৯০ বছরের নামদার, ৮০ বছরের বুলু—অসহায় দুই জীবনের বুকফাটা আর্তনাদ
একটু ভেবে দেখুন—আপনার পরিবারের বৃদ্ধ বাবা-মা যদি জীবনের শেষ বয়সে এসে একটি জরাজীর্ণ পাটখড়ির ঘরে অনাহারে দিন কাটাতেন, তাহলে আপনার কেমন লাগত?
৯০ বছরের নামদার আলী আর ৮০ বছরের বুলু বেগমের জীবন যেন সেই নির্মম বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন দুজনই। অথচ জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে তাদের প্রতিদিনের সবচেয়ে বড় চিন্তা—আজ খাবার জুটবে তো?
জরাজীর্ণ পাটখড়ির ঘরেই কোনোমতে দিন কাটছে তাদের। ঘরের অবস্থা এতটাই নাজুক যে নিরাপদে বসবাস করাটাও কঠিন। তার ওপর অভাব-অনটনের কারণে অনেক সময় জোটে না দুবেলা খাবারও।
সামান্য এক চিমটি লবণ আর সাদা ভাত—এইটুকুই যেন তাদের কাছে হয়ে উঠেছে বড় পাওয়া। বয়সের ভারে শরীর আর আগের মতো কাজ করে না। কিন্তু ক্ষুধার কষ্ট তো বয়স বোঝে না।
৯০ বছরের নামদার আলী এবং ৮০ বছরের বুলু বেগমের বুকফাটা আর্তনাদ কি আমাদের বিবেককে একটুও নাড়া দেয় না?
জীবনের যে বয়সে সন্তান-স্বজনের ভালোবাসা, একটু নিরাপদ আশ্রয় আর দুবেলা খাবার পাওয়ার কথা, সেই বয়সে তারা অনিশ্চয়তা আর অভাবের সঙ্গে লড়াই করছেন।
হয়তো আমাদের কারও জন্য সামান্য কিছু অর্থ, এক বস্তা চাল, কিছু প্রয়োজনীয় খাবার কিংবা একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা খুব বড় কিছু নয়। কিন্তু এই বৃদ্ধ দম্পতির জন্য সেটিই হতে পারে বেঁচে থাকার নতুন আশার আলো।
আমাদের একটু সহানুভূতি, একটু সহযোগিতা হয়তো জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়ানো এই অসহায় দুই মানুষকে অনাহার আর কষ্টের হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করতে পারে।
আসুন, শুধু খবরটি দেখে দুঃখ প্রকাশ না করে—সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াই।
মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হোক আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯০ বছরের নামদার, ৮০ বছরের বুলু—অসহায় দুই জীবনের বুকফাটা আর্তনাদ
একটু ভেবে দেখুন—আপনার পরিবারের বৃদ্ধ বাবা-মা যদি জীবনের শেষ বয়সে এসে একটি জরাজীর্ণ পাটখড়ির ঘরে অনাহারে দিন কাটাতেন, তাহলে আপনার কেমন লাগত?
৯০ বছরের নামদার আলী আর ৮০ বছরের বুলু বেগমের জীবন যেন সেই নির্মম বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন দুজনই। অথচ জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে তাদের প্রতিদিনের সবচেয়ে বড় চিন্তা—আজ খাবার জুটবে তো?
জরাজীর্ণ পাটখড়ির ঘরেই কোনোমতে দিন কাটছে তাদের। ঘরের অবস্থা এতটাই নাজুক যে নিরাপদে বসবাস করাটাও কঠিন। তার ওপর অভাব-অনটনের কারণে অনেক সময় জোটে না দুবেলা খাবারও।
সামান্য এক চিমটি লবণ আর সাদা ভাত—এইটুকুই যেন তাদের কাছে হয়ে উঠেছে বড় পাওয়া। বয়সের ভারে শরীর আর আগের মতো কাজ করে না। কিন্তু ক্ষুধার কষ্ট তো বয়স বোঝে না।
৯০ বছরের নামদার আলী এবং ৮০ বছরের বুলু বেগমের বুকফাটা আর্তনাদ কি আমাদের বিবেককে একটুও নাড়া দেয় না?
জীবনের যে বয়সে সন্তান-স্বজনের ভালোবাসা, একটু নিরাপদ আশ্রয় আর দুবেলা খাবার পাওয়ার কথা, সেই বয়সে তারা অনিশ্চয়তা আর অভাবের সঙ্গে লড়াই করছেন।
হয়তো আমাদের কারও জন্য সামান্য কিছু অর্থ, এক বস্তা চাল, কিছু প্রয়োজনীয় খাবার কিংবা একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা খুব বড় কিছু নয়। কিন্তু এই বৃদ্ধ দম্পতির জন্য সেটিই হতে পারে বেঁচে থাকার নতুন আশার আলো।
আমাদের একটু সহানুভূতি, একটু সহযোগিতা হয়তো জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়ানো এই অসহায় দুই মানুষকে অনাহার আর কষ্টের হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করতে পারে।
আসুন, শুধু খবরটি দেখে দুঃখ প্রকাশ না করে—সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াই।
মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হোক আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

আপনার মতামত লিখুন