ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

এক শিক্ষিকায় কয়েক বছর ধরে চলছে পাঠদান, যান ৩০ কিলো দুর থেকে, হুম'কিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা

এক শিক্ষিকায় কয়েক বছর ধরে চলছে পাঠদান, যান ৩০ কিলো দুর থেকে, হুম'কিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা

মরিচা ধরা টিনের বেড়া আর এতিম শিশুর চাপা আর্তনাদ: ভূরুঙ্গামারীর ১১০টি স্বপ্নের কি কোনো কূল নেই?

মরিচা ধরা টিনের বেড়া আর এতিম শিশুর চাপা আর্তনাদ: ভূরুঙ্গামারীর ১১০টি স্বপ্নের কি কোনো কূল নেই?

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় গোয়াল ঘরের গোবর ফেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খাইরুল ইসলাম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় গোয়াল ঘরের গোবর ফেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খাইরুল ইসলাম

একটি দিন মায়ের জন্য: শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অনাবিল বহিঃপ্রকাশ

একটি দিন মায়ের জন্য: শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অনাবিল বহিঃপ্রকাশ

তেঁতুল গাছের মগডালে নি'খোঁজ বৃদ্ধা: কুড়িগ্রামে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান!

তেঁতুল গাছের মগডালে নি'খোঁজ বৃদ্ধা: কুড়িগ্রামে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান!

দেশে পাঁচটি নতুন উপজেলা অনুমোদন

দেশে পাঁচটি নতুন উপজেলা অনুমোদন

কুড়িগ্রামে বিশ্ব রেড ক্রিসেন্ট দিবস উদযাপন, মানবতার সেবায় তরুণদের আহ্বান

কুড়িগ্রামে বিশ্ব রেড ক্রিসেন্ট দিবস উদযাপন, মানবতার সেবায় তরুণদের আহ্বান

তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর

তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর

মরিচা ধরা টিনের বেড়া আর এতিম শিশুর চাপা আর্তনাদ: ভূরুঙ্গামারীর ১১০টি স্বপ্নের কি কোনো কূল নেই?

মরিচা ধরা টিনের বেড়া আর এতিম শিশুর চাপা আর্তনাদ: ভূরুঙ্গামারীর ১১০টি স্বপ্নের কি কোনো কূল নেই?
DSK TV chanel সংগ্রীত


মরিচা ধরা টিনের বেড়া আর এতিম শিশুর চাপা আর্তনাদ: ভূরুঙ্গামারীর ১১০টি স্বপ্নের কি কোনো কূল নেই?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার হাসপাতালের পশ্চিম পার্শ্বে, কামাত আঙ্গারিয়ার (তেঁতুলবাড়ি) এক নির্জন কোণে দাঁড়িয়ে আছে ‘তা’লিমুন নিসা হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসা’। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এটি যেন কোনো পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ঘর, কিন্তু এর ভেতরেই দানা বাঁধছে ১১০টি বালিকার সোনালী স্বপ্ন। ১৯৮৩ সালে রোপণ করা সেই শিক্ষার বীজ আজ ৪১ বছর পেরিয়ে বিশাল মহীরুহ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়—মরিচা ধরা টিনের বেড়া আর ভাঙা চালের আড়ালে আজ কেবল কান্নার প্রতিধ্বনি শোনা যায়।

এই মাদ্রাসার ইতিহাস সাফল্যের। শত প্রতিকূলতা আর অভাবের মাঝেও এখান থেকে প্রতি বছর গড়ে ৩ থেকে ৫ জন ছাত্রী পবিত্র কুরআনের ‘হাফেজা’ হয়ে বের হচ্ছে। কিন্তু এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক রূঢ় ও মানবিক বিপর্যয়ের গল্প। বর্তমানে ১১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ জন এমন অবুঝ এতিম শিশু রয়েছে, যাদের এই পৃথিবীতে এই জরাজীর্ণ মাদ্রাসাটি ছাড়া আর কোনো ঠিকানা নেই। বাবা-মায়হীন এই শিশুদের প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস যেন এই মাদ্রাসার নড়বড়ে খুঁটিগুলোকে প্রতিনিয়ত কাঁপিয়ে দেয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের এই যুগেও ১১০ জন ছাত্রীর ব্যবহারের জন্য এখানে নেই একটিও বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েল। ওজু করার জন্য নেই নির্দিষ্ট কোনো অজুখানা। এমনকি স্বাস্থ্যসম্মত কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থাও এখানে গড়ে ওঠেনি। কনকনে শীত হোক কিংবা তপ্ত রোদ—খোলা আকাশের নিচে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এই কোমলমতি মেয়েদের ওজু-গোসলের কাজ সারতে হয়। মাদ্রাসায় ঢোকার একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি সামান্য বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হয়ে যেন শিশুদের বন্দি করে ফেলে এক নরক যন্ত্রণায়। ৪১ বছরেও এখানে কোনো সরকারি অনুদানের ছোঁয়া লাগেনি—এ যেন এক অন্ধকার দ্বীপ, যেখানে আলো পৌঁছাতে ভুলে গেছে প্রশাসন।

মাদ্রাসার ৩ জন নিবেদিতপ্রাণ মহিলা শিক্ষক এবং ১ জন পরিচালক কোনোমতে এই বিশাল কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন। তাদের সামর্থ্য এখন ফুরিয়ে এসেছে। কর্তৃপক্ষের অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে একটিই প্রশ্ন— “এই এতিম বাচ্চাগুলোর কি অপরাধ? তারা কি একটু সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার আর নূন্যতম সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে না?” এলাকাবাসীর যৎসামান্য সহযোগিতায় কোনোভাবে টিকে আছে এই জ্ঞানালোক। ভূরুঙ্গামারীর এই প্রাচীন প্রদীপটি আজ নিভু নিভু। ১১০ জন বালিকা আর ৩ জন এতিম শিশুর শেষ আশ্রয়টুকু কি আমরা ভেঙে পড়তে দেব? সমাজের বিত্তবান আর প্রশাসনের কাছে আমাদের কোনো রাজনৈতিক দাবি নেই, আছে কেবল মানবিক আবেদন। একটি টিউবওয়েল, একটি অজুখানা আর সামান্য কিছু পাকা দেওয়াল হয়তো বদলে দিতে পারে এই শিশুদের জীবন। আমরা কি পারি না এই আলোর প্রদীপটিকে নিভে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে? প্রদীপটি নিভে যাওয়ার আগেই কি কেউ দয়া করে হাত বাড়িয়ে দেবেন না?


আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


মরিচা ধরা টিনের বেড়া আর এতিম শিশুর চাপা আর্তনাদ: ভূরুঙ্গামারীর ১১০টি স্বপ্নের কি কোনো কূল নেই?

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image


মরিচা ধরা টিনের বেড়া আর এতিম শিশুর চাপা আর্তনাদ: ভূরুঙ্গামারীর ১১০টি স্বপ্নের কি কোনো কূল নেই?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার হাসপাতালের পশ্চিম পার্শ্বে, কামাত আঙ্গারিয়ার (তেঁতুলবাড়ি) এক নির্জন কোণে দাঁড়িয়ে আছে ‘তা’লিমুন নিসা হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসা’। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এটি যেন কোনো পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ঘর, কিন্তু এর ভেতরেই দানা বাঁধছে ১১০টি বালিকার সোনালী স্বপ্ন। ১৯৮৩ সালে রোপণ করা সেই শিক্ষার বীজ আজ ৪১ বছর পেরিয়ে বিশাল মহীরুহ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়—মরিচা ধরা টিনের বেড়া আর ভাঙা চালের আড়ালে আজ কেবল কান্নার প্রতিধ্বনি শোনা যায়।

এই মাদ্রাসার ইতিহাস সাফল্যের। শত প্রতিকূলতা আর অভাবের মাঝেও এখান থেকে প্রতি বছর গড়ে ৩ থেকে ৫ জন ছাত্রী পবিত্র কুরআনের ‘হাফেজা’ হয়ে বের হচ্ছে। কিন্তু এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক রূঢ় ও মানবিক বিপর্যয়ের গল্প। বর্তমানে ১১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ জন এমন অবুঝ এতিম শিশু রয়েছে, যাদের এই পৃথিবীতে এই জরাজীর্ণ মাদ্রাসাটি ছাড়া আর কোনো ঠিকানা নেই। বাবা-মায়হীন এই শিশুদের প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস যেন এই মাদ্রাসার নড়বড়ে খুঁটিগুলোকে প্রতিনিয়ত কাঁপিয়ে দেয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের এই যুগেও ১১০ জন ছাত্রীর ব্যবহারের জন্য এখানে নেই একটিও বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েল। ওজু করার জন্য নেই নির্দিষ্ট কোনো অজুখানা। এমনকি স্বাস্থ্যসম্মত কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থাও এখানে গড়ে ওঠেনি। কনকনে শীত হোক কিংবা তপ্ত রোদ—খোলা আকাশের নিচে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এই কোমলমতি মেয়েদের ওজু-গোসলের কাজ সারতে হয়। মাদ্রাসায় ঢোকার একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি সামান্য বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হয়ে যেন শিশুদের বন্দি করে ফেলে এক নরক যন্ত্রণায়। ৪১ বছরেও এখানে কোনো সরকারি অনুদানের ছোঁয়া লাগেনি—এ যেন এক অন্ধকার দ্বীপ, যেখানে আলো পৌঁছাতে ভুলে গেছে প্রশাসন।

মাদ্রাসার ৩ জন নিবেদিতপ্রাণ মহিলা শিক্ষক এবং ১ জন পরিচালক কোনোমতে এই বিশাল কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন। তাদের সামর্থ্য এখন ফুরিয়ে এসেছে। কর্তৃপক্ষের অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে একটিই প্রশ্ন— “এই এতিম বাচ্চাগুলোর কি অপরাধ? তারা কি একটু সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার আর নূন্যতম সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে না?” এলাকাবাসীর যৎসামান্য সহযোগিতায় কোনোভাবে টিকে আছে এই জ্ঞানালোক। ভূরুঙ্গামারীর এই প্রাচীন প্রদীপটি আজ নিভু নিভু। ১১০ জন বালিকা আর ৩ জন এতিম শিশুর শেষ আশ্রয়টুকু কি আমরা ভেঙে পড়তে দেব? সমাজের বিত্তবান আর প্রশাসনের কাছে আমাদের কোনো রাজনৈতিক দাবি নেই, আছে কেবল মানবিক আবেদন। একটি টিউবওয়েল, একটি অজুখানা আর সামান্য কিছু পাকা দেওয়াল হয়তো বদলে দিতে পারে এই শিশুদের জীবন। আমরা কি পারি না এই আলোর প্রদীপটিকে নিভে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে? প্রদীপটি নিভে যাওয়ার আগেই কি কেউ দয়া করে হাত বাড়িয়ে দেবেন না?



ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল