লাপাত্তা ঠিকাদার, অনিশ্চয়তায় ১০৫ কোটির চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৫
লাপাত্তা ঠিকাদার, অনিশ্চয়তায় ১০৫ কোটির চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল
চাঁদপুর নদীবন্দরের যাত্রীদের বহু প্রতীক্ষিত লঞ্চ টার্মিনাল নির্মাণ কাজ এখন থমকে আছে। প্রায় ১০৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা বিল্ডার্স কাজ ফেলে রেখে গা-ঢাকা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রতিদিন হাজারো লঞ্চযাত্রী।
সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের ভিত্তি নির্মাণ সম্পন্ন হলেও পিলারগুলোতে ইতিমধ্যেই মরিচা ধরেছে। নির্মাণ সামগ্রীও পড়ে আছে অব্যবস্থাপনায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় ঠিকাদারের কিছু মালামাল লুটপাট হয়ে গেছে। বিকল্প হিসেবে বিআইডব্লিউটিএ অস্থায়ী পন্টুন ও গ্যাংওয়ে বসিয়েছে, যা দিয়ে যাত্রী ওঠানামা করলেও বিশ্রামাগার, টয়লেটসহ মৌলিক সুবিধার কোনো ব্যবস্থা নেই। এতে নারী, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ জানায়, ২০২২ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আধুনিক তিনতলা লঞ্চ টার্মিনাল নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুই বছরের মধ্যেই যাত্রীসেবায় এটি চালুর লক্ষ্য ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর প্রতিষ্ঠানটির মালিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক বছির আলী খান বলেন, “ঠিকাদার দেশ ছাড়ার পর তার কর্মীরাও চলে যায়। ফলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।”
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন জানান, পুরনো ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তার আশা, দ্রুতই কাজ পুনরায় শুরু হবে।
প্রকল্পের ব্যয় প্রথমে ৬৭ কোটি টাকা ধরা হলেও পরবর্তীতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ঠিকাদার নিয়োগের পর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৬ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো টার্মিনাল চালু হতে পারে।
দেশের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর চাঁদপুরে যাত্রীদের দীর্ঘ ভোগান্তি দূর করতে স্থানীয়রা চাইছেন দ্রুত কাজ শেষ হোক এবং আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধাসহ টার্মিনালটি চালু করা হোক
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন