বাবা-মা হত্যা মামলায় দণ্ডিত ঐশী, ১৩ বছর পর এখন কারাগারের লাইব্রেরিয়ানসম্ভাব্য
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থেকে কারাগারের লাইব্রেরিয়ান—ঐশী রহমানের ১৩ বছরের বন্দিজীবন
একসময় চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখতেন পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের মেয়ে ঐশী রহমান। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হয়নি। বাবা-মাকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত হয়ে গত প্রায় ১৩ বছর ধরে কারাগারেই কাটছে তার জীবন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে লাইব্রেরিয়ানের দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর চামেলীবাগে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন নিহতের ভাই পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই দিন ঐশী রহমান থানায় আত্মসমর্পণ করে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
মামলার বিচার শেষে ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর নিম্ন আদালত ঐশী রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় তার বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং অপর বন্ধু জনিকে খালাস দেওয়া হয়। পরে ঐশী আপিল করলে ২০১৭ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করেন।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সাধারণত ৩০ বছরের হিসেবে বিবেচিত হয়। সে হিসাবে ঐশী ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ বছর কারাভোগ করেছেন। কারা বিধি অনুযায়ী ভালো আচরণ ও নিয়ম মেনে চলার ভিত্তিতে সাজা আংশিক মওকুফের সুযোগ থাকলেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়ে থাকে।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঐশী বর্তমানে কারাগারের লাইব্রেরিতে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে তিনি লাইব্রেরির কাজ করেন এবং অবসর সময়ে ইংরেজি গল্প-উপন্যাস পড়েন। তিনি ইংরেজি ভাষায় দক্ষ, স্বভাবে শান্ত ও সংযত। পাশাপাশি তিনি হাঁপানিতে ভুগছেন। বই পড়ার পাশাপাশি কারাগারের ফুলের বাগানের পরিচর্যাতেও আগ্রহী তিনি।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, সাক্ষ্য-প্রমাণ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো উপাদান থাকলেও কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তার সাজা কমানো হয়েছে। আদালত উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় ঐশীর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর, তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং ঘটনার পেছনে সুস্পষ্ট উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, সে সময় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায়ও ভুগছিলেন।
রায়ে আদালত আরও মন্তব্য করেন, একজন সন্তানের প্রথম ও প্রধান শিক্ষক তার বাবা-মা ও অভিভাবক। সন্তানকে সুষ্ঠু পারিবারিক পরিবেশ, যথাযথ দিকনির্দেশনা ও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের মতে, ঐশীর জীবনে সেই পরিবেশ ও যত্নের ঘাটতি ছিল বলেই মামলার প্রেক্ষাপট মূল্যায়নের সময় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
বাবা-মা হত্যা মামলায় দণ্ডিত ঐশী, ১৩ বছর পর এখন কারাগারের লাইব্রেরিয়ানসম্ভাব্য
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থেকে কারাগারের লাইব্রেরিয়ান—ঐশী রহমানের ১৩ বছরের বন্দিজীবন
একসময় চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখতেন পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের মেয়ে ঐশী রহমান। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হয়নি। বাবা-মাকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত হয়ে গত প্রায় ১৩ বছর ধরে কারাগারেই কাটছে তার জীবন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে লাইব্রেরিয়ানের দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর চামেলীবাগে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন নিহতের ভাই পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই দিন ঐশী রহমান থানায় আত্মসমর্পণ করে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
মামলার বিচার শেষে ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর নিম্ন আদালত ঐশী রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় তার বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং অপর বন্ধু জনিকে খালাস দেওয়া হয়। পরে ঐশী আপিল করলে ২০১৭ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করেন।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সাধারণত ৩০ বছরের হিসেবে বিবেচিত হয়। সে হিসাবে ঐশী ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ বছর কারাভোগ করেছেন। কারা বিধি অনুযায়ী ভালো আচরণ ও নিয়ম মেনে চলার ভিত্তিতে সাজা আংশিক মওকুফের সুযোগ থাকলেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়ে থাকে।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঐশী বর্তমানে কারাগারের লাইব্রেরিতে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে তিনি লাইব্রেরির কাজ করেন এবং অবসর সময়ে ইংরেজি গল্প-উপন্যাস পড়েন। তিনি ইংরেজি ভাষায় দক্ষ, স্বভাবে শান্ত ও সংযত। পাশাপাশি তিনি হাঁপানিতে ভুগছেন। বই পড়ার পাশাপাশি কারাগারের ফুলের বাগানের পরিচর্যাতেও আগ্রহী তিনি।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, সাক্ষ্য-প্রমাণ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো উপাদান থাকলেও কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তার সাজা কমানো হয়েছে। আদালত উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় ঐশীর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর, তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং ঘটনার পেছনে সুস্পষ্ট উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, সে সময় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায়ও ভুগছিলেন।
রায়ে আদালত আরও মন্তব্য করেন, একজন সন্তানের প্রথম ও প্রধান শিক্ষক তার বাবা-মা ও অভিভাবক। সন্তানকে সুষ্ঠু পারিবারিক পরিবেশ, যথাযথ দিকনির্দেশনা ও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের মতে, ঐশীর জীবনে সেই পরিবেশ ও যত্নের ঘাটতি ছিল বলেই মামলার প্রেক্ষাপট মূল্যায়নের সময় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন