আট বছর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে ইরান পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে যায়। সেই চুক্তির অধীনে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কঠোরভাবে সীমিত ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর ইরান ধাপে ধাপে সেই সীমাবদ্ধতা ভাঙতে শুরু করে।
ইরান কীভাবে ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করল—এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ আছে।
প্রথমত, ইরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে উন্নত সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহার শুরু করে। এই মেশিনগুলো দ্রুত গতিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারে, ফলে স্বল্প সময়ে বেশি পরিমাণ মজুত সম্ভব হয়। আগে যেখানে সীমা ছিল খুব কম, সেখানে ইরান সেই সীমা বহু গুণ ছাড়িয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দুর্বল হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর তদারকি কিছু ক্ষেত্রে সীমিত হয়ে যায়, বিশেষ করে যখন ইরান কিছু ক্যামেরা ও নজরদারি সরঞ্জাম সরিয়ে দেয়। এতে প্রকৃত মজুদের পরিমাণ ও অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
তৃতীয়ত, রাজনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে তার পারমাণবিক কর্মসূচি বাড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় তারা দেখাতে চেয়েছে যে, চাপ দিলে তারা আরও এগোবে—পিছিয়ে যাবে না।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই ১১ টন ইউরেনিয়াম আসলে কতটা বিপজ্জনক? সব ইউরেনিয়াম সমান নয়। পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য উচ্চমাত্রায় (প্রায় ৯০%) সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দরকার। ইরানের মজুদের বড় অংশই কম বা মাঝারি মাত্রায় সমৃদ্ধ, তবে উদ্বেগের বিষয় হলো—এই মজুদ থেকে দ্রুত উচ্চমাত্রায় উন্নীত করা সম্ভব।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বচ্ছতার অভাব। চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে ইরানের এই মজুত কোথায়, কী অবস্থায় আছে—তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরান সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ঘোষণা না করলেও, তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বিশাল ইউরেনিয়াম মজুত—দুটোই বিশ্ব রাজনীতিতে বড় এক অনিশ্চয়তা তৈরি করে রেখেছে।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
আট বছর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে ইরান পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে যায়। সেই চুক্তির অধীনে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কঠোরভাবে সীমিত ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর ইরান ধাপে ধাপে সেই সীমাবদ্ধতা ভাঙতে শুরু করে।
ইরান কীভাবে ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করল—এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ আছে।
প্রথমত, ইরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে উন্নত সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহার শুরু করে। এই মেশিনগুলো দ্রুত গতিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারে, ফলে স্বল্প সময়ে বেশি পরিমাণ মজুত সম্ভব হয়। আগে যেখানে সীমা ছিল খুব কম, সেখানে ইরান সেই সীমা বহু গুণ ছাড়িয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দুর্বল হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর তদারকি কিছু ক্ষেত্রে সীমিত হয়ে যায়, বিশেষ করে যখন ইরান কিছু ক্যামেরা ও নজরদারি সরঞ্জাম সরিয়ে দেয়। এতে প্রকৃত মজুদের পরিমাণ ও অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
তৃতীয়ত, রাজনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে তার পারমাণবিক কর্মসূচি বাড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় তারা দেখাতে চেয়েছে যে, চাপ দিলে তারা আরও এগোবে—পিছিয়ে যাবে না।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই ১১ টন ইউরেনিয়াম আসলে কতটা বিপজ্জনক? সব ইউরেনিয়াম সমান নয়। পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য উচ্চমাত্রায় (প্রায় ৯০%) সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দরকার। ইরানের মজুদের বড় অংশই কম বা মাঝারি মাত্রায় সমৃদ্ধ, তবে উদ্বেগের বিষয় হলো—এই মজুদ থেকে দ্রুত উচ্চমাত্রায় উন্নীত করা সম্ভব।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বচ্ছতার অভাব। চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে ইরানের এই মজুত কোথায়, কী অবস্থায় আছে—তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরান সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ঘোষণা না করলেও, তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বিশাল ইউরেনিয়াম মজুত—দুটোই বিশ্ব রাজনীতিতে বড় এক অনিশ্চয়তা তৈরি করে রেখেছে।

আপনার মতামত লিখুন