ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা করবে না।

হরমুজ থাকবে ইরানের হাতেই, ছাড়তে হবে বিদেশিদের’

হরমুজ থাকবে ইরানের হাতেই, ছাড়তে হবে বিদেশিদের’

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps–এর সাবেক প্রধান ও বর্তমান এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য Mohsen Rezaei স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে এবং বিদেশি শক্তিগুলোকে অঞ্চল ছেড়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা করবে না।

তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক উপস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান প্রায়ই মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি করে।

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানির প্রধান পথ হওয়ায় এই রুটে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ইরানের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মহসেন রেজায়ি বলেন, ইরান নিজের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করবে না। তার দাবি, পশ্চিমা শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলটিতে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে, কিন্তু ইরান তা মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এটি নিয়ে বাইরের কোনো চাপ গ্রহণ করা হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এ ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও বড় ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে যেকোনো উত্তেজনা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিতে পারে।

অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলো বরাবরই দাবি করে আসছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা প্রয়োজন। তবে তেহরান শুরু থেকেই বলে আসছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অংশ।

সব মিলিয়ে মহসেন রেজায়ির এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান যদি আরও কঠোর অবস্থানে যায়, তাহলে আগামী দিনগুলোতে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


হরমুজ থাকবে ইরানের হাতেই, ছাড়তে হবে বিদেশিদের’

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps–এর সাবেক প্রধান ও বর্তমান এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য Mohsen Rezaei স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে এবং বিদেশি শক্তিগুলোকে অঞ্চল ছেড়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা করবে না।

তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক উপস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান প্রায়ই মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি করে।

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানির প্রধান পথ হওয়ায় এই রুটে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ইরানের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মহসেন রেজায়ি বলেন, ইরান নিজের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করবে না। তার দাবি, পশ্চিমা শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলটিতে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে, কিন্তু ইরান তা মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এটি নিয়ে বাইরের কোনো চাপ গ্রহণ করা হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এ ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও বড় ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে যেকোনো উত্তেজনা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিতে পারে।

অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলো বরাবরই দাবি করে আসছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা প্রয়োজন। তবে তেহরান শুরু থেকেই বলে আসছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অংশ।

সব মিলিয়ে মহসেন রেজায়ির এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান যদি আরও কঠোর অবস্থানে যায়, তাহলে আগামী দিনগুলোতে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল