টিকটকের প্রেম, চীনা স্বামী, তারপর নরকযন্ত্রণা—চীনে বন্দি বাংলাদেশি তরুণীর আর্তনাদ
আঞ্জুয়ারা ভেবেছিলেন টিকটকে পরিচয়ের সেই চীনা যুবকের হাত ধরেই শুরু হবে নতুন জীবন। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। সুদূর চীনের একটি কক্ষে বন্দি হয়ে তিনি এখন শুধু দেশে ফেরার আকুতি জানাচ্ছেন।
ভিডিও কলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আঞ্জুয়ারা জানান, টিকটকে এক চীনা যুবকের সঙ্গে পরিচয়ের পর প্রেম, পরে বিয়ে। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী তাকে চীনে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই তিনি জানতে পারেন, তাকে প্রায় ১ লাখ ইয়েনে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
তার অভিযোগ, এখন মুক্তি পেতে হলে ২৬ লাখ টাকা দিতে হবে। বন্দিদশায় অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। একটি ছোট কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে, যেখানে নেই ফ্যান বা ন্যূনতম প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা। দুই দিন পরপর একবার খাবার দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত এক বছরে চার শতাধিক বাংলাদেশি নারীকে চীনে পাচার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আঞ্জুয়ারার কান্না শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি সমাজের জন্যও এক কঠিন সতর্কবার্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্কতা, পারিবারিক সচেতনতা এবং মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
টিকটকের প্রেম, চীনা স্বামী, তারপর নরকযন্ত্রণা—চীনে বন্দি বাংলাদেশি তরুণীর আর্তনাদ
আঞ্জুয়ারা ভেবেছিলেন টিকটকে পরিচয়ের সেই চীনা যুবকের হাত ধরেই শুরু হবে নতুন জীবন। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। সুদূর চীনের একটি কক্ষে বন্দি হয়ে তিনি এখন শুধু দেশে ফেরার আকুতি জানাচ্ছেন।
ভিডিও কলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আঞ্জুয়ারা জানান, টিকটকে এক চীনা যুবকের সঙ্গে পরিচয়ের পর প্রেম, পরে বিয়ে। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী তাকে চীনে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই তিনি জানতে পারেন, তাকে প্রায় ১ লাখ ইয়েনে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
তার অভিযোগ, এখন মুক্তি পেতে হলে ২৬ লাখ টাকা দিতে হবে। বন্দিদশায় অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। একটি ছোট কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে, যেখানে নেই ফ্যান বা ন্যূনতম প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা। দুই দিন পরপর একবার খাবার দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত এক বছরে চার শতাধিক বাংলাদেশি নারীকে চীনে পাচার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আঞ্জুয়ারার কান্না শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি সমাজের জন্যও এক কঠিন সতর্কবার্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্কতা, পারিবারিক সচেতনতা এবং মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন