লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ১২৫ শতকের একটি পুকুরে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে গিয়াসউদ্দিন মাস্টার ও তার তিন ছেলেসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলেও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ফয়সাল। একই সঙ্গে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মেসেঞ্জারে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি তার।ঘটনাটি ঘটেছে রামগতি উপজেলার ৩ নম্বর চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের আজাদনগর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায়। তবে মামলার বাদী মোহাম্মদ ফয়সালের বাড়ি ৪ নম্বর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুজন গ্রামে।মামলার অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মাছ চাষের উদ্দেশ্যে তারা ওই ১২৫ শতকের পুকুরে মাছ ছাড়েন। মাছ ছাড়ার পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফয়সালের বাবা ও ছোট ভাই পুকুরে মাছকে খাবার দিতে গেলে গিয়াসউদ্দিন মাস্টার, তার তিন ছেলে হৃদয়, জীবন ও অন্তরসহ ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি দা, ছেনি, রড ও কাঠের বাগা নিয়ে সেখানে গিয়ে হামলা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।ফয়সালের অভিযোগ, এ সময় তার ছোট ভাইয়ের মাথায় কোপ দেওয়া হয় এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একই সময় তার বাবাকেও মারধর করা হয়। এতে তার বাবার চোখ ও পিঠে গুরুতর জখম হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।ঘটনার পর তারা থানার দ্বারস্থ হন। তবে স্থানীয় বিএনপির নেতারা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় তখন মামলা করা থেকে বিরত থাকেন বলে জানান ফয়সাল। তার দাবি, দুই দিনের মধ্যে পুকুরটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও দুই দিন পেরিয়ে নয় দিন অতিবাহিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি।পরে নিরুপায় হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন তারা।আদালতে দায়ের করা মামলার কপি অনুযায়ী, গিয়াসউদ্দিন মাস্টারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯ ও ৫০৬(২) ধারার উল্লেখ রয়েছে।মামলার নথি অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ এবং সাত দিনের মধ্যে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেন।তবে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ফয়সালের অভিযোগ, আদালতের এই নির্দেশের পরও মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।শুধু তাই নয়, মামলার পর থেকে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে দাবি ফয়সালের। তার অভিযোগ, আসামিরা তাকে এবং তার আত্মীয়স্বজনকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তার।এতে তিনি, তার বাবা, ছোট ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ফয়সাল।ফয়সাল বলেন, “আদালতের নির্দেশের পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের আবারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে আমি ও আমার পরিবারের সবাই আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমরা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা চাই।”
আর্কাইভ
অনলাইন জরিপ
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মতলব বাজার বণিক ও জনকল্যাণ সমিতির আসন্ন নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে প্রচার সম্পাদক পদের প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট সাংবাদিক রেদওয়ান আহমেদ জাকির আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১২টায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয় (উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়) থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে তিনি এ মনোনয়ন ফরম জমা প্রদান সম্পাদন করেন। নির্বাচন কমিশনার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আ. ক. ম. মুহসীনের কাছ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ফরম জমা করেন।গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয় (উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়) থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে তিনি এ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। মনোনয়নপত্র গ্রহণের সময় মতলব বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাজী ওসমান গনি, মো. সোলায়মান প্রধান, চন্দন সাহা,দ খোরশেদ আলম, মোঃ হাসনাত, প্রণয় সাহা, বিষু সূত্রধর, নাজির হোসেন, মো. সুজন, সঞ্জয় ঘোষ ও আপেল মাহমুদসহ বাজারের প্রবীণ ও নবীন ব্যবসায়ীবৃন্দ। উপস্থিত সকল ব্যবসায়ী তাঁর প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেন। প্রচার সম্পাদক পদপ্রার্থী সাংবাদিক রেদওয়ান আহমেদ জাকির ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মতলব বাজারের সম্মানিত ব্যবসায়ী ভাইদের দীর্ঘদিনের দাবি, ভালোবাসা ও উৎসাহের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি প্রচার সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ পরিবেশন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমি আপনাদের সুখ-দুঃখের সাথী হওয়ার চেষ্টা করেছি।তিনি আরো বলেন, নির্বাচিত হলে মতলব বাজারের সার্বিক উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে সমিতির বার্তা সবার কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেয়া এবং ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যকার সেতুবন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করবো। আমি মতলব বাজারের সকল ব্যবসায়ী ভাইদের কাছে আন্তরিক দোয়া, ভালোবাসা ও পূর্ণ সমর্থন কামনা করছি। " সাংবাদিক রেদওয়ান আহমেদ জাকির দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক ও ব্যবসায়ীদের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। প্রচার সম্পাদক পদে তাঁর এই অংশগ্রহণ সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, মতলব বাজার বণিক ও জনকল্যাণ সমিতির এই নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের অধিকার সুরক্ষা এবং বাজারের সামগ্রিক উন্নয়নে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে আগামী ১০ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গ্যাস সংকটে কারখানায় ছুটি, বন্ধ উৎপাদন।তীব্র গ্যাস সংকটে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ না থাকায় কোথাও শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম। এতে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।নরসিংদীর পাঁচদোনা ইউনিয়নের তালহা টেক্স প্রো. লিমিটেডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় গত বুধবার থেকে শ্রমিকদের ছুটি ঘোষণা করা হয়। প্রথমে দুই দিনের ছুটি দেওয়া হলেও গ্যাসের চাপ না থাকায় তা বাড়িয়ে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত করা হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, এর আগেও গ্যাস সংকটের কারণে কয়েক দফায় তাদের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।এদিকে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে একসঙ্গে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানাগুলোর উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়।শিল্পকারখানার মালিকদের পাশাপাশি শ্রমিকরাও দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ থাকলে শিল্প খাতের পাশাপাশি শ্রমিকদের আয়-রোজগারেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে কতদিন কারখানাগুলো এ পরিস্থিতির মধ্যে থাকবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যথাসময়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আরও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বন্ধ ও শ্রমিকদের ছুটির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারের সংকট নেই, সবজির দামও বেশি নয়: কৃষিমন্ত্রীদেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং বাজারে সবজির দামও বেশি নয় বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার সারের মজুতও বেশি। তার দাবি, সারের সংকটের যে কথা বলা হচ্ছে, সেটি পরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি করা হচ্ছে।তিনি জানান, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রতি মাসে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।পেঁয়াজের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আগে সংরক্ষণের অভাবে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেলেও বর্তমানে প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশে প্রায় ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরি হবে বলেও জানান তিনি।এদিকে, গত ছয় মাসে ২৫ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২৪ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।
বরিশালে দিনে ৬২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ টেনে নিচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশাবরিশাল: সরকারি হিসাবের বাইরে বরিশাল নগরে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা। এসব যান চার্জ দিতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ ঘাটতির মধ্যে জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, বরিশাল নগরে ইজিবাইকের সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার ৬০০। তবে মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, প্রকৃত সংখ্যা ৩০ হাজারের কম নয়। এর সঙ্গে রয়েছে অন্তত ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা। অর্থাৎ সরকারি অনুমোদনের তুলনায় নগরে ব্যাটারিচালিত যান কয়েক গুণ বেশি চলাচল করছে।বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৩০ হাজার ইজিবাইক ও ৪০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ দিতে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম ১০ টাকা ধরে এর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬২ লাখ টাকা।তবে এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের কতটা বাণিজ্যিক মিটারের মাধ্যমে এবং কতটা আবাসিক মিটার বা অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ব্যবহার হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই। সরকারি অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত যান চলাচল করায় বিদ্যুৎ ব্যবহার ও চার্জিং ব্যবস্থাপনাও কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধভাবে পরিচালিত চার্জিং ব্যবস্থা বন্ধ করা এবং ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। অন্যথায় বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপের পাশাপাশি নগরের যানজট ও সড়ক ব্যবস্থাপনাতেও সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
এফএসআরইউ মেরামত না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং ছাড়া উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রীবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশে চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় আপাতত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা করা ছাড়া সরকারের হাতে আর কোনো বিকল্প নেই।বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, ‘এই সংকটের সময়ে আসলে আমার কিছু করার নেই এখন। এফএসআরইউ ছাড়া গ্যাস নামাতে পারব না। এখন শুধু দিন গোনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’তিনি জানান, এফএসআরইউ মেরামতের কাজ প্রকৌশলীরা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সংকট তৈরি হচ্ছে।ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে লোডশেডিং ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এফএসআরইউ সচল হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়বে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি দপ্তরে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশসরকারি দপ্তরগুলোতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আজ মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ।পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার্য বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌর বিদ্যুৎ থেকে সরবরাহ করতে হবে।অর্থাৎ এসব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় প্রচলিত বিদ্যুতের পাশাপাশি সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে।সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা।বিশেষ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো হলে এটি অন্যান্য সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সরকারি অফিসগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পরিপত্রে উল্লেখ করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বড় একটি অংশ সৌরশক্তি থেকে নিশ্চিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে একদিকে সরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবহারের পথ আরও বিস্তৃত হবে।