ইসলামি দলগুলোর যুগপৎ আন্দোলন শুরু
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ইসলামি দলগুলোর যুগপৎ আন্দোলন শুরু
বাংলাদেশের কয়েকটি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে পাঁচ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে নামছে। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসতেই হঠাৎ এই কর্মসূচি কেন—এ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। যদিও তাদের দাবির সঙ্গে ন্যাশনাল কনসেন্সাস পার্টি (এনসিপি)-র প্রস্তাবের বেশ মিল রয়েছে, তবে এনসিপি এই আন্দোলনে যুক্ত হয়নি।
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস ইতোমধ্যেই আলাদাভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাদের পাঁচ দফায় রয়েছে—জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন, সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি প্রবর্তন, সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা, সরকারের দুর্নীতি ও নিপীড়নের বিচার এবং জাতীয় পার্টি ও মহাজোটভুক্ত ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ।
এ আন্দোলনে শরিক হচ্ছে নেজামে ইসলামী পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাগপা। তবে এনসিপি, এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ বলেছে—তারা অধিকাংশ দাবির সঙ্গে একমত হলেও যুগপৎ কর্মসূচিতে থাকবে না।
বিএনপির ভিন্ন অবস্থান
দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন বা সংসদে পিআর পদ্ধতির বিপক্ষে। তারা মনে করছে, নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের মতো অন্য দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপির শীর্ষ নেতারা এটিকে নির্বাচনের সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে দেখছেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা দিয়েছেন, বিএনপি এর রাজনৈতিক জবাব রাজপথেই দেবে। অন্যদিকে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন, জামায়াত ও সমমনা দলগুলো আসলে নির্বাচন পেছাতে চাইছে, বিএনপিকে একঘরে প্রমাণ করতে চাইছে এবং নিজেদের আসন সংখ্যা বাড়ানোর হিসাব করছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, “কোনো বিশৃঙ্খলা হলে তার দায় নিতে হবে জামায়াত ও শরিকদের।”
জামায়াত ও শরিকদের অবস্থান
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দাবি করেছেন, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব। ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক বলেছেন, “আমরা চাই জুলাই সনদের আলোকে এখনই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হোক।”
নেজামে ইসলামী পার্টির মহাসচিব মুসা বিন এজহার মনে করেন, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ না হলে আওয়ামী লীগ আবারও পুনর্বাসিত হবে। অন্যদিকে এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদ বলছে, তারা চাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান—রাজপথ উত্তপ্ত করা নয়।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. জাহেদ উর রহমানের মতে, জামায়াতকেন্দ্রিক এই উদ্যোগ বিএনপির ওপর চাপ সৃষ্টি ও নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কৌশল। অপর বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার মনে করেন, ইসলামি দলগুলো ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পিছিয়ে নিজেদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে চাইছে।
সামনের কর্মসূচি
জামায়াত ও শরিক দলগুলো ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায়, ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর সারাদেশে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তারা জানিয়েছে, দাবিগুলো পূরণ না হলে পর্যায়ক্রমে আরো কঠোর আন্দোলন চালানো হবে।
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন