ভূরুঙ্গামারীতে ৮ শতক জমির বিরোধে শহিদুল নিহত, শুকুর আলী ও ২ নারীসহ গ্রেপ্তার ১৭
মোঃ হাসান মাহমুদ জয় স্টাফ রিপোর্টার
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শুকুর আলীসহ ১৫ পুরুষ ও ২ নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার খামার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের রায়গঞ্জ ব্রিজের পূর্ব পাশে কানিপাড়া গ্রামের বিরোধপূর্ণ জমিতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শহিদুল ইসলাম খামার আন্ধারীঝাড় (কানিপাড়া) এলাকার মৃত আব্দুলের ছেলে। স্থানীয় ও ইউপি সদস্য এরশাদ আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিরোধপূর্ণ ৮ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল এবং শহিদুল ইসলাম জমি ভোগ দখল করে আসছিলো। কয়েকমাস আগে উক্ত জমি জোর করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করলে শহিদুল পরিষদে অভিযোগ করলে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের নিয়ে বসে। দেখা যায় শহিদুলের কাগজপত্র সঠিক। কিন্তু শুক্কুর আলীরা তা সালিশ-মীমাংসা মানে নি। আজ বিকেলে জানতে পারি শুকুর আলী বাহির থেকে অনেক লোকজন এনে জমি দখলের চেষ্টা করে ও সহিদুলকে হত্যা করে। এ ঘটনায় পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
আন্ধারিঝাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাবেদ আলী মন্ডলকে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ওই ৮ শতক জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। সোমবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে শুকুর আলীসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫ থেকে ৪০ জন লোক বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে বেড়া দিতে যান। এ সময় শহিদুল ইসলাম, তার মা, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের ওপর কোঁচ (সুড়কি), শাবল ও ছুরি নিয়ে হামলা করা হয়।
এ ঘটনায় শহিদুল ইসলামের ভাই মবদুল ইসলাম ও বোন সাবিনা আক্তারও আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে। একপর্যায়ে শুকুর আলী মাছ ধরার কোঁচ (সুড়কি) দিয়ে শহিদুল ইসলামের বুক, পেটের ডান পাশ ও পিঠে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হলে স্বজনরা তাকে একটি অজ্ঞাতনামা অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ঘটনার দিন বহিরাগত লোকজন আসার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোঃ শুকুর আলী, পিতা-মৃত আব্দুল মালেক, সাং-খামার আন্ধারীঝাড় (কানিপাড়া), থানা-ভূরুঙ্গামারী; মোহাম্মদ আমির হোসেন, পিতা-মিত মহার আলী, সাং-সোনার খামার, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ দুলাল হোসেন, পিতা-মৃত আব্দুল মালেক, সাং-বড় খাটামারী, থানা-ভূরুঙ্গামারী; মোঃ রিয়াজুল ইসলাম, পিতা-মৃত আব্দুল মালেক, সাং-চর ধামাদ, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ মহিম উদ্দিন, পিতা-মৃত আব্দুল মালেক, সাং-বড় খাটামারী, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ লালচান ওরফে বাদশা, পিতা-মমতা হবিবর রহমান, সাং-সাপখাওয়া, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ শাকিল ইসলাম, পিতা-মোঃ ইদ্রিস আলী, সাং-বড়বাড়ি, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ আব্দুল মালেক, পিতা-মৃত আব্দুল কাদের, সাং-চলনছনি, থানা-নাগেশ্বরী; মোহাম্মদ নাহিদ হাসান, পিতা-আব্দুল মজিদ, সাং-বড়বাড়ি, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ শাহ জালাল, পিতা-মোঃ সিদ্দিক আলী, সাং-বড়বাড়ি, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ আরিফুল ইসলাম, পিতা-মোঃ হারুন অর রশিদ, সাং-বড়বাড়ি, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ রিপন মিয়া, পিতা-মোঃ গোলজার আলী, সাং-বড়বাড়ি, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ মাসুদ রানা, পিতা-মোঃ মদিনা আলী, সাং-বড়বাড়ি, থানা-নাগেশ্বরী; আলতাফ হোসেন, পিতা-মৃত দেলোয়ার হোসেন, সাং-বড়বাড়ি, থানা-নাগেশ্বরী; আব্দুল হামিদ, পিতা-আজিজুল হক, সাং-বড় খাটামারী, থানা-ভূরুঙ্গামারী; মোছাঃ নুরনাহার বেগম, স্বামী-শুকুর আলী, সাং-খামার আন্ধারীঝাড়, থানা-ভূরুঙ্গামারী এবং মোছাঃ খাদিজা বেগম, স্বামী-শাহ আলম, সাং-খামার আন্ধারীঝাড়, থানা-ভূরুঙ্গামারী।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ১৭ জনের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। ঘটনায় এখনো মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
ভূরুঙ্গামারীতে ৮ শতক জমির বিরোধে শহিদুল নিহত, শুকুর আলী ও ২ নারীসহ গ্রেপ্তার ১৭
মোঃ হাসান মাহমুদ জয় স্টাফ রিপোর্টার
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শুকুর আলীসহ ১৫ পুরুষ ও ২ নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার খামার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের রায়গঞ্জ ব্রিজের পূর্ব পাশে কানিপাড়া গ্রামের বিরোধপূর্ণ জমিতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শহিদুল ইসলাম খামার আন্ধারীঝাড় (কানিপাড়া) এলাকার মৃত আব্দুলের ছেলে। স্থানীয় ও ইউপি সদস্য এরশাদ আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিরোধপূর্ণ ৮ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল এবং শহিদুল ইসলাম জমি ভোগ দখল করে আসছিলো। কয়েকমাস আগে উক্ত জমি জোর করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করলে শহিদুল পরিষদে অভিযোগ করলে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের নিয়ে বসে। দেখা যায় শহিদুলের কাগজপত্র সঠিক। কিন্তু শুক্কুর আলীরা তা সালিশ-মীমাংসা মানে নি। আজ বিকেলে জানতে পারি শুকুর আলী বাহির থেকে অনেক লোকজন এনে জমি দখলের চেষ্টা করে ও সহিদুলকে হত্যা করে। এ ঘটনায় পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
আন্ধারিঝাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাবেদ আলী মন্ডলকে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ওই ৮ শতক জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। সোমবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে শুকুর আলীসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫ থেকে ৪০ জন লোক বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে বেড়া দিতে যান। এ সময় শহিদুল ইসলাম, তার মা, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের ওপর কোঁচ (সুড়কি), শাবল ও ছুরি নিয়ে হামলা করা হয়।
এ ঘটনায় শহিদুল ইসলামের ভাই মবদুল ইসলাম ও বোন সাবিনা আক্তারও আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে। একপর্যায়ে শুকুর আলী মাছ ধরার কোঁচ (সুড়কি) দিয়ে শহিদুল ইসলামের বুক, পেটের ডান পাশ ও পিঠে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হলে স্বজনরা তাকে একটি অজ্ঞাতনামা অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ঘটনার দিন বহিরাগত লোকজন আসার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোঃ শুকুর আলী, পিতা-মৃত আব্দুল মালেক, সাং-খামার আন্ধারীঝাড় (কানিপাড়া), থানা-ভূরুঙ্গামারী; মোহাম্মদ আমির হোসেন, পিতা-মিত মহার আলী, সাং-সোনার খামার, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ দুলাল হোসেন, পিতা-মৃত আব্দুল মালেক, সাং-বড় খাটামারী, থানা-ভূরুঙ্গামারী; মোঃ রিয়াজুল ইসলাম, পিতা-মৃত আব্দুল মালেক, সাং-চর ধামাদ, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ মহিম উদ্দিন, পিতা-মৃত আব্দুল মালেক, সাং-বড় খাটামারী, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ লালচান ওরফে বাদশা, পিতা-মমতা হবিবর রহমান, সাং-সাপখাওয়া, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ শাকিল ইসলাম, পিতা-মোঃ ইদ্রিস আলী, সাং-বড়বাড়ি, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ আব্দুল মালেক, পিতা-মৃত আব্দুল কাদের, সাং-চলনছনি, থানা-নাগেশ্বরী; মোহাম্মদ নাহিদ হাসান, পিতা-আব্দুল মজিদ, সাং-বড়বাড়ি, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ শাহ জালাল, পিতা-মোঃ সিদ্দিক আলী, সাং-বড়বাড়ি, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ আরিফুল ইসলাম, পিতা-মোঃ হারুন অর রশিদ, সাং-বড়বাড়ি, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ রিপন মিয়া, পিতা-মোঃ গোলজার আলী, সাং-বড়বাড়ি, থানা-নাগেশ্বরী; মোঃ মাসুদ রানা, পিতা-মোঃ মদিনা আলী, সাং-বড়বাড়ি, থানা-নাগেশ্বরী; আলতাফ হোসেন, পিতা-মৃত দেলোয়ার হোসেন, সাং-বড়বাড়ি, থানা-নাগেশ্বরী; আব্দুল হামিদ, পিতা-আজিজুল হক, সাং-বড় খাটামারী, থানা-ভূরুঙ্গামারী; মোছাঃ নুরনাহার বেগম, স্বামী-শুকুর আলী, সাং-খামার আন্ধারীঝাড়, থানা-ভূরুঙ্গামারী এবং মোছাঃ খাদিজা বেগম, স্বামী-শাহ আলম, সাং-খামার আন্ধারীঝাড়, থানা-ভূরুঙ্গামারী।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ১৭ জনের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। ঘটনায় এখনো মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন