আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ পাবে ফ্যামেলি কার্ডধারীরা: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
দেশের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য বড় ধরনের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ। তিনি জানিয়েছেন, নতুন চালু হতে যাওয়া ‘ফ্যামেলি কার্ড’-এ আগের যেকোনো ভাতার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ দেওয়া হবে এবং তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিদ্যমান ভাতা কার্যক্রম চলবে
মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমানে চালু থাকা বিভিন্ন ভাতা কার্ড—যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি—চলমান থাকবে। নতুন ফ্যামেলি কার্ড চালুর ফলে আগের সুবিধা বন্ধ হবে না। বরং এটি হবে একটি সম্প্রসারিত সহায়তা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের লক্ষ্য হলো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করা এবং প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোকে অধিকতর সুরক্ষা দেওয়া।
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিতরণ
ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা করা হবে না বলেও জোর দিয়ে জানান তিনি। কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকবে না।
এছাড়া মধ্যস্বত্বভোগীদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হবে। অর্থ সরাসরি উপকারভোগী পরিবারের নারীদের—বিশেষ করে মায়েদের—হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।
নারীদের অগ্রাধিকার
প্রতিটি পরিবারের নারীদের হাতে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের মতে, নারীর হাতে অর্থ পৌঁছালে তা পরিবার ও সন্তানের কল্যাণে বেশি কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়। ফলে শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ছয় মাসে ৫০ শতাংশ বাস্তবায়ন
ফ্যামেলি কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও তালিকা প্রণয়নের কাজ দ্রুত শেষ করে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ শুরু হবে। প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের অংশ
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফ্যামেলি কার্ড চালু করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য এটি তাৎপর্যপূর্ণ সহায়তা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা, সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং সময়মতো অর্থ বিতরণ—এই তিনটি বিষয় কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগটি প্রত্যাশিত ফল দেবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।
ফ্যামেলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হলে দেশের লাখো পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে বলে আশা করছে

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ পাবে ফ্যামেলি কার্ডধারীরা: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
দেশের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য বড় ধরনের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ। তিনি জানিয়েছেন, নতুন চালু হতে যাওয়া ‘ফ্যামেলি কার্ড’-এ আগের যেকোনো ভাতার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ দেওয়া হবে এবং তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিদ্যমান ভাতা কার্যক্রম চলবে
মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমানে চালু থাকা বিভিন্ন ভাতা কার্ড—যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি—চলমান থাকবে। নতুন ফ্যামেলি কার্ড চালুর ফলে আগের সুবিধা বন্ধ হবে না। বরং এটি হবে একটি সম্প্রসারিত সহায়তা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের লক্ষ্য হলো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করা এবং প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোকে অধিকতর সুরক্ষা দেওয়া।
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিতরণ
ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা করা হবে না বলেও জোর দিয়ে জানান তিনি। কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকবে না।
এছাড়া মধ্যস্বত্বভোগীদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হবে। অর্থ সরাসরি উপকারভোগী পরিবারের নারীদের—বিশেষ করে মায়েদের—হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।
নারীদের অগ্রাধিকার
প্রতিটি পরিবারের নারীদের হাতে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের মতে, নারীর হাতে অর্থ পৌঁছালে তা পরিবার ও সন্তানের কল্যাণে বেশি কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়। ফলে শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ছয় মাসে ৫০ শতাংশ বাস্তবায়ন
ফ্যামেলি কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও তালিকা প্রণয়নের কাজ দ্রুত শেষ করে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ শুরু হবে। প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের অংশ
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফ্যামেলি কার্ড চালু করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য এটি তাৎপর্যপূর্ণ সহায়তা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা, সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং সময়মতো অর্থ বিতরণ—এই তিনটি বিষয় কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগটি প্রত্যাশিত ফল দেবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।
ফ্যামেলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হলে দেশের লাখো পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে বলে আশা করছে

আপনার মতামত লিখুন