নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সদর দপ্তর ভৌগোলিক মধ্যস্থলে স্থাপনের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহ জেলার নবগঠিত ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’উপজেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর ভৌগোলিক মধ্যস্থল পাগলা মৌজায় (পাগলা থানার পাশে) স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও নাগরিক ঐক্য’। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের মতে, বর্তমান গেজেটে ঘোষিত স্থান নয়াবাড়ী মৌজাটি উপজেলার এক প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় সাধারণ জনগণের প্রশাসনিক সেবা পেতে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হবে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংগঠনের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান ফুরকান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংবাদিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আকতার হোসেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ- সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বাবুল, জেলা যুবদলের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, নিগুয়ারি ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন প্রধান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আবু সাঈদ, পাভেল, শামীম হাসান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ১ জুলাই নিকার সভায় ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানাধীন ৮টি ইউনিয়ন (মশাখালী, পাঁচবাগ, পাইথল, উস্তি, লংগাইর, দত্তের বাজার, নিগুয়ারী ও টাংগাব) নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’নামে নতুন উপজেলা অনুমোদিত হয়। তবে পরবর্তীতে প্রকাশিত গেজেটে উপজেলার সদর দপ্তর পাগলা এলাকার পরিবর্তে সর্ব-উত্তরের উস্তি ইউনিয়নের নয়াবাড়ী মৌজায় নির্ধারণ করা হয়, যা মূল গফরগাঁও উপজেলার সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাচ্চুর ব্যক্তিগত ইচ্ছায় এবং কোনো ধরনের গণশুনানি ছাড়াই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন একপেশে প্রতিবেদন তৈরি করে নয়াবাড়ী মৌজাকে সদর দপ্তর হিসেবে প্রস্তাব করেছে। যা বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের নাগরিকরা প্রশাসনিক সুবিধার চেয়ে অধিক পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল যুক্তি ও দাবিসমূহ হলো- ভৌগোলিক মধ্যস্থল হিসেবে পাগলা মৌজা ৮টি ইউনিয়নের ঠিক মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে আগে থেকেই থানা ভবন, মহাসড়ক, রেলপথ, বৃহৎ বাজার ও ব্যাংকিং সুবিধা রয়েছে। নয়াবাড়ী মৌজায় সদর দপ্তর হলে ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত ৬টি ইউনিয়নের জনগণকে সেবা নিতে আগের মতোই ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে, যা প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকালের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। নতুন উপজেলার অস্থায়ী কার্যক্রম চালুর জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা পাগলা থানা সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ২০টি বড় ভবন বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দিতে রাজি আছেন। পাশাপাশি স্থায়ী দপ্তর ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিনামূল্যে সরকারের নামে লিখে দেওয়ার ঘোষণাও দেন তারা। সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলা হয়, জনস্বার্থ ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনা করে সদর দপ্তরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। অবিলম্বে এই দাবি মেনে নেওয়া না হলে স্থানীয়দের উদ্যোগে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সদর দপ্তর ভৌগোলিক মধ্যস্থলে স্থাপনের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহ জেলার নবগঠিত ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’উপজেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর ভৌগোলিক মধ্যস্থল পাগলা মৌজায় (পাগলা থানার পাশে) স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও নাগরিক ঐক্য’। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের মতে, বর্তমান গেজেটে ঘোষিত স্থান নয়াবাড়ী মৌজাটি উপজেলার এক প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় সাধারণ জনগণের প্রশাসনিক সেবা পেতে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হবে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংগঠনের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান ফুরকান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংবাদিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আকতার হোসেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ- সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বাবুল, জেলা যুবদলের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, নিগুয়ারি ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন প্রধান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আবু সাঈদ, পাভেল, শামীম হাসান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ১ জুলাই নিকার সভায় ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানাধীন ৮টি ইউনিয়ন (মশাখালী, পাঁচবাগ, পাইথল, উস্তি, লংগাইর, দত্তের বাজার, নিগুয়ারী ও টাংগাব) নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’নামে নতুন উপজেলা অনুমোদিত হয়। তবে পরবর্তীতে প্রকাশিত গেজেটে উপজেলার সদর দপ্তর পাগলা এলাকার পরিবর্তে সর্ব-উত্তরের উস্তি ইউনিয়নের নয়াবাড়ী মৌজায় নির্ধারণ করা হয়, যা মূল গফরগাঁও উপজেলার সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাচ্চুর ব্যক্তিগত ইচ্ছায় এবং কোনো ধরনের গণশুনানি ছাড়াই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন একপেশে প্রতিবেদন তৈরি করে নয়াবাড়ী মৌজাকে সদর দপ্তর হিসেবে প্রস্তাব করেছে। যা বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের নাগরিকরা প্রশাসনিক সুবিধার চেয়ে অধিক পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল যুক্তি ও দাবিসমূহ হলো- ভৌগোলিক মধ্যস্থল হিসেবে পাগলা মৌজা ৮টি ইউনিয়নের ঠিক মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে আগে থেকেই থানা ভবন, মহাসড়ক, রেলপথ, বৃহৎ বাজার ও ব্যাংকিং সুবিধা রয়েছে। নয়াবাড়ী মৌজায় সদর দপ্তর হলে ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত ৬টি ইউনিয়নের জনগণকে সেবা নিতে আগের মতোই ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে, যা প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকালের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। নতুন উপজেলার অস্থায়ী কার্যক্রম চালুর জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা পাগলা থানা সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ২০টি বড় ভবন বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দিতে রাজি আছেন। পাশাপাশি স্থায়ী দপ্তর ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিনামূল্যে সরকারের নামে লিখে দেওয়ার ঘোষণাও দেন তারা। সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলা হয়, জনস্বার্থ ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনা করে সদর দপ্তরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। অবিলম্বে এই দাবি মেনে নেওয়া না হলে স্থানীয়দের উদ্যোগে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

আপনার মতামত লিখুন