দেশমাতার আবেদন
আমি দেশমাতা —
আমার শরীর জুড়ে একদিন
ভয়ের বাতাস বয়ে গিয়েছিল।
রাস্তা, নদী, আদালত, ঘর—
সবখানে তখন
নীরবতার পাহারা।
সে দিন রাষ্ট্রের হাত
কিছু শক্ত কব্জার দখলে ছিল,
সে দিন আমার সন্তানেরা
শ্বাস নিতে ভয় পেত।
আমাদের ঘরেও
অত্যাচারের ছায়া পড়েছিল—
আমি দেখেছি,
আমি ভুলিনি।
কিন্তু শোনো,
আমি আর সেই দিন চাই না।
প্রতিহিংসার রক্তচক্রে
আমার সন্তানেরা ঘুরপাক খাক—
এ দৃশ্য আমি সহ্য করি না।
প্রতিহিংসার ঋতু পেরিয়ে
এবার ন্যায়ের বসন্ত আনো;
এক প্রজন্মের অশ্রু
আরেক প্রজন্মের উত্তরাধিকার
হয়ে থাকুক—এ আমি চাই না।
ঘৃণার বীজে
কোনো দেশের ফুল ফোটে না।
নির্বাচনে-
আমার সন্তানেরা
ভোটের বাক্সে শুধু কাগজ ফেলেনি—
ফেলেছিল বিশ্বাস,
ফেলেছিল রাষ্ট্র চালানোর ভার।
আঙুলের কালিতে
তারা লিখেছিল একটি চুক্তি।
সে চুক্তি ভাঙো না।
আমি মা—
আমি সন্তান বিমুখ হলে কাঁদি।
মনে রেখো,
বিজয় মানে শুধু পতাকা নয়,
রাজপথের উল্লাস নয়—
বিজয় মানে
আইনের মুখে ভয়ের মৃত্যু।
বিজয় মানে
দুর্বল ঘুমোতে পারে নিশ্চিন্তে।
আমার শরীরে যেন আর
হঠাৎ বজ্রপাত না নামে—
নামের পাশে মিথ্যা দাগ বসিয়ে
কেউ যেন অদৃশ্য হয়ে না যায়।
আইন হোক সকালের রোদ,
রাতের ছায়া নয়।
আমি চাই না
বিচারালয় হয়ে উঠুক হাট,
যেখানে ন্যায়ের দাম হাঁকা হয়।
কলম চলুক বিবেকে,
লেনদেনে নয়।
কারাগার হোক অপরাধীর,
স্বপ্নবান সন্তানের নয়।
লোহার শিক যেন
নির্দোষের কণ্ঠে ক্ষত না তোলে।
দলীয় রঙে
আমার শাড়ি রাঙিও না।
ক্ষমতার লাঠি দিয়ে
দুর্বলের উঠোনে ঝড় তুলতে দিও না।
এই দিকে রেখো
তোমার কঠোর দৃষ্টি।
আমার ভোল্ট যেন
রাতের নিঃশ্বাসে কাঁপে না।
অদৃশ্য হাত
সংখ্যা গুনে বিদেশে পালাক—
এ আমি চাই না।
আমার সঞ্চয় থাকুক
আমার ঘামের পাহারায়।
বাজারে যেন আর
কাগুজে আগুন না লাগে।
শেয়ারের নামে
স্বপ্ন লুটের উৎসব বন্ধ হোক।
দুর্নীতির গাছে
পাতা ছেঁড়ো না,
শিকড়ে আঘাত করো।
কালো টাকার ডানা ভেঙে দাও—
আমার রক্ত
বিদেশের ভল্টে আশ্রয় নেবে না।
ইশতেহার যেন
দেয়ালে ঝুলে থাকা রঙিন কাগজ না হয়।
প্রতিশ্রুতি নামুক
স্কুলের বেঞ্চে,
হাসপাতালের শয্যায়,
কৃষকের হাতে,
শ্রমিকের ঘামে।
আমি কোনো ব্যক্তিগত খনি নই।
আমি মানুষের ঘর।
আমার বুক থেকে যেন আর
রক্ত না যায়,
ধন না যায়,
ভবিষ্যৎ না যায়।
আমার তরুণেরা আজ
পাসপোর্টের পাতা ওলটায়—
চোখে দূর দেশের মানচিত্র।
কাজ নেই বলে,
নিরাপত্তা নেই বলে।
এমন দেশ কোরো না,
যেখান থেকে মেধা পালায়।
আমাকে এমন করে গড়ো—
যেখানে কাজ জন্ম নেয়,
স্বপ্ন দাঁড়ায় মাথা উঁচু করে।
যেখানে তরুণ বলে—
এই দেশেই আমার ভবিষ্যৎ।
আমি চাই
নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য বাংলাদেশ।
বেকারত্ব নামুক,
সম্ভাবনা উঠুক।
আজ আমি তাকিয়ে আছি—
একটি শব্দের দিকে,
একটি শাসনের দিকে।
সুশাসন—
যা থাকবে না শুধু ভাষণে,
থাকবে আমার সন্তানের
সকালের রুটিতে,
রাতের নিশ্চিন্ত ঘুমে।
তাই বলছি—
আমার ক্ষতকে প্রতিশোধের অস্ত্র করো না;
আর বিজয়কে ব্যক্তির সম্পত্তি বানিও না।
কারণ ক্ষমতার ঊর্ধ্বে
একটি শব্দ দাঁড়িয়ে থাকে—
জনতা।
আর জনতারও ওপরে
নির্লিপ্ত যে বিচার,
তার নাম—
ইতিহাস।
এই আমার আবেদন—
কোনো দিনের ক্রোধ নয়,
কোনো দলের ভাষা নয়;
এ আমার বুকের গভীর থেকে ওঠা
এক মায়ের প্রার্থনা—
আমার সন্তানরা যেন
এমন একটি বাংলাদেশ পায়,
যেখানে ন্যায় ভয় পায় না,
সত্য নির্বাসিত হয় না,
ক্ষমতা মানুষের মাথার ওপর
ছায়া হয়ে থাকে—
বোঝা হয়ে নয়।
এই আমার আবেদন—
শেষ কথা নয়;
এ আমার
চিরন্তন প্রার্থনা।
লেখকঃ প্রিন্সিপাল মোঃ বিল্লাল হোসেন।

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশমাতার আবেদন
আমি দেশমাতা —
আমার শরীর জুড়ে একদিন
ভয়ের বাতাস বয়ে গিয়েছিল।
রাস্তা, নদী, আদালত, ঘর—
সবখানে তখন
নীরবতার পাহারা।
সে দিন রাষ্ট্রের হাত
কিছু শক্ত কব্জার দখলে ছিল,
সে দিন আমার সন্তানেরা
শ্বাস নিতে ভয় পেত।
আমাদের ঘরেও
অত্যাচারের ছায়া পড়েছিল—
আমি দেখেছি,
আমি ভুলিনি।
কিন্তু শোনো,
আমি আর সেই দিন চাই না।
প্রতিহিংসার রক্তচক্রে
আমার সন্তানেরা ঘুরপাক খাক—
এ দৃশ্য আমি সহ্য করি না।
প্রতিহিংসার ঋতু পেরিয়ে
এবার ন্যায়ের বসন্ত আনো;
এক প্রজন্মের অশ্রু
আরেক প্রজন্মের উত্তরাধিকার
হয়ে থাকুক—এ আমি চাই না।
ঘৃণার বীজে
কোনো দেশের ফুল ফোটে না।
নির্বাচনে-
আমার সন্তানেরা
ভোটের বাক্সে শুধু কাগজ ফেলেনি—
ফেলেছিল বিশ্বাস,
ফেলেছিল রাষ্ট্র চালানোর ভার।
আঙুলের কালিতে
তারা লিখেছিল একটি চুক্তি।
সে চুক্তি ভাঙো না।
আমি মা—
আমি সন্তান বিমুখ হলে কাঁদি।
মনে রেখো,
বিজয় মানে শুধু পতাকা নয়,
রাজপথের উল্লাস নয়—
বিজয় মানে
আইনের মুখে ভয়ের মৃত্যু।
বিজয় মানে
দুর্বল ঘুমোতে পারে নিশ্চিন্তে।
আমার শরীরে যেন আর
হঠাৎ বজ্রপাত না নামে—
নামের পাশে মিথ্যা দাগ বসিয়ে
কেউ যেন অদৃশ্য হয়ে না যায়।
আইন হোক সকালের রোদ,
রাতের ছায়া নয়।
আমি চাই না
বিচারালয় হয়ে উঠুক হাট,
যেখানে ন্যায়ের দাম হাঁকা হয়।
কলম চলুক বিবেকে,
লেনদেনে নয়।
কারাগার হোক অপরাধীর,
স্বপ্নবান সন্তানের নয়।
লোহার শিক যেন
নির্দোষের কণ্ঠে ক্ষত না তোলে।
দলীয় রঙে
আমার শাড়ি রাঙিও না।
ক্ষমতার লাঠি দিয়ে
দুর্বলের উঠোনে ঝড় তুলতে দিও না।
এই দিকে রেখো
তোমার কঠোর দৃষ্টি।
আমার ভোল্ট যেন
রাতের নিঃশ্বাসে কাঁপে না।
অদৃশ্য হাত
সংখ্যা গুনে বিদেশে পালাক—
এ আমি চাই না।
আমার সঞ্চয় থাকুক
আমার ঘামের পাহারায়।
বাজারে যেন আর
কাগুজে আগুন না লাগে।
শেয়ারের নামে
স্বপ্ন লুটের উৎসব বন্ধ হোক।
দুর্নীতির গাছে
পাতা ছেঁড়ো না,
শিকড়ে আঘাত করো।
কালো টাকার ডানা ভেঙে দাও—
আমার রক্ত
বিদেশের ভল্টে আশ্রয় নেবে না।
ইশতেহার যেন
দেয়ালে ঝুলে থাকা রঙিন কাগজ না হয়।
প্রতিশ্রুতি নামুক
স্কুলের বেঞ্চে,
হাসপাতালের শয্যায়,
কৃষকের হাতে,
শ্রমিকের ঘামে।
আমি কোনো ব্যক্তিগত খনি নই।
আমি মানুষের ঘর।
আমার বুক থেকে যেন আর
রক্ত না যায়,
ধন না যায়,
ভবিষ্যৎ না যায়।
আমার তরুণেরা আজ
পাসপোর্টের পাতা ওলটায়—
চোখে দূর দেশের মানচিত্র।
কাজ নেই বলে,
নিরাপত্তা নেই বলে।
এমন দেশ কোরো না,
যেখান থেকে মেধা পালায়।
আমাকে এমন করে গড়ো—
যেখানে কাজ জন্ম নেয়,
স্বপ্ন দাঁড়ায় মাথা উঁচু করে।
যেখানে তরুণ বলে—
এই দেশেই আমার ভবিষ্যৎ।
আমি চাই
নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য বাংলাদেশ।
বেকারত্ব নামুক,
সম্ভাবনা উঠুক।
আজ আমি তাকিয়ে আছি—
একটি শব্দের দিকে,
একটি শাসনের দিকে।
সুশাসন—
যা থাকবে না শুধু ভাষণে,
থাকবে আমার সন্তানের
সকালের রুটিতে,
রাতের নিশ্চিন্ত ঘুমে।
তাই বলছি—
আমার ক্ষতকে প্রতিশোধের অস্ত্র করো না;
আর বিজয়কে ব্যক্তির সম্পত্তি বানিও না।
কারণ ক্ষমতার ঊর্ধ্বে
একটি শব্দ দাঁড়িয়ে থাকে—
জনতা।
আর জনতারও ওপরে
নির্লিপ্ত যে বিচার,
তার নাম—
ইতিহাস।
এই আমার আবেদন—
কোনো দিনের ক্রোধ নয়,
কোনো দলের ভাষা নয়;
এ আমার বুকের গভীর থেকে ওঠা
এক মায়ের প্রার্থনা—
আমার সন্তানরা যেন
এমন একটি বাংলাদেশ পায়,
যেখানে ন্যায় ভয় পায় না,
সত্য নির্বাসিত হয় না,
ক্ষমতা মানুষের মাথার ওপর
ছায়া হয়ে থাকে—
বোঝা হয়ে নয়।
এই আমার আবেদন—
শেষ কথা নয়;
এ আমার
চিরন্তন প্রার্থনা।
লেখকঃ প্রিন্সিপাল মোঃ বিল্লাল হোসেন।

আপনার মতামত লিখুন