ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

মায়ের কব'র ছেড়ে এক মুহূর্তও সরে না ছোট্ট হোসেন, বিশ্বাস—‘মা একদিন ফিরবেই’

মায়ের কব'র ছেড়ে এক মুহূর্তও সরে না ছোট্ট হোসেন, বিশ্বাস—‘মা একদিন ফিরবেই’

মেয়েদের নিয়ে আশ্রয়ে যাচ্ছিলেন বাবা, নৌকা উল্টে ভেসে গেল ২ মেয়ে

মেয়েদের নিয়ে আশ্রয়ে যাচ্ছিলেন বাবা, নৌকা উল্টে ভেসে গেল ২ মেয়ে

বন্যার পানিতে নৌকাডুবি, দুই বোনের মর্মা'ন্তিক মৃ'ত্যু

বন্যার পানিতে নৌকাডুবি, দুই বোনের মর্মা'ন্তিক মৃ'ত্যু

দাদার পিছু পিছু দোকানে, নালার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল ৩ বছরের মোস্তাকিমের

দাদার পিছু পিছু দোকানে, নালার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল ৩ বছরের মোস্তাকিমের

‘মা শিক্ষিত হলে সন্তানও শিক্ষিত হবে’— ছেলের বউকে পড়াশোনা করিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন শাশুড়ি

‘মা শিক্ষিত হলে সন্তানও শিক্ষিত হবে’— ছেলের বউকে পড়াশোনা করিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন শাশুড়ি

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদ্রাসায় পাহাড়ধস, নি'হত ১; বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদ্রাসায় পাহাড়ধস, নি'হত ১; বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, তবু সালাহদের প্রশংসায় মিসরের প্রেসিডেন্ট

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, তবু সালাহদের প্রশংসায় মিসরের প্রেসিডেন্ট

শহীদরা কোনো দলের নয়, বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদিলের বাবার

শহীদরা কোনো দলের নয়, বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদিলের বাবার

একটাই কথা বলে—“আমার মা একদিন ফিরে আসবে।”

মায়ের কব'র ছেড়ে এক মুহূর্তও সরে না ছোট্ট হোসেন, বিশ্বাস—‘মা একদিন ফিরবেই’

মায়ের কব'র ছেড়ে এক মুহূর্তও সরে না ছোট্ট হোসেন, বিশ্বাস—‘মা একদিন ফিরবেই’

মায়ের কবর ছেড়ে এক মুহূর্তও সরে না ছোট্ট হোসেন, বিশ্বাস—‘মা একদিন ফিরবেই’

রাজবাড়ীর নয়াবাদ এলাকার পাঁচ বছরের শিশু হোসেনের দিন এখন কাটে মায়ের কবরের পাশে। সকাল থেকে সন্ধ্যা, কখনো আবার রাতেও কবরের পাশেই বসে বা শুয়ে থাকে সে। সবার কাছে একটাই কথা বলে—“আমার মা একদিন ফিরে আসবে।”

কয়েকদিন আগেও মা-ই ছিল তার পুরো পৃথিবী। মায়ের হাতেই খাওয়া, মায়ের কোলে ঘুম, মায়ের সঙ্গেই সারাদিন কাটত ছোট্ট হোসেনের। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

জানা যায়, চার বছর আগে পান্না খাতুনের সঙ্গে স্বামী হুমায়ূনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর এক বছরের শিশু হোসেনকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। সেখানে বৃদ্ধ মা ও এক প্রতিবন্ধী বোনকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেন।

পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে একটি জুটমিলে চাকরি নেন পান্না। অল্প আয়ের মধ্যেও ছেলে, বৃদ্ধ মা ও প্রতিবন্ধী বোনকে নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। স্বপ্ন ছিল—অভাবের মধ্যেও ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।

কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

গত ৩০ জুন জুটমিল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পান্না খাতুন। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শুধু একটি প্রাণই ঝরে যায়নি, ভেঙে পড়েছে পুরো একটি পরিবার।

বৃদ্ধ মা হারিয়েছেন তার আদরের মেয়েকে, প্রতিবন্ধী বোন হারিয়েছেন একমাত্র অভিভাবককে, আর পাঁচ বছরের হোসেন হারিয়েছে তার পৃথিবীর সবচেয়ে আপন মানুষটিকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পান্নাই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তার মৃত্যুর পর বৃদ্ধ মা, প্রতিবন্ধী বোন ও ছোট্ট হোসেনকে নিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

তারা সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—যদি এই পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া যায়, তবে তিনটি অসহায় প্রাণ নতুন করে বেঁচে থাকার আশা পাবে।

ছোট্ট হোসেনের মায়ের জন্য অপেক্ষা হয়তো কোনোদিন শেষ হবে না। কিন্তু সমাজের সহানুভূতি ও সহযোগিতা হয়তো তার পরিবারের জীবনটাকে আবার একটু হলেও আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


মায়ের কব'র ছেড়ে এক মুহূর্তও সরে না ছোট্ট হোসেন, বিশ্বাস—‘মা একদিন ফিরবেই’

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

মায়ের কবর ছেড়ে এক মুহূর্তও সরে না ছোট্ট হোসেন, বিশ্বাস—‘মা একদিন ফিরবেই’

রাজবাড়ীর নয়াবাদ এলাকার পাঁচ বছরের শিশু হোসেনের দিন এখন কাটে মায়ের কবরের পাশে। সকাল থেকে সন্ধ্যা, কখনো আবার রাতেও কবরের পাশেই বসে বা শুয়ে থাকে সে। সবার কাছে একটাই কথা বলে—“আমার মা একদিন ফিরে আসবে।”

কয়েকদিন আগেও মা-ই ছিল তার পুরো পৃথিবী। মায়ের হাতেই খাওয়া, মায়ের কোলে ঘুম, মায়ের সঙ্গেই সারাদিন কাটত ছোট্ট হোসেনের। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

জানা যায়, চার বছর আগে পান্না খাতুনের সঙ্গে স্বামী হুমায়ূনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর এক বছরের শিশু হোসেনকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। সেখানে বৃদ্ধ মা ও এক প্রতিবন্ধী বোনকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেন।

পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে একটি জুটমিলে চাকরি নেন পান্না। অল্প আয়ের মধ্যেও ছেলে, বৃদ্ধ মা ও প্রতিবন্ধী বোনকে নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। স্বপ্ন ছিল—অভাবের মধ্যেও ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।

কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

গত ৩০ জুন জুটমিল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পান্না খাতুন। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শুধু একটি প্রাণই ঝরে যায়নি, ভেঙে পড়েছে পুরো একটি পরিবার।

বৃদ্ধ মা হারিয়েছেন তার আদরের মেয়েকে, প্রতিবন্ধী বোন হারিয়েছেন একমাত্র অভিভাবককে, আর পাঁচ বছরের হোসেন হারিয়েছে তার পৃথিবীর সবচেয়ে আপন মানুষটিকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পান্নাই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তার মৃত্যুর পর বৃদ্ধ মা, প্রতিবন্ধী বোন ও ছোট্ট হোসেনকে নিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

তারা সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—যদি এই পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া যায়, তবে তিনটি অসহায় প্রাণ নতুন করে বেঁচে থাকার আশা পাবে।

ছোট্ট হোসেনের মায়ের জন্য অপেক্ষা হয়তো কোনোদিন শেষ হবে না। কিন্তু সমাজের সহানুভূতি ও সহযোগিতা হয়তো তার পরিবারের জীবনটাকে আবার একটু হলেও আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।



ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল