শিরোনাম: ভূরুঙ্গামারীতে অধিক দামে সার বিক্রির চেষ্টা: মোবাইল কোর্টে জরিমানা, প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দের সময়োপযোগী পদক্ষেপে স্বস্তি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নতুনহাটে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে সার বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি সারের বাজার নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং থানা পুলিশের তৎপরতা ও নিয়মিত মনিটরিংয়ে এলাকজুড়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা গেছে, নতুনহাট বাজারের বিসিআইসি সার ডিলার নিতাই চন্দ্র সাহার বিক্রয় কেন্দ্রে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে—এমন তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে যান এক সংবাদকর্মী। ওই ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম তারেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক শহিদুল ইসলাম আকন্দ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াদুদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি NCP আহ্বায়ক মাহফুজুল ইসলাম কিরণ।
প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করে দেখতে পান যে, দুজন কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুই কৃষককে ডেকে অতিরিক্ত নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং সরকার নির্ধারিত ১৩৪০ টাকা মূল্যে সার বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামানকে (পিতা: আবদুল আউয়াল) ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকা, সার সংকট রোধ এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করতে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ শুরু থেকেই অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন এবং সার্কেল এএসপি মুনতাসীর মামুন মুনের দিকনির্দেশনায় থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করছেন। তাদের এই কঠোর মনিটরিংয়ের ফলে অসাধু চক্র সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করার সুযোগ পাচ্ছে না। পুলিশ ও প্রশাসনের এই সমন্বিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে সাধারণ কৃষক ও এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের বক্তব্য, উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, উপজেলা প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলা এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল এ ধরনের অপচেষ্টা চালালেও প্রশাসন তা শক্ত হাতে দমন করতে প্রস্তুত রয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক শহিদুল ইসলাম আকন্দ বলেন, "সারের কোনো সংকট নেই, এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করার অপচেষ্টা চলছে। স্থানীয় ফ্যাসিস্টদের এই অপচেষ্টা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মিলে প্রতিহত করবে। সার নিয়ে কোনো কারসাজি বরদাস্ত করা হবে না।"
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, "সার নিয়ে কোনো রকম তালবাহানা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি NCP আহ্বায়ক মাহফুজুল ইসলাম কিরণও এই বক্তব্যে একমত পোষণ করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ভূরুঙ্গামারীতে অধিক দামে সার বিক্রির চেষ্টা: মোবাইল কোর্টে জরিমানা, প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দের সময়োপযোগী পদক্ষেপে স্বস্তি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নতুনহাটে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে সার বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি সারের বাজার নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং থানা পুলিশের তৎপরতা ও নিয়মিত মনিটরিংয়ে এলাকজুড়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা গেছে, নতুনহাট বাজারের বিসিআইসি সার ডিলার নিতাই চন্দ্র সাহার বিক্রয় কেন্দ্রে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে—এমন তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে যান এক সংবাদকর্মী। ওই ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম তারেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক শহিদুল ইসলাম আকন্দ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াদুদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি NCP আহ্বায়ক মাহফুজুল ইসলাম কিরণ।
প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করে দেখতে পান যে, দুজন কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুই কৃষককে ডেকে অতিরিক্ত নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং সরকার নির্ধারিত ১৩৪০ টাকা মূল্যে সার বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামানকে (পিতা: আবদুল আউয়াল) ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকা, সার সংকট রোধ এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করতে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ শুরু থেকেই অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন এবং সার্কেল এএসপি মুনতাসীর মামুন মুনের দিকনির্দেশনায় থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করছেন। তাদের এই কঠোর মনিটরিংয়ের ফলে অসাধু চক্র সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করার সুযোগ পাচ্ছে না। পুলিশ ও প্রশাসনের এই সমন্বিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে সাধারণ কৃষক ও এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের বক্তব্য, উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, উপজেলা প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলা এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল এ ধরনের অপচেষ্টা চালালেও প্রশাসন তা শক্ত হাতে দমন করতে প্রস্তুত রয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক শহিদুল ইসলাম আকন্দ বলেন, "সারের কোনো সংকট নেই, এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করার অপচেষ্টা চলছে। স্থানীয় ফ্যাসিস্টদের এই অপচেষ্টা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মিলে প্রতিহত করবে। সার নিয়ে কোনো কারসাজি বরদাস্ত করা হবে না।"
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, "সার নিয়ে কোনো রকম তালবাহানা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি NCP আহ্বায়ক মাহফুজুল ইসলাম কিরণও এই বক্তব্যে একমত পোষণ করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন