তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাওউঃসাংবাদিক তুহিনের বাবা
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৫
সন্ত্রাসী হামলায় গাজীপুরে নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া মৌলভীবাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাবা-মা আর বোনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম সেখানকার বাতাস চারপাশ । সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ছুটে আসছেন প্রতিবেশীরাও। তুহিনের বাবা কেবলই বললো, আমি কারও ক্ষতি চাই না, তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও।
বাবা-মা আর বোনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে নিহত সাংবাদিক তুহিনের বাড়ি।জানা যায়, নিহত তুহিন স্থানীয় বাসিন্দা হাসান জামিল ও সাহাবিয়া খাতুন বকুল দম্পতির ২ মেয়ে ও ৫ ছেলের মধ্যে সবার ছোট। স্থানীয় আল হেরা একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে মাধ্যমিক পাস করে। এরপর সিলেট কোম্পানিগঞ্জের এম. সাইফুর রহমান কলেজ থেকে ২০০৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস শুরু করেন।তুহিনের বন্ধু আজিজুর রহমান বলেছেন, গাজীপুরে স্ত্রী মুক্তা বেগম ও দুই ছেলে সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতো তুহিন। এর মধ্যে বড় ছেলের বয়স ৭ আর ছোট ছেলের বয়স ৩ বছর। গাজীপুরে তিনি একটি ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করতো এবং একটি ক্লিনিক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলো। পাশাপাশি গত ৩ থেকে ৪ বছর ধরে তিনি সাংবাদিকতায় যুক্ত।
ছেলেকে হারিয়ে পাগল প্রায় বৃদ্ধ বাবা হাসাল জামিল।
এ সময় আহাজারি করে তিনি বলেন,মায়ের চিকিৎসা করানোর জন্য বাড়িতে এসে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এখন আমার ছেলেই নেই। কী অপরাধ করেছিল আমার ছেলে? কী অন্যায় করেছিল সে? কেনো এমন হলো। আমি কারও ক্ষতি চাই না। তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও।গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৫ জন।
তুহিনের মা সাহাবিয়া খাতুন বকুল বললো,গত পরশু আমার ছেলে তার বাবার জন্য ওষুধ কেনার টাকা পাঠায়। সে মোবাইলে কল করে আমার দুই নাতির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। এরপর আর কোনো কথা হয়নি। আমার বাবারে কারা মারলো। কী দোষ তার?
তুহিনের বড় ভাইয়ের স্ত্রী নূরুন্নাহার বেগম বললো,যারা তুহিনকে মেরেছে। তাদের ফাঁসি চাই। তারা মানুষ না, অমানুষ। এমন করে কেউ কোনো মানুষকে মারতে পারে না।ভাগ্নে আবু রায়হান বলেন,মামা (তুহিন) ব্যবসার পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে সাংবাদিকতা করতো। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। আমরা তার খুনিদের ফাঁসি চাই।
জানা যায়, তুহিনের বড় ভাই জসিম উদ্দিন গাজীপুর চৌরাস্তায় ব্যবসা করতেন। লেখাপড়া শেষ সেখানেই সে বড় ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। তবে ২০০৯ বা ১০ সালের দিকে হঠাৎ ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বর্তমানে তুহিন ও অপর ভাই সেলিম গাজীপুরে বসবাস করতো। এর মধ্যে সেলিম পরিবহন শ্রমিকের কাজ করছে। দ্বিতীয় ভাই জাহাঙ্গীর আলম কক্সবাজার টেকনাফে পরিবার নিয়ে বসবাস করে এবং অন্য ভাই শাজাহান মিয়া বর্তমানে সিলেটে বসবাস করে। তাদের দুই বোনের বিয়ে যায় বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা ও মা বসবাস করেন। তারা বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। ছেলেরাই তাদের দেখাশোনা করে আসছে।
গাজীপুরে সাংবাদিক হত্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তীব্র ক্ষোভ
তুহিনের বন্ধু নাসির উদ্দিন বলেন,গত কোরবানির ঈদে বাড়ি আসছিল তুহিন। একদিন বাড়ি থেকে পরদিনই সে গাজীপুর চলে যায়। এরপর তিনি আর বাড়ি আসে নাই।তুহিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নাসির উদ্দিন বললেন ‘এভাবে কোনো মানুষকে কেউ হত্যা করতে পারে না। আমরা হত্যাকারিদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বাদ জুম্মা প্রথম জানাজা শেষে তুহিনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর বাদ মাগরিব দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন