চারজনই অসুস্থ, পরিবারের ভার বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তিথির কাঁধে—টিউশনি করে চলছে চিকিৎসা ও সংসার
পাঁচ সদস্যের পরিবারের চারজনই নানা রোগে আক্রান্ত। কারও কিডনি রোগ, কারও লিভারের সংক্রমণ, আবার পরিবারের একমাত্র ছেলে জন্মগত শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ভুগছেন কিডনি রোগেও। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পরিবারের চিকিৎসা, ওষুধ ও দৈনন্দিন সংসার খরচের দায়িত্ব এসে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছোট মেয়ে তিথির কাঁধে।
নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি টিউশনি করে পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ জোগানোর চেষ্টা করছেন তিথি। দিনের একটি বড় সময় পড়াশোনা, টিউশনি এবং অসুস্থ স্বজনদের দেখাশোনায় কেটে যায়। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত ব্যস্ততায় তার নিজের শরীরও ভেঙে পড়েছে। তবুও থামার সুযোগ নেই—কারণ এই মুহূর্তে পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসা তিনিই।
একসময় পরিবারটি স্বচ্ছল ছিল। তিথির বাবা পোশাক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু করোনা মহামারির পর ব্যবসায় ধস নামে। আয় কমে যাওয়ার মধ্যেই তাঁর কিডনি রোগ ধরা পড়ে। একপর্যায়ে উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়, অন্যদিকে বাড়তে থাকে চিকিৎসার ব্যয়। ধীরে ধীরে পরিবারের আর্থিক অবস্থারও অবনতি ঘটে।
তিথির মা দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সংক্রমণে ভুগছেন। পরিবারের একমাত্র ছেলে রায়হান কবির জন্মগতভাবে মেরুদণ্ডের সমস্যায় আক্রান্ত। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা রায়হানের সম্প্রতি কিডনি রোগও ধরা পড়েছে।
অন্যদিকে পরিবারের বড় মেয়ে সুরাইয়া কবিরও কিডনি সংক্রমণে ভুগছেন। ফলে বাবা-মা ও ভাই-বোনের চিকিৎসা এবং সংসারের প্রয়োজন মেটানোর দায়িত্ব কার্যত তিথির ওপরই এসে পড়েছে।
টিউশনি থেকে পাওয়া সামান্য আয় দিয়ে ওষুধ কেনা ও সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ বহন করতে গিয়ে পরিবারের সঞ্চয়ও প্রায় শেষের পথে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়াও এখন দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।
নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার বয়সে তিথি এখন পরিবারের ভবিষ্যৎ বাঁচানোর লড়াই করছেন। অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চারজনই অসুস্থ, পরিবারের ভার বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তিথির কাঁধে—টিউশনি করে চলছে চিকিৎসা ও সংসার
পাঁচ সদস্যের পরিবারের চারজনই নানা রোগে আক্রান্ত। কারও কিডনি রোগ, কারও লিভারের সংক্রমণ, আবার পরিবারের একমাত্র ছেলে জন্মগত শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ভুগছেন কিডনি রোগেও। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পরিবারের চিকিৎসা, ওষুধ ও দৈনন্দিন সংসার খরচের দায়িত্ব এসে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছোট মেয়ে তিথির কাঁধে।
নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি টিউশনি করে পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ জোগানোর চেষ্টা করছেন তিথি। দিনের একটি বড় সময় পড়াশোনা, টিউশনি এবং অসুস্থ স্বজনদের দেখাশোনায় কেটে যায়। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত ব্যস্ততায় তার নিজের শরীরও ভেঙে পড়েছে। তবুও থামার সুযোগ নেই—কারণ এই মুহূর্তে পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসা তিনিই।
একসময় পরিবারটি স্বচ্ছল ছিল। তিথির বাবা পোশাক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু করোনা মহামারির পর ব্যবসায় ধস নামে। আয় কমে যাওয়ার মধ্যেই তাঁর কিডনি রোগ ধরা পড়ে। একপর্যায়ে উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়, অন্যদিকে বাড়তে থাকে চিকিৎসার ব্যয়। ধীরে ধীরে পরিবারের আর্থিক অবস্থারও অবনতি ঘটে।
তিথির মা দীর্ঘদিন ধরে লিভারের সংক্রমণে ভুগছেন। পরিবারের একমাত্র ছেলে রায়হান কবির জন্মগতভাবে মেরুদণ্ডের সমস্যায় আক্রান্ত। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা রায়হানের সম্প্রতি কিডনি রোগও ধরা পড়েছে।
অন্যদিকে পরিবারের বড় মেয়ে সুরাইয়া কবিরও কিডনি সংক্রমণে ভুগছেন। ফলে বাবা-মা ও ভাই-বোনের চিকিৎসা এবং সংসারের প্রয়োজন মেটানোর দায়িত্ব কার্যত তিথির ওপরই এসে পড়েছে।
টিউশনি থেকে পাওয়া সামান্য আয় দিয়ে ওষুধ কেনা ও সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ বহন করতে গিয়ে পরিবারের সঞ্চয়ও প্রায় শেষের পথে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়াও এখন দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।
নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার বয়সে তিথি এখন পরিবারের ভবিষ্যৎ বাঁচানোর লড়াই করছেন। অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন