন। এফএসআরইউ ছাড়া গ্যাস নামাতে পারব না। এখন শুধু দিন গোনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’তিনি জানান, এফএসআরইউ মেরামতের কাজ প্রকৌশলীরা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সংকট তৈরি হচ্ছে।ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে লোডশেডিং ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এফএসআরইউ সচল হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি দপ্তরে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশসরকারি দপ্তরগুলোতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আজ মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ।পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার্য বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌর বিদ্যুৎ থেকে সরবরাহ করতে হবে।অর্থাৎ এসব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় প্রচলিত বিদ্যুতের পাশাপাশি সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে।সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা।বিশেষ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো হলে এটি অন্যান্য সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সরকারি অফিসগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পরিপত্রে উল্লেখ করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বড় একটি অংশ সৌরশক্তি থেকে নিশ্চিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে একদিকে সরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবহারের পথ আরও বিস্তৃত হবে।
বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রীবিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র—এমন অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।অতীতে একটি নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নানা ধরনের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে নেওয়া অনেক সিদ্ধান্ত ছিল অপরিকল্পিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়েই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একটি চক্র জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে মানুষের উদ্বেগকে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যা সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হচ্ছে।তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।একই সঙ্গে তিনি জনগণকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচারে কান না দিয়ে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি বিবেচনার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।এদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে এখন নজর সাধারণ মানুষের।
*ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে পুলিশের হামলা: গুলিবিদ্ধ- ৫০, আহত- শতাধিক*ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে ব্যাংক লুটেরা এস আলমের লোকজনকে পূর্ণবাসন ও বোর্ড মিটিং ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে আওয়ামী দোশর খুরশিদ আলমকে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে আজ সোমবার (০১ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ব্যাংকটির হাজার-হাজার গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। গ্রাহকদের এই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে পুলিশ অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে টিয়ারসেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং ব্যপক লাঠিচার্জ করে। এতে শতাধিক গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার আহত হোন এবং প্রায় ৫০ জন গ্রাহক গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।সরেজমিনে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০ টায় ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ জলকামান, এপিসি কার সহ মারমুখী অবস্থান গ্রহণ করে। সকাল ৯-৩০ মিনিটে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ করতে থাকে। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন। এসময় পুলিশের হামলায় ৫০ জন গুলিবিদ্ধ সহ শতাধিক গ্রাহক আহত হয়। পরে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে হাজার হাজার ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা আবারও সংগঠিত হয়ে মতিঝিলের ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান গ্রহণ করে। ফলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ ও সাধারণ গ্রাহকেরা ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করে আছে। ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক জানান, গত ২৪ মে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয়। ঐদিন বাংলাদেশ ব্যাংক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সাথে সাথে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা আওয়ামী দোসর ব্যাংক লুটেরা এস আলমের তল্পিবাহক খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে স্ব পদে বহাল করার আহ্বান জানান। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকদের দাবি উপেক্ষা করে এস আলম গ্রুপের লোকজনকে ইসলামী ব্যাংকে পূর্ণবাসনের দিকে এগিয়ে যায়। এরই প্রতিবাদে আজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে গেলে সরকারের নির্দেশে পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ করতে থাকে। এসময় তিনি আরও জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারের একটি অংশ পতিত আওয়ামী দোসর এস আলম গ্রুপকে ইসলামী ব্যাংকে পূর্ণবাসনের চেষ্টা করে আসছে। এর প্রতিবাদে গত ২৪ মে সারাদেশে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শাখার সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু সরকার ইসলামী ব্যাংকে নগ্ন হস্তক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে। ব্যাংকে কোনো টাকা নেই। গ্রাহকেরা চেক দিয়ে টাকা উত্তোলন করতে পারছে না এমনকি এটিএম বুথেও টাকা পাওয়া যায় না। ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের পক্ষে থেকে তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে ব্যাংক লুটেরা এস আলম গ্রুপের উত্তরসূরিদের অপসারণ করতে হবে এবং খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ বাতিল করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও মালিকদের নিকট ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রদান করতে হবে। বার্তা প্রেরক(মোতাছিম বিল্লাহ) সেক্রেটারি ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ।
দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এবার প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৯৫ টাকা। নতুন এই মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা আসে বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে, যেখানে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক দামের ওঠানামা সরাসরি দেশীয় বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে এবং হঠাৎ সংকট তৈরি না হয়।সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বাজারে তেলের সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজার তদারকি জোরদার করার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী, যাতে নির্ধারিত দামের বেশি দামে বিক্রির কোনো সুযোগ না থাকে।তবে নতুন এই দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যে চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য এই বৃদ্ধি আরও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে রান্নার প্রধান উপকরণ হিসেবে সয়াবিন তেলের বিকল্প সীমিত হওয়ায় অনেক পরিবারকেই বাড়তি খরচ বহন করতে হবে।সরকারি পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম না কমা পর্যন্ত দেশে তেলের দামে স্থিতিশীলতা আসা কঠিন হতে পারে। ফলে আপাতত ভোক্তাদের এই বাড়তি দামের সঙ্গেই খাপ খাইয়ে নিতে হতে পারে।