উত্তরার শিক্ষক আজিজুলের পরিবারে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি
প্রকাশের তারিখ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫
উত্তরার শিক্ষক আজিজুলের পরিবারে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি: চারদিনের গৃহকর্মী আয়েশার দিকেই পুলিশের সন্দেহ
ঢাকার উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক আজিজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী লায়লা আফরোজ ও একমাত্র মেয়ে নাফিসাকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের অষ্টম তলার ফ্ল্যাটে শান্তিতে বসবাস করছিলেন। কিন্তু সোমবার সকালেই তার জীবনে নেমে আসে অকল্পনীয় বিপর্যয়—নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তার স্ত্রী ও মেয়েকে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডে প্রধান সন্দেহভাজন আয়েশা—যে মাত্র চার দিন আগে অস্থায়ী গৃহকর্মী হিসেবে ওই বাসায় কাজ শুরু করেছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হত্যার দিন সকাল ৭টা ৫২ মিনিটে কালো বোরকা পরে সে বাসায় প্রবেশ করে। আর ৯টা ৩৬ মিনিটে স্কুলড্রেস পরে, কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকেই সে পলাতক।
গৃহকর্তা আজিজুল জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকাল ৭টার দিকে তিনি স্কুলে যান। পরীক্ষা থাকায় দ্রুত বাসায় ফিরে ১১টার পর প্রথমেই মেয়ের রক্তাক্ত দেহ দেখেন। রান্নাঘরে গিয়ে দেখেন, স্ত্রীও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনা তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তে পুলিশ যে দৃশ্য পেয়েছে তা হৃদয়বিদারক ও ভয়ংকর। বাসা তল্লাশিতে উদ্ধার করা হয়েছে একটি চাইনিজ সুইচ গিয়ার ও দুটি ধারালো ছুরি, ধারণা করা হয় এগুলোই হত্যার অস্ত্র।
সুরতহালে যা পাওয়া গেছে:
মা লায়লা আফরোজের দেহে ৩০টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন—
বাম গালে ৩টি
থুতনিতে ৪টি
গলার নিচে বাম পাশে ৫টি
বাম হাতে ৩টি
বাম কব্জিতে ১টি
ডান কব্জিতে ২টি
বুকে ৯টি
পেটের বাম পাশে ২টি
তলপেটের নিচে ১টি
মেয়ে নাফিসার দেহেও রয়েছে ৪টি গভীর ক্ষত, বিশেষ করে গলা ও বুকে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা চিকিৎসকদের।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এত নৃশংস সুরতহাল তারা দেখেননি। হত্যার ধরন দেখে তাদের ধারণা, ঘাতক অভিজ্ঞ বা প্রশিক্ষিত কেউ হতে পারে।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান জানান, প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আয়েশার চলাফেরা, আচরণ ও সংযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব তথ্য যাচাই বাছাই শেষে তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
নিঃসন্দেহে এ ঘটনা পুরো এলাকা আর সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে—কীভাবে মাত্র চার দিনের পরিচয়ের এক নারী এভাবে একটি শান্ত পরিবারের জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন