হাসান মাহমুদ জয়, প্রতিনিধি: আসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ এখন উৎসবের আমেজ। তবে এ উৎসব শুধু সাধারণ কেনাবেচার চেয়েও বেশি কিছু। খামারের শত শত পশুর ভিড়ে সবার চোখ আটকে যাচ্ছে একটি বিশেষ প্রাণীর দিকে—ধবধবে সাদা নয়, বরং হালকা গোলাপি আভার এক বিশালকার মহিষ! শুধু গায়ের রঙের কারণেই নয়, তার রাজকীয় চালচলন আর মাথার লম্বা সোনালি চুলের স্টাইলের কারণে দর্শনার্থী ও খামারিদের কাছে এটি এখন তুমুল জনপ্রিয়।
১৪ মে সরেজমিনে পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা মেলে সাড়ে ৩ বছর বয়সী প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটির। এলবিনো জাতের এ মহিষের মাথার সামনের দিকে রয়েছে সোনালি রঙের লম্বা চুল। দেখতে ব্যতিক্রমী এই মহিষটির কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন খামারে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। দূর-দূরান্ত থেকে এসে দর্শনার্থীরা মহিষটির সঙ্গে ছবি ও সেলফি তুলছেন।
খামারের কর্মচারী জুবায়ের বলেন, “আমাদের এখানে তুফান, রহমান, ডাকাত বা মাস্তান নামে অনেক নামী-দামী গরু আছে। কিন্তু এই মহিষটির জনপ্রিয়তা সবার ওপরে।”
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছর কোরবানির ঈদের পর রাজশাহী সিটি পশুর হাট থেকে মহিষটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। দীর্ঘ এক বছর বিশেষ যত্নে লালন-পালনের পর এবার কোরবানির হাটে তোলার আগেই এটি বিক্রি হয়ে গেছে।
খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, “লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে মহিষটি মোট ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঢাকার এক সৌখিন ক্রেতা এরই মধ্যে মহিষটি কিনে আমাদের খামারেই রেখেছেন। ঈদের কয়েক দিন আগে তিনি এটি খামার থেকে নিয়ে যাবেন।”
মহিষটির পরিচর্যাকারী আহাদ জানান, প্রতিদিন নিয়ম মেনে দুই বেলা তাকে খাবার দেওয়া হয়। খাদ্যতালিকায় আছে ভুট্টা, সয়াবিন, খইল, গমের ভুসি, তিলের খইল, ধানের কুঁড়া, খড় ও সবুজ ঘাস। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত প্রাণীর যত্ন ও গোসল করানো হচ্ছে।
মহিষটি দেখতে আসা শহরের নিতাইগঞ্জের বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, “ফেসবুকে গোলাপি মহিষের কথা শুনে কৌতুহল নিয়ে দেখতে এসেছি। সত্যি, এমন রঙের মহিষ আগে কখনো দেখিনি। সামনাসামনি দেখে খুব ভালো লাগলো।”
মহিষটির গায়ের রং নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বিষয়টিকে বৈজ্ঞানিক ও সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি খামারে গোলাপি রঙের একটি মহিষ আছে বলে শুনেছি। এটি আসলে কোনো অলৌকিক বা অতি বিরল জাত নয়, এটি একটি ‘এলবিনো’ মহিষ। শরীরে রঞ্জক বা মেলানিন পদার্থের অভাব থাকলে প্রাণীর গায়ের রং ও চামড়া এমন সাদা বা গোলাপি আভার হয়।”
রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে এবার কোরবানির জন্য প্রায় ২০০টি পশু প্রস্তুত করা হলেও, আলোচনার সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছে গোলাপি রঙের এই মহিষটি। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, এটি যেন নারায়ণগঞ্জের মানুষের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
হাসান মাহমুদ জয়, প্রতিনিধি: আসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ এখন উৎসবের আমেজ। তবে এ উৎসব শুধু সাধারণ কেনাবেচার চেয়েও বেশি কিছু। খামারের শত শত পশুর ভিড়ে সবার চোখ আটকে যাচ্ছে একটি বিশেষ প্রাণীর দিকে—ধবধবে সাদা নয়, বরং হালকা গোলাপি আভার এক বিশালকার মহিষ! শুধু গায়ের রঙের কারণেই নয়, তার রাজকীয় চালচলন আর মাথার লম্বা সোনালি চুলের স্টাইলের কারণে দর্শনার্থী ও খামারিদের কাছে এটি এখন তুমুল জনপ্রিয়।
১৪ মে সরেজমিনে পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা মেলে সাড়ে ৩ বছর বয়সী প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটির। এলবিনো জাতের এ মহিষের মাথার সামনের দিকে রয়েছে সোনালি রঙের লম্বা চুল। দেখতে ব্যতিক্রমী এই মহিষটির কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন খামারে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। দূর-দূরান্ত থেকে এসে দর্শনার্থীরা মহিষটির সঙ্গে ছবি ও সেলফি তুলছেন।
খামারের কর্মচারী জুবায়ের বলেন, “আমাদের এখানে তুফান, রহমান, ডাকাত বা মাস্তান নামে অনেক নামী-দামী গরু আছে। কিন্তু এই মহিষটির জনপ্রিয়তা সবার ওপরে।”
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছর কোরবানির ঈদের পর রাজশাহী সিটি পশুর হাট থেকে মহিষটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। দীর্ঘ এক বছর বিশেষ যত্নে লালন-পালনের পর এবার কোরবানির হাটে তোলার আগেই এটি বিক্রি হয়ে গেছে।
খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, “লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে মহিষটি মোট ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঢাকার এক সৌখিন ক্রেতা এরই মধ্যে মহিষটি কিনে আমাদের খামারেই রেখেছেন। ঈদের কয়েক দিন আগে তিনি এটি খামার থেকে নিয়ে যাবেন।”
মহিষটির পরিচর্যাকারী আহাদ জানান, প্রতিদিন নিয়ম মেনে দুই বেলা তাকে খাবার দেওয়া হয়। খাদ্যতালিকায় আছে ভুট্টা, সয়াবিন, খইল, গমের ভুসি, তিলের খইল, ধানের কুঁড়া, খড় ও সবুজ ঘাস। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত প্রাণীর যত্ন ও গোসল করানো হচ্ছে।
মহিষটি দেখতে আসা শহরের নিতাইগঞ্জের বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, “ফেসবুকে গোলাপি মহিষের কথা শুনে কৌতুহল নিয়ে দেখতে এসেছি। সত্যি, এমন রঙের মহিষ আগে কখনো দেখিনি। সামনাসামনি দেখে খুব ভালো লাগলো।”
মহিষটির গায়ের রং নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বিষয়টিকে বৈজ্ঞানিক ও সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি খামারে গোলাপি রঙের একটি মহিষ আছে বলে শুনেছি। এটি আসলে কোনো অলৌকিক বা অতি বিরল জাত নয়, এটি একটি ‘এলবিনো’ মহিষ। শরীরে রঞ্জক বা মেলানিন পদার্থের অভাব থাকলে প্রাণীর গায়ের রং ও চামড়া এমন সাদা বা গোলাপি আভার হয়।”
রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে এবার কোরবানির জন্য প্রায় ২০০টি পশু প্রস্তুত করা হলেও, আলোচনার সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছে গোলাপি রঙের এই মহিষটি। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, এটি যেন নারায়ণগঞ্জের মানুষের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন