মায়ের কবর ছেড়ে এক মুহূর্তও সরে না ছোট্ট হোসেন, বিশ্বাস—‘মা একদিন ফিরবেই’
রাজবাড়ীর নয়াবাদ এলাকার পাঁচ বছরের শিশু হোসেনের দিন এখন কাটে মায়ের কবরের পাশে। সকাল থেকে সন্ধ্যা, কখনো আবার রাতেও কবরের পাশেই বসে বা শুয়ে থাকে সে। সবার কাছে একটাই কথা বলে—“আমার মা একদিন ফিরে আসবে।”
কয়েকদিন আগেও মা-ই ছিল তার পুরো পৃথিবী। মায়ের হাতেই খাওয়া, মায়ের কোলে ঘুম, মায়ের সঙ্গেই সারাদিন কাটত ছোট্ট হোসেনের। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
জানা যায়, চার বছর আগে পান্না খাতুনের সঙ্গে স্বামী হুমায়ূনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর এক বছরের শিশু হোসেনকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। সেখানে বৃদ্ধ মা ও এক প্রতিবন্ধী বোনকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেন।
পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে একটি জুটমিলে চাকরি নেন পান্না। অল্প আয়ের মধ্যেও ছেলে, বৃদ্ধ মা ও প্রতিবন্ধী বোনকে নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। স্বপ্ন ছিল—অভাবের মধ্যেও ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।
কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
গত ৩০ জুন জুটমিল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পান্না খাতুন। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শুধু একটি প্রাণই ঝরে যায়নি, ভেঙে পড়েছে পুরো একটি পরিবার।
বৃদ্ধ মা হারিয়েছেন তার আদরের মেয়েকে, প্রতিবন্ধী বোন হারিয়েছেন একমাত্র অভিভাবককে, আর পাঁচ বছরের হোসেন হারিয়েছে তার পৃথিবীর সবচেয়ে আপন মানুষটিকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পান্নাই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তার মৃত্যুর পর বৃদ্ধ মা, প্রতিবন্ধী বোন ও ছোট্ট হোসেনকে নিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
তারা সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—যদি এই পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া যায়, তবে তিনটি অসহায় প্রাণ নতুন করে বেঁচে থাকার আশা পাবে।
ছোট্ট হোসেনের মায়ের জন্য অপেক্ষা হয়তো কোনোদিন শেষ হবে না। কিন্তু সমাজের সহানুভূতি ও সহযোগিতা হয়তো তার পরিবারের জীবনটাকে আবার একটু হলেও আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
মায়ের কবর ছেড়ে এক মুহূর্তও সরে না ছোট্ট হোসেন, বিশ্বাস—‘মা একদিন ফিরবেই’
রাজবাড়ীর নয়াবাদ এলাকার পাঁচ বছরের শিশু হোসেনের দিন এখন কাটে মায়ের কবরের পাশে। সকাল থেকে সন্ধ্যা, কখনো আবার রাতেও কবরের পাশেই বসে বা শুয়ে থাকে সে। সবার কাছে একটাই কথা বলে—“আমার মা একদিন ফিরে আসবে।”
কয়েকদিন আগেও মা-ই ছিল তার পুরো পৃথিবী। মায়ের হাতেই খাওয়া, মায়ের কোলে ঘুম, মায়ের সঙ্গেই সারাদিন কাটত ছোট্ট হোসেনের। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
জানা যায়, চার বছর আগে পান্না খাতুনের সঙ্গে স্বামী হুমায়ূনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর এক বছরের শিশু হোসেনকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। সেখানে বৃদ্ধ মা ও এক প্রতিবন্ধী বোনকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেন।
পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে একটি জুটমিলে চাকরি নেন পান্না। অল্প আয়ের মধ্যেও ছেলে, বৃদ্ধ মা ও প্রতিবন্ধী বোনকে নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। স্বপ্ন ছিল—অভাবের মধ্যেও ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।
কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
গত ৩০ জুন জুটমিল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পান্না খাতুন। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শুধু একটি প্রাণই ঝরে যায়নি, ভেঙে পড়েছে পুরো একটি পরিবার।
বৃদ্ধ মা হারিয়েছেন তার আদরের মেয়েকে, প্রতিবন্ধী বোন হারিয়েছেন একমাত্র অভিভাবককে, আর পাঁচ বছরের হোসেন হারিয়েছে তার পৃথিবীর সবচেয়ে আপন মানুষটিকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পান্নাই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তার মৃত্যুর পর বৃদ্ধ মা, প্রতিবন্ধী বোন ও ছোট্ট হোসেনকে নিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
তারা সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—যদি এই পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া যায়, তবে তিনটি অসহায় প্রাণ নতুন করে বেঁচে থাকার আশা পাবে।
ছোট্ট হোসেনের মায়ের জন্য অপেক্ষা হয়তো কোনোদিন শেষ হবে না। কিন্তু সমাজের সহানুভূতি ও সহযোগিতা হয়তো তার পরিবারের জীবনটাকে আবার একটু হলেও আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন