মোঃ হাসান মাহমুদ জয় স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তিনজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব প্রদানের আদেশ জারি করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তবে আদেশের দ্বিতীয় কার্যদিবস পার হলেও কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বকুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান, বড় খাটামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুস সালাম এবং পশ্চিম বাগভান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ময়েন উদ্দিনকে উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগামী ১৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সাময়িকভাবে পাঠদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ১৪ মে তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা ছিল, তবে ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) কেউ যোগদান করেননি এবং দ্বিতীয় কার্যদিবস ১৬ মে (শনিবার)ও কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিনা আফরোজ।
তিনি বলেন, “তিনজন শিক্ষক দেওয়ার আদেশ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আজ দ্বিতীয় দিনের মতোও কেউ বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি।”
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, পদায়ন হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে একজনের অসুস্থতাকে সামনে এনে আদেশ কার্যকর ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে তদবির চলছে।
অফিস আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অসুস্থতার অজুহাতে তদবির চললেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অফিস সূত্রে জানা যায়।
এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আখতারুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের কল রিসিভ করছেন না। ফলে শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের পাঠদান স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো অপেক্ষার প্রহর গুনছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। নদীবেষ্টিত এ দুর্গম এলাকা যেন বাংলাদেশের একটি বিচ্ছিন্ন বাঁকা ভূখণ্ড। একদিকে নদী, অন্যদিকে ভারতীয় সীমান্ত। শহরে যাতায়াতের সহজ ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা।
এদিকে একজন নারী শিক্ষক হয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম একাই সামাল দিয়ে আসছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিনা আফরোজ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, “আমি রৌমারী পরিদর্শনে রয়েছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রংপুর বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা উপ-পরিচালক মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, “জেলা শিক্ষা অফিসার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
মোঃ হাসান মাহমুদ জয় স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তিনজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব প্রদানের আদেশ জারি করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তবে আদেশের দ্বিতীয় কার্যদিবস পার হলেও কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বকুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান, বড় খাটামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুস সালাম এবং পশ্চিম বাগভান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ময়েন উদ্দিনকে উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগামী ১৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সাময়িকভাবে পাঠদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ১৪ মে তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা ছিল, তবে ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) কেউ যোগদান করেননি এবং দ্বিতীয় কার্যদিবস ১৬ মে (শনিবার)ও কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিনা আফরোজ।
তিনি বলেন, “তিনজন শিক্ষক দেওয়ার আদেশ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আজ দ্বিতীয় দিনের মতোও কেউ বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি।”
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, পদায়ন হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে একজনের অসুস্থতাকে সামনে এনে আদেশ কার্যকর ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে তদবির চলছে।
অফিস আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অসুস্থতার অজুহাতে তদবির চললেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অফিস সূত্রে জানা যায়।
এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আখতারুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের কল রিসিভ করছেন না। ফলে শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের পাঠদান স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো অপেক্ষার প্রহর গুনছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। নদীবেষ্টিত এ দুর্গম এলাকা যেন বাংলাদেশের একটি বিচ্ছিন্ন বাঁকা ভূখণ্ড। একদিকে নদী, অন্যদিকে ভারতীয় সীমান্ত। শহরে যাতায়াতের সহজ ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা।
এদিকে একজন নারী শিক্ষক হয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম একাই সামাল দিয়ে আসছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিনা আফরোজ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, “আমি রৌমারী পরিদর্শনে রয়েছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রংপুর বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা উপ-পরিচালক মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, “জেলা শিক্ষা অফিসার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন