ভোট ডাকাতির পথপ্রদর্শক শেখ মুজিব?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক নির্বাচনই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। অধিকাংশ নির্বাচনই নানা অনিয়ম, কারচুপি ও বিতর্কে জর্জরিত ছিল। এই প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনী সংস্কৃতির সূচনা ঘটে স্বাধীনতার পরপরই।
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন ছিল গণতন্ত্রের পথে জাতির প্রথম বড় পরীক্ষা। কিন্তু সেই পরীক্ষায় রাষ্ট্র ও শাসকগোষ্ঠী ব্যর্থ হয় বলে বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষকের অভিমত। তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ব্যাপক ও নজিরবিহীন কারচুপির আশ্রয় নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিরোধী দল ও স্বাধীন প্রার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন, ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচনটি শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
এই নির্বাচনের ফলাফল ছিল আরও উদ্বেগজনক। আওয়ামী লীগ কার্যত একচেটিয়া ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করে বিরোধী দলবিহীন সংসদ গঠন করে। ফলে স্বাধীনতার পর যে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শক্তিশালী সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে ওঠার কথা ছিল, তা শুরুতেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংসদ পরিণত হয় একদলীয় সিদ্ধান্ত অনুমোদনের যন্ত্রে।
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনই ভবিষ্যতের ‘ভোট কারচুপির রাজনীতি’র ভিত্তি গড়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ধরে রাখতে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়তে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় দেখা যায় ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, ১৯৭৫ সালের একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমাগত দুর্বলতা।
সমালোচকদের ভাষায়, শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেই নির্বাচনকে জনগণের অধিকার নয়, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সংস্কৃতি চালু হয়। সেই সংস্কৃতির উত্তরাধিকার বহন করে পরবর্তী শাসকরাও নানা সময়ে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের আয়োজন করেছে।
ফলে স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা আজও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। ইতিহাসের এই অধ্যায় নতুন করে প্রশ্ন তোলে—গণতন্ত্রের পথ কি সত্যিই স্বাধীনতার পর থেকেই ভুল দিকে মোড় নিয়েছিল?

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোট ডাকাতির পথপ্রদর্শক শেখ মুজিব?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক নির্বাচনই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। অধিকাংশ নির্বাচনই নানা অনিয়ম, কারচুপি ও বিতর্কে জর্জরিত ছিল। এই প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনী সংস্কৃতির সূচনা ঘটে স্বাধীনতার পরপরই।
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন ছিল গণতন্ত্রের পথে জাতির প্রথম বড় পরীক্ষা। কিন্তু সেই পরীক্ষায় রাষ্ট্র ও শাসকগোষ্ঠী ব্যর্থ হয় বলে বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষকের অভিমত। তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ব্যাপক ও নজিরবিহীন কারচুপির আশ্রয় নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিরোধী দল ও স্বাধীন প্রার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন, ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচনটি শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
এই নির্বাচনের ফলাফল ছিল আরও উদ্বেগজনক। আওয়ামী লীগ কার্যত একচেটিয়া ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করে বিরোধী দলবিহীন সংসদ গঠন করে। ফলে স্বাধীনতার পর যে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শক্তিশালী সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে ওঠার কথা ছিল, তা শুরুতেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংসদ পরিণত হয় একদলীয় সিদ্ধান্ত অনুমোদনের যন্ত্রে।
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনই ভবিষ্যতের ‘ভোট কারচুপির রাজনীতি’র ভিত্তি গড়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ধরে রাখতে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়তে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় দেখা যায় ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, ১৯৭৫ সালের একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমাগত দুর্বলতা।
সমালোচকদের ভাষায়, শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেই নির্বাচনকে জনগণের অধিকার নয়, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সংস্কৃতি চালু হয়। সেই সংস্কৃতির উত্তরাধিকার বহন করে পরবর্তী শাসকরাও নানা সময়ে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের আয়োজন করেছে।
ফলে স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা আজও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। ইতিহাসের এই অধ্যায় নতুন করে প্রশ্ন তোলে—গণতন্ত্রের পথ কি সত্যিই স্বাধীনতার পর থেকেই ভুল দিকে মোড় নিয়েছিল?

আপনার মতামত লিখুন