শূন্য থেকে বাংলাদেশের আইন, প্রথম বিসিএসেই পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১৭তম—বিজেএসে দ্বিতীয় সাবা ইমা
University of London থেকে আইন পড়লেও স্নাতক পর্যায়ে বাংলাদেশের কোনো আইন পড়ার সুযোগ হয়নি সাবা ইমার। কিন্তু সম্মানজনক জীবিকার লক্ষ্যে ২০২৪ সালে একেবারে শূন্য থেকে বাংলাদেশের আইন পড়া শুরু করেন তিনি। একই সময়ে বিসিএস ও বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের প্রস্তুতি নিয়ে অর্জন করেছেন ব্যতিক্রমী সাফল্য।
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ২০১৯ সালের শিক্ষার্থী সাবা ইমা পরে University of London থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন। বিদেশে আইন পড়ার কারণে বাংলাদেশের আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ছিল না। তাই ২০২৪ সাল থেকে নিজের উদ্যোগে ৩০টির বেশি বাংলাদেশি আইন পড়তে শুরু করেন তিনি।
এরপর একের পর এক কঠিন পরীক্ষায় অংশ নেন সাবা। ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা, ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা এবং ৫০তম বিসিএসের পরীক্ষাতেও অংশ নেন তিনি।
সাফল্যও আসে ধারাবাহিকভাবে। ৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে মেধাক্রম ১৭ নিয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হন সাবা ইমা। এটি ছিল তাঁর প্রথম বিসিএস এবং প্রথম চাকরির পরীক্ষা। এরপর ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের চূড়ান্ত ফলাফলে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি।
বিসিএসের ভাইবাতেও আইনভিত্তিক জ্ঞান কাজে লাগান সাবা। সেখানে আইন, নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার, অর্থনীতি, শ্রম অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। equality ও equity-এর পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি equity-কে গুরুত্ব দেন এবং নারীর ক্ষমতায়নে শিক্ষা, রাজনীতি ও শ্রম অভিবাসনের বিষয় তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ভাইবায় mens rea ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি।
সাবার এই সাফল্যের বিশেষ দিক হলো—বাংলাদেশি আইনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ ছাড়াই তিনি শূন্য থেকে দেশের আইন আয়ত্ত করে প্রচলিত ধারার আইন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। তাঁর মতে, এই যাত্রা তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন।
ভবিষ্যৎ পরীক্ষার্থীদের জন্য তাঁর পরামর্শ—পরীক্ষার সময় নার্ভ শক্ত রাখা, নিজের ভালো দিকগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা এবং ইংরেজিতে কথা বলার জড়তা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভাইবায় অংশ নেওয়া।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শূন্য থেকে বাংলাদেশের আইন, প্রথম বিসিএসেই পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১৭তম—বিজেএসে দ্বিতীয় সাবা ইমা
University of London থেকে আইন পড়লেও স্নাতক পর্যায়ে বাংলাদেশের কোনো আইন পড়ার সুযোগ হয়নি সাবা ইমার। কিন্তু সম্মানজনক জীবিকার লক্ষ্যে ২০২৪ সালে একেবারে শূন্য থেকে বাংলাদেশের আইন পড়া শুরু করেন তিনি। একই সময়ে বিসিএস ও বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের প্রস্তুতি নিয়ে অর্জন করেছেন ব্যতিক্রমী সাফল্য।
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ২০১৯ সালের শিক্ষার্থী সাবা ইমা পরে University of London থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন। বিদেশে আইন পড়ার কারণে বাংলাদেশের আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ছিল না। তাই ২০২৪ সাল থেকে নিজের উদ্যোগে ৩০টির বেশি বাংলাদেশি আইন পড়তে শুরু করেন তিনি।
এরপর একের পর এক কঠিন পরীক্ষায় অংশ নেন সাবা। ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা, ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা এবং ৫০তম বিসিএসের পরীক্ষাতেও অংশ নেন তিনি।
সাফল্যও আসে ধারাবাহিকভাবে। ৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে মেধাক্রম ১৭ নিয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হন সাবা ইমা। এটি ছিল তাঁর প্রথম বিসিএস এবং প্রথম চাকরির পরীক্ষা। এরপর ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের চূড়ান্ত ফলাফলে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি।
বিসিএসের ভাইবাতেও আইনভিত্তিক জ্ঞান কাজে লাগান সাবা। সেখানে আইন, নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার, অর্থনীতি, শ্রম অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। equality ও equity-এর পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি equity-কে গুরুত্ব দেন এবং নারীর ক্ষমতায়নে শিক্ষা, রাজনীতি ও শ্রম অভিবাসনের বিষয় তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ভাইবায় mens rea ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি।
সাবার এই সাফল্যের বিশেষ দিক হলো—বাংলাদেশি আইনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ ছাড়াই তিনি শূন্য থেকে দেশের আইন আয়ত্ত করে প্রচলিত ধারার আইন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। তাঁর মতে, এই যাত্রা তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন।
ভবিষ্যৎ পরীক্ষার্থীদের জন্য তাঁর পরামর্শ—পরীক্ষার সময় নার্ভ শক্ত রাখা, নিজের ভালো দিকগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা এবং ইংরেজিতে কথা বলার জড়তা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভাইবায় অংশ নেওয়া।

আপনার মতামত লিখুন