মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত চতুর্থ দিনে আরও বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। TRT World-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান একাধিক দেশে পাল্টা আঘাত হেনেছে। ফলে তেহরান ও তেল আবিব-এর পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সংঘাতের সূচনা ও প্রাণহানি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা শুরু করে। এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-সহ একাধিক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৬৫ জন স্কুলছাত্রী রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের পাল্টা হামলা
প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। তেল আবিবে একাধিক বিস্ফোরণে ভবন কেঁপে ওঠে। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে।
একই সময়ে ইসরায়েল তেহরানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। এছাড়া লেবাননের বিভিন্ন শহরে হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তার
সংঘাত এখন উপসাগরীয় দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি-তে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের বেশিরভাগ ঘাঁটি অক্ষত রয়েছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা শুধু ইরান-ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক মহল অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই হামলা বন্ধের ইঙ্গিত দেয়নি।
চলমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যকে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত চতুর্থ দিনে আরও বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। TRT World-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান একাধিক দেশে পাল্টা আঘাত হেনেছে। ফলে তেহরান ও তেল আবিব-এর পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সংঘাতের সূচনা ও প্রাণহানি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা শুরু করে। এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-সহ একাধিক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৬৫ জন স্কুলছাত্রী রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের পাল্টা হামলা
প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। তেল আবিবে একাধিক বিস্ফোরণে ভবন কেঁপে ওঠে। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে।
একই সময়ে ইসরায়েল তেহরানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। এছাড়া লেবাননের বিভিন্ন শহরে হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তার
সংঘাত এখন উপসাগরীয় দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি-তে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের বেশিরভাগ ঘাঁটি অক্ষত রয়েছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা শুধু ইরান-ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক মহল অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই হামলা বন্ধের ইঙ্গিত দেয়নি।
চলমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যকে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন