লামিনে ইয়ামালের সাফল্যের নেপথ্যে সংগ্রামী দাদী ফাতেমা নাসরাউই
বিশ্ব ফুটবলে দ্রুত উত্থান ঘটানো স্পেনের তরুণ তারকা লেমিনে ইয়ামালের সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক সংগ্রামী নারীর অনুপ্রেরণার গল্প। তিনি হলেন ইয়ামালের দাদী ফাতেমা নাসরাউই। নিজের পরিবারের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমানো এই নারী আজ নাতির বিশ্বজোড়া সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে আলোচিত।
পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় বহু বছর আগে মরক্কো ছেড়ে স্পেনে যান ফাতেমা নাসরাউই। সে সময় তাঁর ছেলে মুনির নাসরাউইয়ের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। কঠিন বাস্তবতায় সন্তানকে পেছনে রেখে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবুও পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে তিনি সেই ত্যাগ স্বীকার করেন।
স্পেনে গিয়ে গৃহপরিচারিকার কাজসহ নানা কঠিন পেশায় যুক্ত হন ফাতেমা। অনেক সময় মেঝেতে ঘুমিয়ে রাত কাটিয়েছেন, কিন্তু হাল ছাড়েননি। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল পরিবারের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা।
পরবর্তীতে মুনির নাসরাউইয়ের ঘরেই জন্ম নেন লেমিনে ইয়ামাল। তবে মাত্র তিন বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর ইয়ামালের শৈশবের বড় একটি অংশ কাটে দাদীর স্নেহ, ভালোবাসা ও যত্নে। দাদীই হয়ে ওঠেন তাঁর সবচেয়ে বড় আশ্রয়, সাহস এবং অনুপ্রেরণার উৎস।
দাদীর প্রতি সেই ভালোবাসা আজও ধরে রেখেছেন ইয়ামাল। গোল করার পর কিংবা দলের জয়ে তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে দোয়া করেন। উদযাপনের সময় হাতের ইশারায় "৩০৪" দেখান, যা তাঁর দাদীর এলাকার পোস্টকোডের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতেও দাদীকে পাশে রাখেন এই তরুণ ফুটবলার।
ফাতেমা নাসরাউইয়ের দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মত্যাগ আজ যেন সার্থক হয়েছে নাতির সাফল্যে। একসময় পরিবারের ভাগ্য বদলাতে যিনি নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছিলেন, আজ তাঁর নাতি লেমিনে ইয়ামাল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ফুটবল তারকা।
লেমিনে ইয়ামালের এই গল্প মনে করিয়ে দেয়, বড় সাফল্যের পেছনে প্রায়ই থাকে পরিবারের কোনো এক নিঃস্বার্থ মানুষের অগণিত ত্যাগ, ভালোবাসা এবং অদম্য সংগ্রাম।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
লামিনে ইয়ামালের সাফল্যের নেপথ্যে সংগ্রামী দাদী ফাতেমা নাসরাউই
বিশ্ব ফুটবলে দ্রুত উত্থান ঘটানো স্পেনের তরুণ তারকা লেমিনে ইয়ামালের সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক সংগ্রামী নারীর অনুপ্রেরণার গল্প। তিনি হলেন ইয়ামালের দাদী ফাতেমা নাসরাউই। নিজের পরিবারের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমানো এই নারী আজ নাতির বিশ্বজোড়া সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে আলোচিত।
পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় বহু বছর আগে মরক্কো ছেড়ে স্পেনে যান ফাতেমা নাসরাউই। সে সময় তাঁর ছেলে মুনির নাসরাউইয়ের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। কঠিন বাস্তবতায় সন্তানকে পেছনে রেখে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবুও পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে তিনি সেই ত্যাগ স্বীকার করেন।
স্পেনে গিয়ে গৃহপরিচারিকার কাজসহ নানা কঠিন পেশায় যুক্ত হন ফাতেমা। অনেক সময় মেঝেতে ঘুমিয়ে রাত কাটিয়েছেন, কিন্তু হাল ছাড়েননি। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল পরিবারের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা।
পরবর্তীতে মুনির নাসরাউইয়ের ঘরেই জন্ম নেন লেমিনে ইয়ামাল। তবে মাত্র তিন বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর ইয়ামালের শৈশবের বড় একটি অংশ কাটে দাদীর স্নেহ, ভালোবাসা ও যত্নে। দাদীই হয়ে ওঠেন তাঁর সবচেয়ে বড় আশ্রয়, সাহস এবং অনুপ্রেরণার উৎস।
দাদীর প্রতি সেই ভালোবাসা আজও ধরে রেখেছেন ইয়ামাল। গোল করার পর কিংবা দলের জয়ে তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে দোয়া করেন। উদযাপনের সময় হাতের ইশারায় "৩০৪" দেখান, যা তাঁর দাদীর এলাকার পোস্টকোডের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতেও দাদীকে পাশে রাখেন এই তরুণ ফুটবলার।
ফাতেমা নাসরাউইয়ের দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মত্যাগ আজ যেন সার্থক হয়েছে নাতির সাফল্যে। একসময় পরিবারের ভাগ্য বদলাতে যিনি নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছিলেন, আজ তাঁর নাতি লেমিনে ইয়ামাল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ফুটবল তারকা।
লেমিনে ইয়ামালের এই গল্প মনে করিয়ে দেয়, বড় সাফল্যের পেছনে প্রায়ই থাকে পরিবারের কোনো এক নিঃস্বার্থ মানুষের অগণিত ত্যাগ, ভালোবাসা এবং অদম্য সংগ্রাম।

আপনার মতামত লিখুন