মেলায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল দুই ভাই—কিন্তু সেই বের হওয়াই হয়ে গেল তাদের জীবনের শেষ যাত্রা। ঘুরতে গিয়ে লেকে নামার পর হঠাৎ পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় তাদের। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই ভাই বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে তারা কাছের একটি লেকে ঘুরতে গিয়ে পানিতে নামে। সাঁতার না জানায় কিংবা অসাবধানতাবশত তারা পানিতে তলিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে, তবে ততক্ষণে সব শেষ।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিশেষ করে মা-বাবার কান্না উপস্থিত সবার হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়।এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবারই মনে করিয়ে দেয়—অপরিচিত বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পানিতে নামার আগে সতর্কতা কতটা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।
আর্কাইভ
অনলাইন জরিপ
দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে সরকার এখন তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের মজুদ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তাঁর ভাষায়, এই মজুদ দিয়ে দেশের স্বাভাবিক চাহিদা নিরবচ্ছিন্নভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি ওঠানামা করলেও বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত। সরকার সময়মতো আমদানি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করার কারণে জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি অনেকটা কমে এসেছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিবেচনায় অন্তত প্রায় দুই মাসের জ্বালানি মজুদ রয়েছে, যা একটি নিরাপদ অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু আমদানি নির্ভরতা নয়, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতেও সরকার কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অপচয় কমানো, সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বিকল্প জ্বালানি উৎস নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতি ও শিল্প উৎপাদনের জন্য ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাতে জ্বালানির ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।সবশেষে তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এই খাতে আরও বিনিয়োগ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
পহেলা বৈশাখকে ঘিরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ইলিশের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ কম থাকায় প্রতি মণ ইলিশের দাম ৩ লাখ টাকারও বেশি হয়ে গেছে। আর ইলিশের দাম এত অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে এবারের বর্ষবরণের ইলিশ।সরে জমিনে দেখা যায়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ১৩ এপ্রিল সোমবার সকাল ও তার আগের দিন রোববার বিকাল থেকে উপজেলার মেঘনা নদীপাড়ের মাছের আড়তগুলোতে ইলিশের দাম অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আড়তদাররা জানায় এর মূল কারণ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত পাইকাররা। তাদের কারনেই ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার ৬০০ টাকায়। সে হিসেবে প্রতি মণ ইলিশের দাম দাঁড়াচ্ছে ৩ লাখ থেকে ৩ লাখ ৪ হাজার টাকায়।অন্যদিকে, ৪শ' থেকে ৬শ' গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২ হাজার ৪শ থেকে ২ হাজার ৬শ টাকায়, যা মণপ্রতি ৯৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৪ হাজার টাকার মতো।স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা হলে তারা জানান, পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাওয়া বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ হওয়ায় উচ্চমূল্য সত্ত্বেও তারা ইলিশ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।অন্যদিক, স্থানীয় মাছের আড়তদার ও খচরা ব্যবসায়ীরা জানান, এ সময় ইলিশের চাহিদা বেড়ে গেলেও সরবরাহ তুলনামূলক অনেক কম। এর অন্যতম কারণ হিসেবে মেঘনা নদীতে দুই মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করছেন তারা। যদিও কিছু জেলে রাতের আঁধারে মাছ ধরছেন এবং কিছু জেলে সাগর থেকেও ইলিশ এনে মতলবের আড়ত ও বাজারে বিক্রি করছেন।আড়তদারদের মতে, মতলবের নদীতীরবর্তী বাজারগুলো থেকে অধিকাংশ বড় ইলিশ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও দাউদকান্দির পাইকাররা বেশি দামে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ আরও কমে যাচ্ছে এবং দাম বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে।আড়তদাররা জানান, নববর্ষের পর ইলিশের দাম আবার স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দরে ৫১ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল পৌঁছেছেমালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন ও ২৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে দুটি ফুয়েল ট্যাংকার বুধবার রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে। এই ট্যাংকারগুলো বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলের মধ্যে পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে নোঙর করবে। সেখানে পুরো জ্বালানি তেল খালাস করা হবে।বন্দর সূত্র জানায়, নতুন এই সরবরাহ দেশের জ্বালানি সঙ্কট প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অকটেন মূলত যানবাহনের জন্য, আর ফার্নেস অয়েল ব্যবহৃত হয় শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে। পূর্ববর্তী কয়েক মাসে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য ওঠানামার কারণে দেশে যোগান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল।ট্যাংকারগুলোর নিরাপদ প্রবেশ ও খালাস নিশ্চিত করতে বন্দরের পক্ষ থেকে সব ধরনের নৌপরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই সরবরাহ সরকারের জ্বালানি মজুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।সরবরাহের পরে জ্বালানি তেল বিতরণ পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন শক্তিশালী কেন্দ্র ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের নিয়মিত আমদানি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত জরুরি।
মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি ফুয়েল ট্যাংকার Shan Gang Fa Jian এসে পৌঁছেছে চট্টগ্রাম বন্দর–এর বহির্নোঙরে। শুক্রবার রাতে জাহাজটি বঙ্গোপসাগর–এর কুতুবদিয়া উপকূল এলাকায় নোঙর করে। ⛴️স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনস–এর ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর এটি ডিজেল নিয়ে আসা দশম জাহাজ।কী পরিমাণ জ্বালানি আছেজাহাজটিতে রয়েছে ৩৪ হাজার টনের কিছু বেশি ডিজেলএর মধ্যে ৫–৬ হাজার টন ডিজেল বহির্নোঙরে ছোট জাহাজে খালাস (লাইটারিং) করা হবেঅন্তত দুই ট্রিপে এই লাইটারিং সম্পন্ন করা সম্ভবলাইটারিং শেষ হলে রবিবার জাহাজটি পতেঙ্গা ডলফিন জেটি–তে ভিড়বে। সেখানে বাকি ডিজেল খালাস শেষে ট্যাংকারটি ফিরে যাবে। ????এর আগে শুক্রবারই আরও ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেলবাহী একটি জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছিল, ফলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানির এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ⚡মালয়েশিয়া থেকে নতুন চালানমোট ~৩৪ হাজার টন ডিজেলআংশিক লাইটারিং বহির্নোঙরেরবিবার জেটিতে পূর্ণ খালাস
সিঙ্গাপুর থেকে ডিজেলভর্তি জাহাজ পৌঁছেছে চট্টগ্রাম বন্দরে ⛽????দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে সিঙ্গাপুর থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।জানা গেছে, চীনা পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ MT Yuan Jing He প্রায় ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে Chittagong Port-এর ডলফিন জেটিতে নোঙর করে। জ্বালানি তেল দ্রুত খালাসের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।সরকারি সূত্র বলছে, বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বিকল্প উৎস—বিশেষ করে Singapore—থেকে তেল আমদানি বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, জাহাজ থেকে ডিজেল খালাসের পর তা দ্রুত দেশের বিভিন্ন ডিপোতে পাঠানো হবে। এতে পরিবহন, কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে জ্বালানি সংকট কমবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিতভাবে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানো গেলে হঠাৎ সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি কমবে এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। ⚖️????
দেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে একদিকে মাঠপর্যায়ে ভোগান্তি, অন্যদিকে সরকারের আশ্বাস—এই দুই বিপরীত চিত্র এখন স্পষ্ট। সংক্ষেপে বিষয়টি এমন: ⛽????????সংকটের বাস্তব চিত্রতেলচালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরা তীব্র সমস্যায় পড়েছেন।অনেক পেট্রোল পাম্প দিন-রাতের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে।তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না।ঢাকা ও আশপাশে যানবাহন চলাচল কমে গেছে, ভোগান্তি বেড়েছে। ????সরকারের দাবিদেশে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টন জ্বালানি তেলের মজুত আছে।আরও প্রায় দেড় লাখ টন আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে।গত বছরের তুলনায় ২৫% বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে বলে দাবি।সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে ব্যবধানবাস্তবে পাম্পে তেল না পাওয়া ও যান চলাচল কমে যাওয়া সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবে সরকার বলছে—এটি সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সাময়িক সমস্যা, মজুতের ঘাটতি নয়। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে তেল থাকলেও তা সময়মতো মাঠে পৌঁছাচ্ছে না—এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে। ⚖️