ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের বর্তমান অবস্থান সেই প্রচেষ্টাকে কিছুটা ধাক্কা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পাকিস্তানে যাচ্ছে না ইরান!

  যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পাকিস্তানে যাচ্ছে না ইরান!

বর্তমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও উত্তেজনা ঘনীভূত হচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর সম্পর্ককে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরেই নানা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলমান থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেই আলোচনার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসে পাকিস্তান, যেখানে ইসলামাবাদে একটি বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনাও করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা আপাতত ভেস্তে গেছে।

ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, তারা এখনই পাকিস্তানে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়। তেহরানের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো পারস্পরিক অবিশ্বাস। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বারবার আলোচনার নামে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। ইরান মনে করে, এই ধরনের একতরফা চাপের মধ্যে বসে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব নয়।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক উপস্থিতিও ইরানের অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তেহরানের অবস্থান পরিষ্কার—প্রথমে এই চাপ ও নিষেধাজ্ঞার পরিবেশ পরিবর্তন করতে হবে, তারপরই তারা আলোচনার কথা ভাববে। অর্থাৎ, ইরান এখন “শর্ত পূরণ আগে, আলোচনা পরে” নীতিতেই অটল রয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান এখনও কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দুই পক্ষকে এক টেবিলে আনতে। ইসলামাবাদ মনে করে, এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইরানের বর্তমান অবস্থান সেই প্রচেষ্টাকে কিছুটা ধাক্কা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব পড়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক রাজনীতিতে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের ওপর এর সরাসরি প্রভাব দেখা যায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও, আপাতত তা খুলছে না। ইরান তাদের অবস্থানে অনড়, আর যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের নীতিতে অটল। এর মাঝে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার চেষ্টা চলমান থাকলেও, কবে নাগাদ দুই দেশ আবার আলোচনায় বসবে—তা এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পাকিস্তানে যাচ্ছে না ইরান!

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বর্তমান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও উত্তেজনা ঘনীভূত হচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর সম্পর্ককে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরেই নানা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলমান থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেই আলোচনার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসে পাকিস্তান, যেখানে ইসলামাবাদে একটি বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনাও করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা আপাতত ভেস্তে গেছে।

ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, তারা এখনই পাকিস্তানে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়। তেহরানের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো পারস্পরিক অবিশ্বাস। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বারবার আলোচনার নামে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। ইরান মনে করে, এই ধরনের একতরফা চাপের মধ্যে বসে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব নয়।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক উপস্থিতিও ইরানের অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তেহরানের অবস্থান পরিষ্কার—প্রথমে এই চাপ ও নিষেধাজ্ঞার পরিবেশ পরিবর্তন করতে হবে, তারপরই তারা আলোচনার কথা ভাববে। অর্থাৎ, ইরান এখন “শর্ত পূরণ আগে, আলোচনা পরে” নীতিতেই অটল রয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান এখনও কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দুই পক্ষকে এক টেবিলে আনতে। ইসলামাবাদ মনে করে, এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইরানের বর্তমান অবস্থান সেই প্রচেষ্টাকে কিছুটা ধাক্কা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব পড়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক রাজনীতিতে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের ওপর এর সরাসরি প্রভাব দেখা যায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও, আপাতত তা খুলছে না। ইরান তাদের অবস্থানে অনড়, আর যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের নীতিতে অটল। এর মাঝে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার চেষ্টা চলমান থাকলেও, কবে নাগাদ দুই দেশ আবার আলোচনায় বসবে—তা এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল