শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শাহজালাল বিমানবন্দরে ভয়াবহ আগুনে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে ছা
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৫
শাহজালাল বিমানবন্দরে ভয়াবহ আগুনে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে ছাই
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানি করা বেশ কিছু বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।
রোববার (১৯ অক্টোবর) বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে আনা এসব সরঞ্জাম ওই দিনই খালাসের জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু আগের দিন শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে কার্গো ভিলেজের কমপ্লেক্স ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘ সাত ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশনের ৩৭টি ইউনিটের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিজিবি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় বিপুল পরিমাণ আমদানি পণ্য পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মূলত আমদানি করা পণ্যই সংরক্ষিত ছিল।
রূপপুর প্রকল্পের জন্য রাশিয়া থেকে আসা বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলো আমদানি করে মমতা ট্রেডিং কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির কাস্টমস কর্মকর্তা সরকার বিপ্লব হোসাইন জানান, ছয় দিন আগে সাতটি শিপমেন্টে প্রায় ১৮ টন সরঞ্জাম দেশে আসে। পরমাণু শক্তি কমিশনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না পাওয়ায় খালাসে বিলম্ব হয়, যা শেষ পর্যন্ত আগুনে সব সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ার কারণ হয়।
অগ্নিকাণ্ডে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এটি কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং নাশকতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, কার্গো ভিলেজ এলাকায় থাকে কাস্টমসের জব্দ পণ্য, আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের নথি, ওষুধ ও কৃষিপণ্যের কাঁচামালসহ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী।
আইএইএবি সভাপতি কবির আহমেদ জানান, “বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এয়ার এক্সপ্রেস ইউনিট পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।”
স্কাইবাই বিডি-র প্রধান নির্বাহী রাসেল বিন আহাদ বলেন, “আগুনে আমাদের প্রতিষ্ঠান দুই কোটিরও বেশি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে। এটি কেবল আমাদের নয়, হাজারো গ্রাহকের জন্যও ক্ষতি।”
অন্যদিকে, বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “ঘটনাটি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চক্রের যোগসাজশে ঘটানো হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। সেখানে নিয়মিত চুরি-চামারি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফায়ার সেফটি ব্যবস্থার দুর্বলতাও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।”
এফআইসিসিআই নির্বাহী পরিচালক টিআইএম নুরুল কবির মন্তব্য করেন, “বিমানবন্দরের এই অগ্নিকাণ্ড আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে বড় ধাক্কা দেবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফায়ার সেফটির দুর্বলতা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে।”
এ বিষয়ে ইএবি সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “সম্প্রতি একের পর এক পোশাক কারখানায় আগুন লাগছে। এখন কার্গো ভিলেজেও একই ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিদেশি ক্রেতারা দেশের শিল্প খাতের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারেন।”
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন