বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চীন ও পাকিস্তান
জে-১০সিই যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন কেনার উদ্যোগ
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বাড়ছে। চীনের কাছ থেকে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও ইউএভি (ড্রোন) সংগ্রহের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গেও যুদ্ধবিমান, প্রশিক্ষণ ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার চীনের তৈরি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে একটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে। বিষয়টি অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া গেলে চলতি অর্থবছরেই ক্রয়প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হতে পারে; তা সম্ভব না হলে পরবর্তী অর্থবছরে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যা, মূল্য ও সরবরাহের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নিশ্চিত হয়নি। যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, লজিস্টিক সহায়তা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও এই ধরনের প্রতিরক্ষা ক্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গেও বাংলাদেশের সামরিক যোগাযোগ সাম্প্রতিক সময়ে জোরদার হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুই দেশের বিমানবাহিনীর প্রধানদের মধ্যে সম্ভাব্য জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ-প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, জে-১০সিই কেনার উদ্যোগকে শুধু যুদ্ধবিমান সংগ্রহ হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকায়ন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক কৌশলগত বাস্তবতার বিষয়ও জড়িত।
চীনা যুদ্ধবিমান তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর পাশাপাশি পাইলট ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশের সরবরাহ, দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে।
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। নতুন যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্যোগ সেই সহযোগিতাকে আরও গভীর করতে পারে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চীন ও পাকিস্তান
জে-১০সিই যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন কেনার উদ্যোগ
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বাড়ছে। চীনের কাছ থেকে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও ইউএভি (ড্রোন) সংগ্রহের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গেও যুদ্ধবিমান, প্রশিক্ষণ ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার চীনের তৈরি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে একটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে। বিষয়টি অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া গেলে চলতি অর্থবছরেই ক্রয়প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হতে পারে; তা সম্ভব না হলে পরবর্তী অর্থবছরে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যা, মূল্য ও সরবরাহের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নিশ্চিত হয়নি। যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, লজিস্টিক সহায়তা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও এই ধরনের প্রতিরক্ষা ক্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গেও বাংলাদেশের সামরিক যোগাযোগ সাম্প্রতিক সময়ে জোরদার হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুই দেশের বিমানবাহিনীর প্রধানদের মধ্যে সম্ভাব্য জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ-প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, জে-১০সিই কেনার উদ্যোগকে শুধু যুদ্ধবিমান সংগ্রহ হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকায়ন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক কৌশলগত বাস্তবতার বিষয়ও জড়িত।
চীনা যুদ্ধবিমান তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর পাশাপাশি পাইলট ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশের সরবরাহ, দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে।
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। নতুন যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্যোগ সেই সহযোগিতাকে আরও গভীর করতে পারে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

আপনার মতামত লিখুন