ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকার দুয়ারে বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, ঝুঁকিতে ১৫ এলাকা

ঢাকার দুয়ারে বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, ঝুঁকিতে ১৫ এলাকা
ঢাকার দুয়ারে বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, ঝুঁকিতে ১৫ এলাকা দেশে তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে চলতি বছরের ২১ নভেম্বর সকালে। রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার এই কম্পনের কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর মাধবদী, যা রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ২৫–৪০ কিলোমিটার দূরত্বে। রাজধানীবাসী তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করে আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন, বহু ভবন কেঁপে ওঠে। এরপর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত পাঁচটি আফটারশক রেকর্ড করেছে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালেও ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুর। রাজধানীর ভূগর্ভে গভীর ঝুঁকির ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—ঢাকার প্রকৃত ভূমিকম্প ঝুঁকি আরও গভীরে লুকিয়ে আছে। তাদের আশঙ্কা, ঢাকার নিকটবর্তী মধুপুর ফল্ট জোনে যদি ৭ মাত্রার বড় ধরনের ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়, তবে রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।   আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবীর বলেন, “ঢাকার ভেতরে বড় ধরনের ৮–৯ মাত্রার কম্পনের মতো ফল্টলাইন নেই। কিন্তু মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরের মধুপুর অঞ্চলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটার মতো সক্রিয় ফল্ট বিদ্যমান। তাই বড় কম্পন হলে রাজধানীর নবগঠিত ও ভরাটকৃত অঞ্চল সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।”   সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রাজধানীর ১৫ এলাকা   বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ঢাকার যেসব অঞ্চল ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, সেগুলো হলো— সবুজবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, গাবতলী, উত্তরা, সূত্রাপুর, শ্যামপুর, মানিকদী, মোহাম্মদপুর, পল্লবী, খিলগাঁও ও বাড্ডা।   বিশেষজ্ঞরা জানান, পুরান ঢাকার মাটি তুলনামূলক শক্ত হলেও বিপদ কম নয়। সেখানে বহু ভবন অত্যন্ত পুরোনো ও কাঠামোগতভাবে দুর্বল। বড় কম্পন হলে এসব ভবন ভেঙে পড়ার ঝুঁকি প্রবল।   ভরাট জমিই সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে   বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন—বাপা’র সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামিল বলেন, “ঢাকার চারপাশের জলাভূমি রক্ষার দাবি বহু বছর ধরেই ওঠে এসেছে। কিন্তু বাস্তবে এসব এলাকা সবচেয়ে বেশি ভরাট ও দখলের শিকার। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ঠিক এই অঞ্চলগুলোতেই সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতি হবে।”   তার মতে, আসন্ন বিপর্যয়ের জন্য প্রকৃতি নয়, মানুষের অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণই বড় দায় হয়ে দাঁড়াবে।   বড় সতর্কতা: ঢাকার ভূপ্রকৃতি বদলে যাওয়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধুপুর ফল্টে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ঢাকার ভরাট করা অঞ্চলগুলোতে ভূমিধস, জমির দেবে যাওয়া, ভবন ধস এবং ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। এমনকি শহরের ভূপ্রকৃতিই বদলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ঢাকার দুয়ারে বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, ঝুঁকিতে ১৫ এলাকা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image
ঢাকার দুয়ারে বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, ঝুঁকিতে ১৫ এলাকা দেশে তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে চলতি বছরের ২১ নভেম্বর সকালে। রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার এই কম্পনের কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর মাধবদী, যা রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ২৫–৪০ কিলোমিটার দূরত্বে। রাজধানীবাসী তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করে আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন, বহু ভবন কেঁপে ওঠে। এরপর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত পাঁচটি আফটারশক রেকর্ড করেছে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালেও ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুর। রাজধানীর ভূগর্ভে গভীর ঝুঁকির ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—ঢাকার প্রকৃত ভূমিকম্প ঝুঁকি আরও গভীরে লুকিয়ে আছে। তাদের আশঙ্কা, ঢাকার নিকটবর্তী মধুপুর ফল্ট জোনে যদি ৭ মাত্রার বড় ধরনের ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়, তবে রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।   আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবীর বলেন, “ঢাকার ভেতরে বড় ধরনের ৮–৯ মাত্রার কম্পনের মতো ফল্টলাইন নেই। কিন্তু মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরের মধুপুর অঞ্চলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটার মতো সক্রিয় ফল্ট বিদ্যমান। তাই বড় কম্পন হলে রাজধানীর নবগঠিত ও ভরাটকৃত অঞ্চল সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।”   সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রাজধানীর ১৫ এলাকা   বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ঢাকার যেসব অঞ্চল ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, সেগুলো হলো— সবুজবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, গাবতলী, উত্তরা, সূত্রাপুর, শ্যামপুর, মানিকদী, মোহাম্মদপুর, পল্লবী, খিলগাঁও ও বাড্ডা।   বিশেষজ্ঞরা জানান, পুরান ঢাকার মাটি তুলনামূলক শক্ত হলেও বিপদ কম নয়। সেখানে বহু ভবন অত্যন্ত পুরোনো ও কাঠামোগতভাবে দুর্বল। বড় কম্পন হলে এসব ভবন ভেঙে পড়ার ঝুঁকি প্রবল।   ভরাট জমিই সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে   বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন—বাপা’র সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামিল বলেন, “ঢাকার চারপাশের জলাভূমি রক্ষার দাবি বহু বছর ধরেই ওঠে এসেছে। কিন্তু বাস্তবে এসব এলাকা সবচেয়ে বেশি ভরাট ও দখলের শিকার। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ঠিক এই অঞ্চলগুলোতেই সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতি হবে।”   তার মতে, আসন্ন বিপর্যয়ের জন্য প্রকৃতি নয়, মানুষের অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণই বড় দায় হয়ে দাঁড়াবে।   বড় সতর্কতা: ঢাকার ভূপ্রকৃতি বদলে যাওয়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধুপুর ফল্টে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ঢাকার ভরাট করা অঞ্চলগুলোতে ভূমিধস, জমির দেবে যাওয়া, ভবন ধস এবং ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। এমনকি শহরের ভূপ্রকৃতিই বদলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল