এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে কড়াকড়ি নিরাপত্তা, দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
প্রকাশের তারিখ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫
এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে কড়াকড়ি নিরাপত্তা, দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সেখানে চিকিৎসাধীন থাকায় বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)–র দুই প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়।
দায়িত্বরত বিজিবি কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক প্লাটুন সদস্য হাসপাতালের মূল গেটে দায়িত্ব পালন করছে এবং অন্য প্লাটুন আশপাশের এলাকায় টহল দিচ্ছে।
এর আগে সোমবার রাতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যারিকেড বসায়। তারপরও বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী হাসপাতালের সামনে এসে জড়ো হন। ব্যারিকেডের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করলেও উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় তারা হাসপাতালে ছুটে এসেছেন বলে জানান।
খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (VVIP)’ ঘোষণা করার পর মঙ্গলবার দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) তার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়।
৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনিসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দুই দিন আগে তাকে কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা চালাচ্ছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দী ছিলেন। পরে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে তার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেওয়া হয়, যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হলেও বিদেশ যাওয়ার অনুমতি মেলেনি।
গত ৮ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত হন। এরপর চিকিৎসার জন্য ৮ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যে গিয়ে চিকিৎসা শেষে ৬ মে দেশে ফেরেন। বর্তমানে তিনি আবারও গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন