ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : রোববার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বদরুদ্দীন উমরের ট্রাইব্যুনাল জবানবন্দি: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগের পতন

বদরুদ্দীন উমরের ট্রাইব্যুনাল জবানবন্দি: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগের পতন
বদরুদ্দীন উমরের ট্রাইব্যুনাল জবানবন্দি: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগের পতন সদ্যপ্রয়াত বদরুদ্দীন উমর ট্রাইব্যুনালের কাছে লিখিত জবানবন্দি প্রদান করেছেন। তিনি সেখানে জুলাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং স্বাধীনতা পূর্ব ও পরবর্তী আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কেবল বাংলাদেশের নয়, সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য একটি অনন্য ঘটনা। তিনি বলেছেন, “ভারত বা পাকিস্তানে এমন ব্যাপক জনসমাবেশ ও গণঅভ্যুত্থান কখনও ঘটেনি। বাংলাদেশের নিজস্ব ইতিহাসের ১৯৫২, ১৯৬৯ এবং ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান ছিল সর্বাধিক বিস্ফোরক এবং রূপান্তরমূলক।” তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে ভাষার স্বীকৃতি এসেছে, ১৯৬৯ সালের আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটেছে, আর ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এসবের তুলনায় ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল এবং সরকারের পলায়ন ও আতঙ্কের মাত্রা ছিল অভূতপূর্ব। বদরুদ্দীন উমরের কথায়, “শেখ হাসিনা শুধু দেশ ছেড়েছেন না, তার মন্ত্রিসভা, দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং তৃণমূলের অনেক কর্মীরাও দেশ ত্যাগ করেছেন। এ ধরনের ব্যাপক দলীয় পতন বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল।” তিনি সিরিয়া বা অন্য কোনো স্বৈরাচার পতনের উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন, এমন সংগঠিত পলায়ন অন্যান্য দেশে দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান আওয়ামী লীগের জন্য চূড়ান্ত রাজনৈতিক পরিণতি। দলটি শুধু ক্ষমতা হারায়নি, জনগণের বিশ্বাস থেকেও বিতাড়িত হয়েছে। ভারতের সহায়তা থাকলেও জাতীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের পুনরুত্থান অসম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন। একইসাথে তিনি ছাত্রদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ছাত্ররা এই আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি ছিলেন। তাদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতা উল্লেখযোগ্য। বদরুদ্দীন উমর ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় ভারতে অবস্থানকালে ভারতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন, এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সাথে তাঁর যোগাযোগ নতুন কিছু ছিল না। জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে ব্যাপক হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান—নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, আমলাতন্ত্র—কে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। বদরুদ্দীন উমরের মতে, ১৯৭১ সালে যারা বাস্তবে লড়াই করেছিলেন, তারা সাধারণ ছাত্র, কৃষক-শ্রমিকের সন্তান ও মধ্যবিত্ত তরুণেরা। আওয়ামী লীগের কোনো এমপি বা ছাত্রনেতার ভূমিকা ছিল না; অনেকেই তখন পলায়নপর। তিনি আরও জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার শাসনভার ভারতের স্বার্থরক্ষায় ছিল, যা শেখ মুজিবের সময়কার ভারতপন্থী নীতি থেকে ভিন্ন। তাই আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই দল একটি ‘ভারতঘেঁষা’ কাঠামোগত এজেন্ট হিসেবে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬


বদরুদ্দীন উমরের ট্রাইব্যুনাল জবানবন্দি: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগের পতন

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image
বদরুদ্দীন উমরের ট্রাইব্যুনাল জবানবন্দি: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগের পতন সদ্যপ্রয়াত বদরুদ্দীন উমর ট্রাইব্যুনালের কাছে লিখিত জবানবন্দি প্রদান করেছেন। তিনি সেখানে জুলাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং স্বাধীনতা পূর্ব ও পরবর্তী আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কেবল বাংলাদেশের নয়, সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য একটি অনন্য ঘটনা। তিনি বলেছেন, “ভারত বা পাকিস্তানে এমন ব্যাপক জনসমাবেশ ও গণঅভ্যুত্থান কখনও ঘটেনি। বাংলাদেশের নিজস্ব ইতিহাসের ১৯৫২, ১৯৬৯ এবং ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান ছিল সর্বাধিক বিস্ফোরক এবং রূপান্তরমূলক।” তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে ভাষার স্বীকৃতি এসেছে, ১৯৬৯ সালের আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটেছে, আর ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এসবের তুলনায় ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল এবং সরকারের পলায়ন ও আতঙ্কের মাত্রা ছিল অভূতপূর্ব। বদরুদ্দীন উমরের কথায়, “শেখ হাসিনা শুধু দেশ ছেড়েছেন না, তার মন্ত্রিসভা, দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং তৃণমূলের অনেক কর্মীরাও দেশ ত্যাগ করেছেন। এ ধরনের ব্যাপক দলীয় পতন বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল।” তিনি সিরিয়া বা অন্য কোনো স্বৈরাচার পতনের উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন, এমন সংগঠিত পলায়ন অন্যান্য দেশে দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান আওয়ামী লীগের জন্য চূড়ান্ত রাজনৈতিক পরিণতি। দলটি শুধু ক্ষমতা হারায়নি, জনগণের বিশ্বাস থেকেও বিতাড়িত হয়েছে। ভারতের সহায়তা থাকলেও জাতীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের পুনরুত্থান অসম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন। একইসাথে তিনি ছাত্রদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ছাত্ররা এই আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি ছিলেন। তাদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতা উল্লেখযোগ্য। বদরুদ্দীন উমর ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় ভারতে অবস্থানকালে ভারতের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন, এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সাথে তাঁর যোগাযোগ নতুন কিছু ছিল না। জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে ব্যাপক হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান—নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, আমলাতন্ত্র—কে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। বদরুদ্দীন উমরের মতে, ১৯৭১ সালে যারা বাস্তবে লড়াই করেছিলেন, তারা সাধারণ ছাত্র, কৃষক-শ্রমিকের সন্তান ও মধ্যবিত্ত তরুণেরা। আওয়ামী লীগের কোনো এমপি বা ছাত্রনেতার ভূমিকা ছিল না; অনেকেই তখন পলায়নপর। তিনি আরও জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার শাসনভার ভারতের স্বার্থরক্ষায় ছিল, যা শেখ মুজিবের সময়কার ভারতপন্থী নীতি থেকে ভিন্ন। তাই আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই দল একটি ‘ভারতঘেঁষা’ কাঠামোগত এজেন্ট হিসেবে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল