যুক্তরাষ্ট্রের White House Correspondents' Dinner–এ হামলার ঘটনাকে ঘিরে তদন্তকারীরা দ্রুত অগ্রগতি করছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি কোল টমাস অ্যালেন (৩১), ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা, ঘটনাস্থলেই নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে আটক হন এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে আছেন।জিজ্ঞাসাবাদে অ্যালেন জানিয়েছেন, তিনি পরিকল্পিতভাবে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে তিনি অনুষ্ঠানস্থল হোটেলের লবিতে প্রবেশ করেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি সচেতনভাবেই নিরাপত্তা চৌকি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং মেটাল ডিটেক্টর পাশ কাটানোর চেষ্টা করেন, যা তার পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়।নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, ওই অনুষ্ঠানে বহু উচ্চপর্যায়ের অতিথি, সাংবাদিক ও রাজনীতিক উপস্থিত থাকায় নিরাপত্তা ছিল অত্যন্ত কঠোর। তারপরও কীভাবে তিনি প্রাথমিক নিরাপত্তা স্তর অতিক্রম করতে পারলেন—এটি এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।এদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ওই ঘটনায় লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে কিনা—সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, হামলার পেছনে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য, রাজনৈতিক প্রভাব বা মানসিক অস্থিরতা—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে না।
আর্কাইভ
অনলাইন জরিপ
দেশে কাঁচামরিচের দাম যখন ২৫০–৩০০ টাকায় পৌঁছায়, ঠিক সেই সময় ভারত থেকে আমদানিকৃত মরিচের দাম কাগজে দেখানো হয়েছে মাত্র ২৮ টাকা কেজি—এমন তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে। একইভাবে আপেলের আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৩৩ টাকা কেজি, যা আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম। এই তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সন্দেহ করছে, এখানে “আন্ডার-ইনভয়েসিং” (কম দাম দেখিয়ে আমদানি) করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে বিদেশে অতিরিক্ত অর্থ পাচার হতে পারে। তদন্তে দেখা গেছে, পুরান ঢাকার গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গত তিন বছরে প্রায় ২৩১টি এলসি খুলে প্রায় ১ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি দেখিয়েছে, যার মোট মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো—যে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে এসব পণ্য আমদানি দেখানো হয়েছে, তারা মূলত শাড়ি ও গহনার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, কৃষিপণ্য নয়। এতে পুরো আমদানির সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর (স্ট্যান্ডার্ড, প্রিমিয়ার ও ইসলামী ব্যাংক) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থ পাচারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক দাবি করেছেন, সব আমদানি বৈধভাবে করা হয়েছে এবং কম দামের কারণ হিসেবে তিনি নিম্নমানের পণ্য, পরিবহন খরচ ও নষ্ট হওয়ার বিষয় উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে, ঘটনাটি এখন একটি গুরুতর অর্থনৈতিক অনিয়ম হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বাজারদর, আমদানির ঘোষিত মূল্য এবং সম্ভাব্য অর্থ পাচারের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ জোরদার করতে প্রায় ৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে চীনের পতাকাবাহী জাহাজ ‘শিং তং ৭৯৯’ বন্দরের বহির্নোঙরে এসে নোঙর করে। জাহাজটিতে প্রায় ৩৪ হাজার টনের বেশি জেট ফুয়েল রয়েছে, যা দেশের বিমান চলাচলের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।জাহাজটির গভীরতা বেশি হওয়ায় এটি সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারেনি। ফলে কুতুবদিয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে ছোট জাহাজের (লাইটার) মাধ্যমে ধাপে ধাপে তেল খালাস করা হচ্ছে। আংশিক খালাসের পর জাহাজটি জেটিতে আনা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই পরিমাণ জেট ফুয়েল দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মতো চাহিদা পূরণ সম্ভব। এদিকে একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তাইওয়ান থেকে আরও কয়েকটি বড় জাহাজ ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা মিলছে এবং আপাতত কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে। সার্বিকভাবে, একের পর এক জ্বালানিবাহী জাহাজের আগমন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দেশে জ্বালানি সংকট ও ভোগান্তির মধ্যে আজ (২০ এপ্রিল ২০২৬) থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মূলত চাহিদা বৃদ্ধি, দীর্ঘ লাইন এবং বাজারে অস্থিরতা কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের সব ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্তে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১৩ হাজার ৪৮ টন ডিজেল, ১ হাজার ৫১১ টন পেট্রোল এবং ১ হাজার ৪২২ টন অকটেন বাজারে সরবরাহ করা হবে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি নিতে গিয়ে মানুষের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি। বিশেষ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাম্পে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় চাপ বারছেএর আগে সরকার জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে, যার ফলে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সরবরাহ বাড়ালেই পুরো সমস্যা সমাধান হবে না—সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, মজুদদারি ও কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।সব মিলিয়ে, আজ থেকে বাড়তি সরবরাহ চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে, তবে বাস্তবে এর প্রভাব কতটা দ্রুত পড়বে, সেটাই এখন দেশে জ্বালানি সংকট ও ভোগান্তির মধ্যে আজ (২০ এপ্রিল ২০২৬) থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মূলত চাহিদা বৃদ্ধি, দীর্ঘ লাইন এবং বাজারে অস্থিরতা কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের সব ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্তে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১৩ হাজার ৪৮ টন ডিজেল, ১ হাজার ৫১১ টন পেট্রোল এবং ১ হাজার ৪২২ টন অকটেন বাজারে সরবরাহ করা হবে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশিএই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি নিতে গিয়ে মানুষের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি। বিশেষ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাম্পে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় চাপ বাড়ে। এর আগে সরকার জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে, যার ফলে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সরবরাহ বাড়ালেই পুরো সমস্যা সমাধান হবে না—সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, মজুদদারি ও কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সব মিলিয়ে, আজ থেকে বাড়তি সরবরাহ চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে, তবে বাস্তবে এর প্রভাব কতটা দ্রুত পড়বে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।দেখার বিষয়।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে—এই সিদ্ধান্তটি ইচ্ছাকৃত নয়, বরং পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়েই নেওয়া হয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকারকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ের ওপর। আগে সরকার ভর্তুকি দিয়ে মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করলেও, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ভর্তুকি দেওয়া অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। ফলে টেকসই সমাধানের জন্যই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক চাপ সৃষ্টি করলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সরকার বিকল্প জ্বালানি উৎস, বিদ্যুৎ উৎপাদনে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অপচয় রোধে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।তবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনে পড়তে শুরু করেছে। পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।এ অবস্থায় সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে মূল্য পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। তবে আপাতত আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তই সবচেয়ে যৌক্তিক বলে মনে করছে সরকার।
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দেশের জ্বালানি দামের যে পার্থক্য তৈরি হয়েছিল, তা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সরকারের সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয়কে তারা বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।সমিতির নেতারা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ওঠানামা করলেও দেশে তা অনেক সময় সমন্বয় করা হতো না, ফলে আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের মিল থাকত না। এতে পেট্রোল পাম্প মালিকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাতের অন্যান্য অংশীদাররাও আর্থিক চাপে পড়তেন। নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে সেই চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে তারা আশা করছেন।তাদের মতে, জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করা প্রয়োজন। এতে করে সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক থাকবে এবং হঠাৎ করে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে। বিশেষ করে, পাম্প পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি বা অনিশ্চয়তা তৈরি না হওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ—এ দিক থেকেও এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।তবে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি স্বীকার করেছে, এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা কষ্টের কারণ হতে পারে। পরিবহন ব্যয় বাড়ার মাধ্যমে এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপরও পড়তে পারে। তারপরও তারা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল।এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এই বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে সরকার যদি পরিবহন খাত ও নিত্যপণ্যের বাজার তদারকি জোরদার করে, তাহলে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও বিকল্প জ্বালানির দিকে ধীরে ধীরে ঝুঁকতেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।সব মিলিয়ে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে পেট্রোল পাম্প মালিকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, এর প্রভাব যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে, সেদিকেও সমানভাবে নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে সরকার এখন তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের মজুদ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তাঁর ভাষায়, এই মজুদ দিয়ে দেশের স্বাভাবিক চাহিদা নিরবচ্ছিন্নভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি ওঠানামা করলেও বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত। সরকার সময়মতো আমদানি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করার কারণে জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি অনেকটা কমে এসেছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিবেচনায় অন্তত প্রায় দুই মাসের জ্বালানি মজুদ রয়েছে, যা একটি নিরাপদ অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু আমদানি নির্ভরতা নয়, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতেও সরকার কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অপচয় কমানো, সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বিকল্প জ্বালানি উৎস নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতি ও শিল্প উৎপাদনের জন্য ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাতে জ্বালানির ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।সবশেষে তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এই খাতে আরও বিনিয়োগ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।