আয়নায় রাষ্ট্রের মুখ
আয়নাঘর কোনো ঘর নয়,
এ যেন রাষ্ট্রের কালো ছায়া,
যেখানে হারিয়ে গেছে কত মুখ,
মুছে গেছে কত মায়া।
ক্ষমতারই অন্ধ গলিতে
জ্বলেছে নীরব রাত,
নিরাপত্তার নামে কোথায়
হারিয়েছে মানুষের প্রভাত?
কেউ ছিল কারও প্রিয় বাবা,
কেউ মায়ের নয়নমণি,
হঠাৎ তারা হারিয়ে গেল—
শেষ হলো না কান্নাধ্বনি।
দরজায় বসে মা আজও ভাবে,
“ফিরবে কি আমার সন্তান?”
নোনা জলে ভিজে যায় চোখ,
থামে না সেই প্রতীক্ষার গান।
আয়নাঘরের অন্ধকারে
শুধু মানুষ বন্দি নয়,
সত্যের কণ্ঠ রুদ্ধ ছিল,
বন্দি ছিল বিবেকও তাই।
যে রাষ্ট্র মানুষের জন্য,
মানুষই যার প্রাণ,
ক্ষমতার জোরে অন্যায় হলে
কাঁদে তার সম্মান।
তবু সত্য চাপা থাকে না,
সময় তার সাক্ষী হয়,
মিথ্যার যত উঁচু প্রাচীর—
একদিন তা ভেঙেই যায়।
তাই আজ জাতির কণ্ঠে
একটি প্রশ্ন জাগে—
কার নির্দেশে, কার ইশারায়
অন্ধকারটি লাগে?
খুলুক এবার গোপন দ্বার,
উন্মোচিত হোক কাল,
নিরপেক্ষ তদন্তের আলোয়
ছিন্ন হোক সব জাল।
অপরাধী যে-ই হোক না কেন,
পদ যেন না হয় ঢাল,
আইনের চোখে সবাই সমান—
ন্যায়ের এটাই কাল।
প্রতিহিংসা নয়, চাই বিচার,
প্রতিশোধ নয়, চাই ন্যায়,
অন্যায় যত গভীর হোক,
সত্য পথ দেখায়।
যে মায়ের বুক শূন্য আজও,
যে চোখে জমে জল,
ন্যায়ের রায়ে শান্ত হোক তার
দীর্ঘ প্রতীক্ষার ঢল।
আয়নাঘর ভাঙা মানে শুধু
একটি ঘর ভাঙা নয়,
ভাঙতে হবে সেই সংস্কৃতি
যেখানে মানুষ তুচ্ছ হয়।
ভয়ের প্রাচীর ভেঙে এবার
ছিন্ন হোক অন্যায়ের জাল,
রাষ্ট্র হবে মানুষের তরে,
আইন হবে সবার ঢাল।
আয়নাঘর থাকুক ইতিহাসে
সতর্কতার বাণী হয়ে—
ক্ষমতা নয়, মানুষ বড়,
রাষ্ট্র চলুক ন্যায়ের পথে।
যে অন্ধকারে হারিয়েছে মানুষ,
সেখানে জ্বলুক আলো,
আয়নাঘর হোক অতীতের স্মৃতি—
আগামীর বাংলাদেশ হোক ভালো।

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আয়নায় রাষ্ট্রের মুখ
আয়নাঘর কোনো ঘর নয়,
এ যেন রাষ্ট্রের কালো ছায়া,
যেখানে হারিয়ে গেছে কত মুখ,
মুছে গেছে কত মায়া।
ক্ষমতারই অন্ধ গলিতে
জ্বলেছে নীরব রাত,
নিরাপত্তার নামে কোথায়
হারিয়েছে মানুষের প্রভাত?
কেউ ছিল কারও প্রিয় বাবা,
কেউ মায়ের নয়নমণি,
হঠাৎ তারা হারিয়ে গেল—
শেষ হলো না কান্নাধ্বনি।
দরজায় বসে মা আজও ভাবে,
“ফিরবে কি আমার সন্তান?”
নোনা জলে ভিজে যায় চোখ,
থামে না সেই প্রতীক্ষার গান।
আয়নাঘরের অন্ধকারে
শুধু মানুষ বন্দি নয়,
সত্যের কণ্ঠ রুদ্ধ ছিল,
বন্দি ছিল বিবেকও তাই।
যে রাষ্ট্র মানুষের জন্য,
মানুষই যার প্রাণ,
ক্ষমতার জোরে অন্যায় হলে
কাঁদে তার সম্মান।
তবু সত্য চাপা থাকে না,
সময় তার সাক্ষী হয়,
মিথ্যার যত উঁচু প্রাচীর—
একদিন তা ভেঙেই যায়।
তাই আজ জাতির কণ্ঠে
একটি প্রশ্ন জাগে—
কার নির্দেশে, কার ইশারায়
অন্ধকারটি লাগে?
খুলুক এবার গোপন দ্বার,
উন্মোচিত হোক কাল,
নিরপেক্ষ তদন্তের আলোয়
ছিন্ন হোক সব জাল।
অপরাধী যে-ই হোক না কেন,
পদ যেন না হয় ঢাল,
আইনের চোখে সবাই সমান—
ন্যায়ের এটাই কাল।
প্রতিহিংসা নয়, চাই বিচার,
প্রতিশোধ নয়, চাই ন্যায়,
অন্যায় যত গভীর হোক,
সত্য পথ দেখায়।
যে মায়ের বুক শূন্য আজও,
যে চোখে জমে জল,
ন্যায়ের রায়ে শান্ত হোক তার
দীর্ঘ প্রতীক্ষার ঢল।
আয়নাঘর ভাঙা মানে শুধু
একটি ঘর ভাঙা নয়,
ভাঙতে হবে সেই সংস্কৃতি
যেখানে মানুষ তুচ্ছ হয়।
ভয়ের প্রাচীর ভেঙে এবার
ছিন্ন হোক অন্যায়ের জাল,
রাষ্ট্র হবে মানুষের তরে,
আইন হবে সবার ঢাল।
আয়নাঘর থাকুক ইতিহাসে
সতর্কতার বাণী হয়ে—
ক্ষমতা নয়, মানুষ বড়,
রাষ্ট্র চলুক ন্যায়ের পথে।
যে অন্ধকারে হারিয়েছে মানুষ,
সেখানে জ্বলুক আলো,
আয়নাঘর হোক অতীতের স্মৃতি—
আগামীর বাংলাদেশ হোক ভালো।

আপনার মতামত লিখুন