লাল ফিতা কেটে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন বিএনপি নেতার, ফেসবুকে সমালোচনাবরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থায়নে নির্মিত বাঁশ ও সুপারি গাছের সাঁকো লাল ফিতা কেটে উদ্বোধন করেছেন পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খান।বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দা, বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সাঁকোর ওপর দাঁড়িয়ে স্থানীয় এক বাউলশিল্পী তাৎক্ষণিকভাবে গান পরিবেশন করেন।উদ্বোধনের সময় শহিদুল ইসলাম খানকে কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে লাল ফিতা কাটতে দেখা যায়। পরে অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।অনেকে সাঁকো উদ্বোধনের ঘটনাকে ব্যঙ্গ করে নানা মন্তব্য করেন। কেউ কেউ এটিকে ‘বিনোদনের’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এসব মন্তব্য ব্যক্তিগত মতামত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।শহিদুল ইসলাম খান বলেন, স্থানীয়দের অর্থায়নে নির্মিত সাঁকোটি মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য করা হয়েছে। এটি উদ্বোধন করতে পেরে তিনি আনন্দিত।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাঁকোটি তাঁদের চলাচলে সুবিধা দেবে। তবে সাঁকো উদ্বোধনের ধরন ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাই এখন বেশি আলোচনায়।
আর্কাইভ
অনলাইন জরিপ
বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রীবিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র—এমন অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।অতীতে একটি নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নানা ধরনের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে নেওয়া অনেক সিদ্ধান্ত ছিল অপরিকল্পিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়েই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একটি চক্র জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে মানুষের উদ্বেগকে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যা সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হচ্ছে।তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।একই সঙ্গে তিনি জনগণকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচারে কান না দিয়ে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি বিবেচনার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।এদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকে এখন নজর সাধারণ মানুষের।
*ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে পুলিশের হামলা: গুলিবিদ্ধ- ৫০, আহত- শতাধিক*ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে ব্যাংক লুটেরা এস আলমের লোকজনকে পূর্ণবাসন ও বোর্ড মিটিং ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে আওয়ামী দোশর খুরশিদ আলমকে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে আজ সোমবার (০১ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ব্যাংকটির হাজার-হাজার গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। গ্রাহকদের এই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে পুলিশ অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে টিয়ারসেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং ব্যপক লাঠিচার্জ করে। এতে শতাধিক গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার আহত হোন এবং প্রায় ৫০ জন গ্রাহক গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।সরেজমিনে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০ টায় ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ জলকামান, এপিসি কার সহ মারমুখী অবস্থান গ্রহণ করে। সকাল ৯-৩০ মিনিটে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ করতে থাকে। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন। এসময় পুলিশের হামলায় ৫০ জন গুলিবিদ্ধ সহ শতাধিক গ্রাহক আহত হয়। পরে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে হাজার হাজার ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা আবারও সংগঠিত হয়ে মতিঝিলের ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান গ্রহণ করে। ফলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ ও সাধারণ গ্রাহকেরা ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করে আছে। ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক জানান, গত ২৪ মে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয়। ঐদিন বাংলাদেশ ব্যাংক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সাথে সাথে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা আওয়ামী দোসর ব্যাংক লুটেরা এস আলমের তল্পিবাহক খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে স্ব পদে বহাল করার আহ্বান জানান। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকদের দাবি উপেক্ষা করে এস আলম গ্রুপের লোকজনকে ইসলামী ব্যাংকে পূর্ণবাসনের দিকে এগিয়ে যায়। এরই প্রতিবাদে আজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে গেলে সরকারের নির্দেশে পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ করতে থাকে। এসময় তিনি আরও জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারের একটি অংশ পতিত আওয়ামী দোসর এস আলম গ্রুপকে ইসলামী ব্যাংকে পূর্ণবাসনের চেষ্টা করে আসছে। এর প্রতিবাদে গত ২৪ মে সারাদেশে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শাখার সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু সরকার ইসলামী ব্যাংকে নগ্ন হস্তক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে। ব্যাংকে কোনো টাকা নেই। গ্রাহকেরা চেক দিয়ে টাকা উত্তোলন করতে পারছে না এমনকি এটিএম বুথেও টাকা পাওয়া যায় না। ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের পক্ষে থেকে তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে ব্যাংক লুটেরা এস আলম গ্রুপের উত্তরসূরিদের অপসারণ করতে হবে এবং খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ বাতিল করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও মালিকদের নিকট ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রদান করতে হবে। বার্তা প্রেরক(মোতাছিম বিল্লাহ) সেক্রেটারি ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ।
দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এবার প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৯৫ টাকা। নতুন এই মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা আসে বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে, যেখানে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক দামের ওঠানামা সরাসরি দেশীয় বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে এবং হঠাৎ সংকট তৈরি না হয়।সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বাজারে তেলের সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজার তদারকি জোরদার করার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী, যাতে নির্ধারিত দামের বেশি দামে বিক্রির কোনো সুযোগ না থাকে।তবে নতুন এই দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যে চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য এই বৃদ্ধি আরও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে রান্নার প্রধান উপকরণ হিসেবে সয়াবিন তেলের বিকল্প সীমিত হওয়ায় অনেক পরিবারকেই বাড়তি খরচ বহন করতে হবে।সরকারি পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম না কমা পর্যন্ত দেশে তেলের দামে স্থিতিশীলতা আসা কঠিন হতে পারে। ফলে আপাতত ভোক্তাদের এই বাড়তি দামের সঙ্গেই খাপ খাইয়ে নিতে হতে পারে।
রূপপুরে ঐতিহাসিক মুহূর্ত, আজ শুরু হচ্ছে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংএক দশকের দীর্ঘ প্রস্তুতি, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জটিল প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের পর অবশেষে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে আজ বিকালে শুরু হচ্ছে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম—যা দেশের জ্বালানি খাতে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।গত ১৬ এপ্রিল পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশ বা কমিশনিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পাওয়া যায়। এরপর থেকে সব ধরনের কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। অবশেষে আজ সেই প্রতীক্ষিত কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যার মাধ্যমে কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।এদিকে এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উপস্থিতিও থাকছে। কেন্দ্রটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোসাটম-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সকালে রাশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছাবেন। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, তিনি ঢাকায় এসে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।এরপর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হেলিকপ্টারে রূপপুর প্ল্যান্টে গিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে বিকালেই শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত ইউরেনিয়াম লোডিং, যা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
দেশে কাঁচামরিচের দাম যখন ২৫০–৩০০ টাকায় পৌঁছায়, ঠিক সেই সময় ভারত থেকে আমদানিকৃত মরিচের দাম কাগজে দেখানো হয়েছে মাত্র ২৮ টাকা কেজি—এমন তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে। একইভাবে আপেলের আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৩৩ টাকা কেজি, যা আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম। এই তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সন্দেহ করছে, এখানে “আন্ডার-ইনভয়েসিং” (কম দাম দেখিয়ে আমদানি) করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে বিদেশে অতিরিক্ত অর্থ পাচার হতে পারে। তদন্তে দেখা গেছে, পুরান ঢাকার গোলাপ শাহ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গত তিন বছরে প্রায় ২৩১টি এলসি খুলে প্রায় ১ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি দেখিয়েছে, যার মোট মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো—যে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে এসব পণ্য আমদানি দেখানো হয়েছে, তারা মূলত শাড়ি ও গহনার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, কৃষিপণ্য নয়। এতে পুরো আমদানির সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর (স্ট্যান্ডার্ড, প্রিমিয়ার ও ইসলামী ব্যাংক) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থ পাচারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক দাবি করেছেন, সব আমদানি বৈধভাবে করা হয়েছে এবং কম দামের কারণ হিসেবে তিনি নিম্নমানের পণ্য, পরিবহন খরচ ও নষ্ট হওয়ার বিষয় উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে, ঘটনাটি এখন একটি গুরুতর অর্থনৈতিক অনিয়ম হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বাজারদর, আমদানির ঘোষিত মূল্য এবং সম্ভাব্য অর্থ পাচারের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ জোরদার করতে প্রায় ৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে চীনের পতাকাবাহী জাহাজ ‘শিং তং ৭৯৯’ বন্দরের বহির্নোঙরে এসে নোঙর করে। জাহাজটিতে প্রায় ৩৪ হাজার টনের বেশি জেট ফুয়েল রয়েছে, যা দেশের বিমান চলাচলের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।জাহাজটির গভীরতা বেশি হওয়ায় এটি সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারেনি। ফলে কুতুবদিয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে ছোট জাহাজের (লাইটার) মাধ্যমে ধাপে ধাপে তেল খালাস করা হচ্ছে। আংশিক খালাসের পর জাহাজটি জেটিতে আনা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই পরিমাণ জেট ফুয়েল দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মতো চাহিদা পূরণ সম্ভব। এদিকে একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তাইওয়ান থেকে আরও কয়েকটি বড় জাহাজ ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা মিলছে এবং আপাতত কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে। সার্বিকভাবে, একের পর এক জ্বালানিবাহী জাহাজের আগমন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।