তিনটি ওড়নাও ফিরিয়ে আনতে পারল না বাবাকে: মেয়েকে বাঁচিয়ে চিরবিদায় ফিজিওথেরাপিস্ট বাছির উদ্দিনের
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ-মিঠামইন সীমান্তের হাসানপুর ব্রিজসংলগ্ন হাওরে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে হৃদয়বিদারক এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ঢাকায় কর্মরত ফিজিওথেরাপিস্ট মো. বাছির উদ্দিন মিলন। তবে মৃত্যুর আগমুহূর্তে তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে বাঁচিয়ে গেছেন মেয়ের জীবন।
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্ত্রী, তিন মেয়ে ও স্বজনদের নিয়ে হাওরে বেড়াতে যান বাছির উদ্দিন। গোসলের সময় হঠাৎ প্রবল স্রোতে তলিয়ে যেতে শুরু করে তাঁর মেয়ে সেমন্তী। এক মুহূর্ত দেরি না করে মেয়েকে বারবার ধাক্কা দিয়ে নিরাপদ স্থানে তুলে দেন তিনি। কিন্তু নিজে আর তীরে ফিরতে পারেননি। প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যান তিনি। পরে প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাবাকে হারানোর সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে সেমন্তী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, বাবা তাকে ওপরে তুলে দিলেও নিজে পানির নিচে তলিয়ে যান। তাঁকে বাঁচাতে পরিবারের সদস্যরা তিনটি ওড়না একসঙ্গে বেঁধে ছুড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু স্রোতের তীব্রতায় তিনি সেটি ধরতে পারেননি। মেয়েটির আক্ষেপ, যদি জানত বাবা আর ফিরে আসবেন না, তবে কখনোই পানিতে নামত না।
ঘটনার পর আরও মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখা যায় বাছির উদ্দিনের কবরের পাশে। মাত্র দুই বছরের ছোট্ট মেয়ে সাইয়ারা সরল কণ্ঠে বলে, “এখানে আমার বাবা শুয়ে আছে।” এরপর আবার শিশুসুলভ স্বাভাবিকতায় খেলতে চলে যায়। সে এখনো বুঝতে পারেনি, তার বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না।
নিহতের বাবা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবু বাক্কার জানান, হাওরে যাওয়ার আগে ছেলে ফোন করে তাঁকে সঙ্গে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেটিই ছিল বাবা-ছেলের শেষ কথা। শোকাহত এই বাবা বলেন, “পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বোঝা হলো পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ।”
এদিকে স্বামীকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বাছির উদ্দিনের স্ত্রী। বড় দুই মেয়েও শোকে প্রায় খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। পরিবারের সামনে এখন তিন মেয়ের পড়াশোনা, সংসারের ব্যয় এবং ব্যাংকের ঋণের বোঝা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই স্বজনরা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একজন বাবা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেলেন—সন্তানের জীবন রক্ষার কাছে নিজের জীবনও তুচ্ছ। তাঁর এই আত্মত্যাগ আজ শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো দেশের মানুষকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
তিনটি ওড়নাও ফিরিয়ে আনতে পারল না বাবাকে: মেয়েকে বাঁচিয়ে চিরবিদায় ফিজিওথেরাপিস্ট বাছির উদ্দিনের
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ-মিঠামইন সীমান্তের হাসানপুর ব্রিজসংলগ্ন হাওরে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে হৃদয়বিদারক এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ঢাকায় কর্মরত ফিজিওথেরাপিস্ট মো. বাছির উদ্দিন মিলন। তবে মৃত্যুর আগমুহূর্তে তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে বাঁচিয়ে গেছেন মেয়ের জীবন।
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্ত্রী, তিন মেয়ে ও স্বজনদের নিয়ে হাওরে বেড়াতে যান বাছির উদ্দিন। গোসলের সময় হঠাৎ প্রবল স্রোতে তলিয়ে যেতে শুরু করে তাঁর মেয়ে সেমন্তী। এক মুহূর্ত দেরি না করে মেয়েকে বারবার ধাক্কা দিয়ে নিরাপদ স্থানে তুলে দেন তিনি। কিন্তু নিজে আর তীরে ফিরতে পারেননি। প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যান তিনি। পরে প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাবাকে হারানোর সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে সেমন্তী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, বাবা তাকে ওপরে তুলে দিলেও নিজে পানির নিচে তলিয়ে যান। তাঁকে বাঁচাতে পরিবারের সদস্যরা তিনটি ওড়না একসঙ্গে বেঁধে ছুড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু স্রোতের তীব্রতায় তিনি সেটি ধরতে পারেননি। মেয়েটির আক্ষেপ, যদি জানত বাবা আর ফিরে আসবেন না, তবে কখনোই পানিতে নামত না।
ঘটনার পর আরও মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখা যায় বাছির উদ্দিনের কবরের পাশে। মাত্র দুই বছরের ছোট্ট মেয়ে সাইয়ারা সরল কণ্ঠে বলে, “এখানে আমার বাবা শুয়ে আছে।” এরপর আবার শিশুসুলভ স্বাভাবিকতায় খেলতে চলে যায়। সে এখনো বুঝতে পারেনি, তার বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না।
নিহতের বাবা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবু বাক্কার জানান, হাওরে যাওয়ার আগে ছেলে ফোন করে তাঁকে সঙ্গে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেটিই ছিল বাবা-ছেলের শেষ কথা। শোকাহত এই বাবা বলেন, “পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বোঝা হলো পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ।”
এদিকে স্বামীকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বাছির উদ্দিনের স্ত্রী। বড় দুই মেয়েও শোকে প্রায় খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। পরিবারের সামনে এখন তিন মেয়ের পড়াশোনা, সংসারের ব্যয় এবং ব্যাংকের ঋণের বোঝা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই স্বজনরা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একজন বাবা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেলেন—সন্তানের জীবন রক্ষার কাছে নিজের জীবনও তুচ্ছ। তাঁর এই আত্মত্যাগ আজ শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো দেশের মানুষকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন