বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
জাকসুও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
জাকসুও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে টানটান পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ৩৪ ঘণ্টা পার হলেও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। জনবল বাড়ানো হলেও ধীরগতির কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত ১০ম জাকসু নির্বাচন। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলেও অনুষ্ঠিত হয় সংসদ নির্বাচন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। তবে অনিয়ম, স্বচ্ছতার ঘাটতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বিকেলেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একই সময়ে ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে। যদিও অনেক শিক্ষার্থী এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখেছেন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটে অংশগ্রহণ করেছেন।
ভোট গণনা শুরু হয় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে। শুক্রবার দিনভর দুই দফা বিরতির কারণে গণনায় গতি আসেনি। এর মধ্যেই শুক্রবার সকালে দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান পোলিং অফিসার ও চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণনা প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে যায়।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে যখন নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার শুক্রবার রাতে পদত্যাগ করেন। সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপিপন্থি শিক্ষক হিসেবে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে পদত্যাগ করেছেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জোটটি।
ধীরগতির কারণে শুক্রবার রাতে জরুরি বৈঠক ডেকে জাবির উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান ঘোষণা দেন—টেবিল ও জনবল বাড়িয়ে রাতের মধ্যেই ভোট গণনা শেষ করা হবে। তবে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্তও ফলাফল ঘোষণা সম্ভব হয়নি।
সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনের ২১টি হলের মধ্যে ১২টির ভোট গণনা শেষ হয়েছে, বাকি ৯টির ফল এখনো অনিশ্চিত। রিটার্নিং কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে তিন দিনেও ভোট গণনা শেষ হবে না। শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুর দায়ও প্রশাসনকে নিতে হবে।”
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, ভোট গণনায় কমিশনের অপেশাদারিত্বের কারণেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তারা কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনায় ওএমআর প্রযুক্তি ব্যবহারের দাবি তুলেছেন। এদিকে যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যাম্পাসজুড়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এবারের জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৭৪৭ জন। বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৭৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৯ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে লড়ছেন ১০ জন প্রার্থী।
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন