কুড়িগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও রক্তাক্ত জখম: থানায় এজাহার দায়ের, ৩ সন্তান নিয়ে নিঃস্ব আহাজারি পরিবার
স্টাফ রিপোর্টার হাসান মাহমুদ জয়
কুড়িগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দাপ্তরিক পূর্ববিরোধের জেরে মোমিনুল ইসলাম (৩৮) নামের এক নকলনবিশকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস হামলা ও গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই বর্বরোচিত হামলায় তার মাথার পেছনের অংশে গুরুতর জখম হয়েছে এবং হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে তার ডান হাত ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোছাঃ বেবী নাজনীন বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোমিনুল ইসলাম কুড়িগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশ হিসেবে কর্মরত আছেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও একই অফিসে মোকার হিসেবে কাজ করেন। গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে অফিসের বিভিন্ন কাজ নিয়ে আসামিদের সাথে মোমিনুল ইসলামের কথা কাটাকাটি হয় এবং পরবর্তীতে সেদিন রাতেই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
তবে ওই ঘটনার জের ধরে গত ০২ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে সকাল আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় ১নং আসামি আবুল কালাম আজাদের (৪৭) হুকুমে ও ২নং আসামি হায়দার আলীর (৬০) নেতৃত্বে ৩নং আসামি আবুল হোসেনসহ অন্যান্যরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশদের কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় ৪নং আসামি মিরাজ উদ্দিন (২৫) ধারালো ছোরা দিয়ে মোমিনুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় সজোরে আঘাত করেন। আঘাতটি পেছনে লেগে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া ৫ ও ৬নং আসামি হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করলে মোমিনুল হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার ডান হাতের কনুইয়ের নিচে লেগে হাত ভেঙে যায়। এসময় অন্য আসামিরা কিল-ঘুষি ও এলোপাতাড়ি মারধর করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।
তার চিৎকারে অফিসের উপস্থিত সাক্ষী ১। মোঃ রাফি আল মামুন (২৭), ২। মোঃ মাসুদ রানা (৩৫), ৩। মোঃ রাশেদুল ইসলাম (৩০)সহ অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। যাওয়ার সময় আসামিরা নকলনবিশদের বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে সহকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরিবারের আহাজারি
অফিসে কর্মরত অবস্থায় এই প্রাণঘাতী হামলার পর থেকেই তার স্ত্রী ও তিন অবুঝ সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অমানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোছাঃ বেবী নাজনীন জানান, "আমার স্বামী একজন সাধারণ নকলনবিশ হিসেবে সততার সাথে কাজ করে সংসার চালাতেন। এভাবে অফিসে ঢুকে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হবে, তা আমরা কখনো ভাবিনি। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন, আর আমাদের ৩টি অবুঝ সন্তানকে নিয়ে পুরো পরিবারটি আজ একদম নিঃস্ব ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে। চিকিৎসালয় আর মামলার খরচ মেটানোর মতো কোনো সম্বল আমাদের আজ আর নেই।"
এদিকে অফিসে কর্মরত অবস্থায় এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নকলনবিশদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুড়িগ্রাম সদর থানার পুলিশকে অনুরোধ জানানো হলে পুলিশ এজাহার গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পরিবারটি ও স্থানীয় সহকর্মীরা দ্রুত এই হামলার সাথে জড়িত প্রধান আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
কুড়িগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও রক্তাক্ত জখম: থানায় এজাহার দায়ের, ৩ সন্তান নিয়ে নিঃস্ব আহাজারি পরিবার
স্টাফ রিপোর্টার হাসান মাহমুদ জয়
কুড়িগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দাপ্তরিক পূর্ববিরোধের জেরে মোমিনুল ইসলাম (৩৮) নামের এক নকলনবিশকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস হামলা ও গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই বর্বরোচিত হামলায় তার মাথার পেছনের অংশে গুরুতর জখম হয়েছে এবং হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে তার ডান হাত ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোছাঃ বেবী নাজনীন বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোমিনুল ইসলাম কুড়িগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশ হিসেবে কর্মরত আছেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও একই অফিসে মোকার হিসেবে কাজ করেন। গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে অফিসের বিভিন্ন কাজ নিয়ে আসামিদের সাথে মোমিনুল ইসলামের কথা কাটাকাটি হয় এবং পরবর্তীতে সেদিন রাতেই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
তবে ওই ঘটনার জের ধরে গত ০২ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে সকাল আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় ১নং আসামি আবুল কালাম আজাদের (৪৭) হুকুমে ও ২নং আসামি হায়দার আলীর (৬০) নেতৃত্বে ৩নং আসামি আবুল হোসেনসহ অন্যান্যরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশদের কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় ৪নং আসামি মিরাজ উদ্দিন (২৫) ধারালো ছোরা দিয়ে মোমিনুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় সজোরে আঘাত করেন। আঘাতটি পেছনে লেগে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া ৫ ও ৬নং আসামি হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করলে মোমিনুল হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার ডান হাতের কনুইয়ের নিচে লেগে হাত ভেঙে যায়। এসময় অন্য আসামিরা কিল-ঘুষি ও এলোপাতাড়ি মারধর করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।
তার চিৎকারে অফিসের উপস্থিত সাক্ষী ১। মোঃ রাফি আল মামুন (২৭), ২। মোঃ মাসুদ রানা (৩৫), ৩। মোঃ রাশেদুল ইসলাম (৩০)সহ অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। যাওয়ার সময় আসামিরা নকলনবিশদের বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে সহকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরিবারের আহাজারি
অফিসে কর্মরত অবস্থায় এই প্রাণঘাতী হামলার পর থেকেই তার স্ত্রী ও তিন অবুঝ সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অমানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোছাঃ বেবী নাজনীন জানান, "আমার স্বামী একজন সাধারণ নকলনবিশ হিসেবে সততার সাথে কাজ করে সংসার চালাতেন। এভাবে অফিসে ঢুকে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হবে, তা আমরা কখনো ভাবিনি। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন, আর আমাদের ৩টি অবুঝ সন্তানকে নিয়ে পুরো পরিবারটি আজ একদম নিঃস্ব ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে। চিকিৎসালয় আর মামলার খরচ মেটানোর মতো কোনো সম্বল আমাদের আজ আর নেই।"
এদিকে অফিসে কর্মরত অবস্থায় এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নকলনবিশদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুড়িগ্রাম সদর থানার পুলিশকে অনুরোধ জানানো হলে পুলিশ এজাহার গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পরিবারটি ও স্থানীয় সহকর্মীরা দ্রুত এই হামলার সাথে জড়িত প্রধান আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন