ঢাবিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক খ্যাতি—বাংলাদেশি পদার্থবিজ্ঞানী সুলতানা নাহারের অনন্য যাত্রা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর একাডেমিক যাত্রা। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—দুই পর্যায়েই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে অর্জন করেন অসাধারণ সাফল্য। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ওয়েইন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন ওহাইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে।
তিনি বাংলাদেশি পদার্থবিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষক সুলতানা নাহার।
পরমাণু পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। পরমাণুর আচরণ, আলো ও পদার্থের পারস্পরিক ক্রিয়া, ইলেকট্রন-আয়নের взаимодействা এবং মহাকাশের অতি উত্তপ্ত গ্যাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন তিনি।
বিশেষ করে মহাকাশে বিভিন্ন মৌলের আচরণ, লোহা ও ভারী মৌলের পরমাণুগত প্রক্রিয়া এবং মহাজাগতিক বস্তুর আলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে নক্ষত্র ও মহাবিশ্বের ভৌত বৈশিষ্ট্য বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ।
সুলতানা নাহারের গবেষণার আরেকটি দিক হলো মহাকাশবিজ্ঞানের জ্ঞানকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সম্ভাব্য প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করা। এক্স-রে ও আলোকবর্ণালিবিজ্ঞানের গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসার চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের সম্ভাব্য প্রয়োগ নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।
দীর্ঘ গবেষণা জীবনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন সুলতানা নাহার। তিনি আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি ও দ্য ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো। বাংলাদেশ ফিজিক্যাল সোসাইটি ও বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সঙ্গেও তাঁর ফেলোশিপ রয়েছে। আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির জন হুইটলি পুরস্কারের পাশাপাশি ২০২৫ সালে তিনি উইলিয়াম এ ফাউলার পুরস্কারও পান।
গবেষণার পাশাপাশি বিজ্ঞান শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও কাজ করেছেন তিনি। ২০১০ সালে ওহাইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম নারী বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুলতানা নাহার।
অধ্যাপক অনিল কে প্রাধানের সঙ্গে তাঁর লেখা ‘অ্যাটমিক অ্যাস্ট্রোফিজিক্স অ্যান্ড স্পেকট্রোস্কোপি’ বইটি কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমানে ওহাইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগে গবেষণা অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত আছেন সুলতানা নাহার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী থেকে আন্তর্জাতিক গবেষক হয়ে ওঠার তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাবিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক খ্যাতি—বাংলাদেশি পদার্থবিজ্ঞানী সুলতানা নাহারের অনন্য যাত্রা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর একাডেমিক যাত্রা। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—দুই পর্যায়েই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে অর্জন করেন অসাধারণ সাফল্য। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ওয়েইন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন ওহাইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে।
তিনি বাংলাদেশি পদার্থবিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষক সুলতানা নাহার।
পরমাণু পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। পরমাণুর আচরণ, আলো ও পদার্থের পারস্পরিক ক্রিয়া, ইলেকট্রন-আয়নের взаимодействা এবং মহাকাশের অতি উত্তপ্ত গ্যাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন তিনি।
বিশেষ করে মহাকাশে বিভিন্ন মৌলের আচরণ, লোহা ও ভারী মৌলের পরমাণুগত প্রক্রিয়া এবং মহাজাগতিক বস্তুর আলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে নক্ষত্র ও মহাবিশ্বের ভৌত বৈশিষ্ট্য বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ।
সুলতানা নাহারের গবেষণার আরেকটি দিক হলো মহাকাশবিজ্ঞানের জ্ঞানকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সম্ভাব্য প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করা। এক্স-রে ও আলোকবর্ণালিবিজ্ঞানের গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসার চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের সম্ভাব্য প্রয়োগ নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।
দীর্ঘ গবেষণা জীবনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন সুলতানা নাহার। তিনি আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি ও দ্য ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো। বাংলাদেশ ফিজিক্যাল সোসাইটি ও বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সঙ্গেও তাঁর ফেলোশিপ রয়েছে। আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির জন হুইটলি পুরস্কারের পাশাপাশি ২০২৫ সালে তিনি উইলিয়াম এ ফাউলার পুরস্কারও পান।
গবেষণার পাশাপাশি বিজ্ঞান শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও কাজ করেছেন তিনি। ২০১০ সালে ওহাইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম নারী বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুলতানা নাহার।
অধ্যাপক অনিল কে প্রাধানের সঙ্গে তাঁর লেখা ‘অ্যাটমিক অ্যাস্ট্রোফিজিক্স অ্যান্ড স্পেকট্রোস্কোপি’ বইটি কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমানে ওহাইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগে গবেষণা অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত আছেন সুলতানা নাহার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী থেকে আন্তর্জাতিক গবেষক হয়ে ওঠার তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

আপনার মতামত লিখুন