*কুড়িগ্রামে অসহনীয় লোডশেডিং: স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা
**হাসান মাহমুদ জয় স্টাফ রিপোর্টার , কুড়িগ্রাম | ২৭ জুন, ২০২৬**
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাসহ নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার খেলায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সামনে থাকা পরীক্ষাগুলোকে কেন্দ্র করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
পরীক্ষার্থী ফিরোজের আর্তনাদ -
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী মোঃ ফিরোজ রহমান তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সামনেই চূড়ান্ত পরীক্ষা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কোনোভাবেই পড়াশোনায় মনোযোগ বসাতে পারছি না। দিন ও রাত মিলিয়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। পড়ালেখার এমন ব্যাপক ক্ষতি হলে আমাদের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। আমাদের স্বপ্নগুলো কি তবে ধুলোয় মিশে যাবে? এই দায়ভার কে নেবে?”
ফিরোজ আরও বলেন, “রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা সবক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা শুনি, তাহলে বিদ্যুৎ খাতে কেন এমন ঘাটতি থাকবে? আমরা সরকারের কাছে সবিনয় অনুরোধ জানাই, বিশেষ করে রাতে যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়। পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।”
জনসাধারণের ভোগান্তি -
শুধু পরীক্ষার্থীরাই নয়, বিদ্যুৎহীনতায় দিশেহারা সাধারণ মানুষও। নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারীর শিক্ষার্থীরা জানায়, অন্ধকারে পড়াশোনার জন্য মোমবাতি বা মোবাইল ফোনের টর্চ লাইট ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা চোখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অন্যদিকে, গৃহিণীরা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সময়মতো রান্না করতে পারছেন না। তীব্র গরমে ছোট শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং রাতের বেলা মশার উপদ্রব ও ভ্যাপসা গরমে তাদের ঘুম ব্যাহত হচ্ছে।
প্রশাসনের প্রতি জরুরি আবেদন -
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় কুড়িগ্রাম সদরসহ সীমান্তবর্তী জনপদগুলো আজ লোডশেডিংয়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুতের দাবিতে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠছে। সচেতন মহল ও শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
অসহনীয় এই লোডশেডিংয়ের কবল থেকে মুক্তি ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
*কুড়িগ্রামে অসহনীয় লোডশেডিং: স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা
**হাসান মাহমুদ জয় স্টাফ রিপোর্টার , কুড়িগ্রাম | ২৭ জুন, ২০২৬**
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাসহ নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার খেলায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সামনে থাকা পরীক্ষাগুলোকে কেন্দ্র করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
পরীক্ষার্থী ফিরোজের আর্তনাদ -
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী মোঃ ফিরোজ রহমান তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সামনেই চূড়ান্ত পরীক্ষা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কোনোভাবেই পড়াশোনায় মনোযোগ বসাতে পারছি না। দিন ও রাত মিলিয়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। পড়ালেখার এমন ব্যাপক ক্ষতি হলে আমাদের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। আমাদের স্বপ্নগুলো কি তবে ধুলোয় মিশে যাবে? এই দায়ভার কে নেবে?”
ফিরোজ আরও বলেন, “রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা সবক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা শুনি, তাহলে বিদ্যুৎ খাতে কেন এমন ঘাটতি থাকবে? আমরা সরকারের কাছে সবিনয় অনুরোধ জানাই, বিশেষ করে রাতে যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়। পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।”
জনসাধারণের ভোগান্তি -
শুধু পরীক্ষার্থীরাই নয়, বিদ্যুৎহীনতায় দিশেহারা সাধারণ মানুষও। নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারীর শিক্ষার্থীরা জানায়, অন্ধকারে পড়াশোনার জন্য মোমবাতি বা মোবাইল ফোনের টর্চ লাইট ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা চোখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অন্যদিকে, গৃহিণীরা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সময়মতো রান্না করতে পারছেন না। তীব্র গরমে ছোট শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং রাতের বেলা মশার উপদ্রব ও ভ্যাপসা গরমে তাদের ঘুম ব্যাহত হচ্ছে।
প্রশাসনের প্রতি জরুরি আবেদন -
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় কুড়িগ্রাম সদরসহ সীমান্তবর্তী জনপদগুলো আজ লোডশেডিংয়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুতের দাবিতে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠছে। সচেতন মহল ও শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
অসহনীয় এই লোডশেডিংয়ের কবল থেকে মুক্তি ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ

আপনার মতামত লিখুন