বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
আগারগাঁওয়ে ফটোকপি ও দর্জির দোকানেই ‘গোপন পাসপোর্ট অফিস’!
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৫
আগারগাঁওয়ে ফটোকপি ও দর্জির দোকানেই ‘গোপন পাসপোর্ট অফিস’!
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে বেশ কিছু ফটোকপি ও দর্জির দোকানের আড়ালে গড়ে উঠেছে একাধিক “মিনি পাসপোর্ট অফিস”। সরকারি প্রক্রিয়া এড়িয়ে সহজে পাসপোর্ট করার প্রলোভনে এসব দোকান থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ অর্থে পাসপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এজন্য নকল সিল ও ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে সরকারি কর্মকর্তাদের নামে কাগজপত্র সত্যায়িত করা হচ্ছে।
সম্প্রতি র্যাবের অভিযানে এমনই এক দর্জির দোকান—‘মহিন উদ্দিন টেইলার্স অ্যান্ড ফেব্রিক্স’—থেকে উদ্ধার করা হয় ৮৬টি পাসপোর্ট, ৫০টির বেশি ডেলিভারি স্লিপ, জাতীয় পরিচয়পত্র, পুলিশ ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেটসহ বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র। দোকানের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া এসব নথি দেখে র্যাব কর্মকর্তারাও হতবাক।
স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন, দোকানটিকে বাইরে থেকে পুরোপুরি দর্জির দোকানই মনে হতো। কিন্তু র্যাবের অভিযান না হলে কেউ টেরই পেত না, এর ভেতরে চলছে অবৈধ পাসপোর্ট বানানোর কারবার।
অভিযানের পর র্যাব জানায়, উদ্ধার করা নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে—এই চক্রের সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত কিনা।
অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে দোকানের মালিক মহিন উদ্দিনকে, তবে তার সহযোগী মো. লতিফ পলাতক রয়েছেন। দুজনই দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
র্যাব-২ এর পুলিশ সুপার আছাদুজ্জামান বলেন,
> “এই চক্রটি পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার আগেই সাধারণ মানুষকে টার্গেট করত। দ্রুত পাসপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তারা বিভিন্ন প্যাকেজ অফার দিত এবং অবৈধভাবে টাকা আদায় করত। অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল কাগজ, আসল পাসপোর্ট ও শিক্ষা সনদ উদ্ধার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
> “যারা এই প্রতারণায় জড়িত, সরকারি বা বেসরকারি—সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
অভিযানে উদ্ধার করা পাসপোর্টগুলোর সূত্র ধরে যোগাযোগ করা হলে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, ঝামেলা এড়াতে বেশি অর্থ দিয়ে তারা দ্রুত পাসপোর্ট করিয়েছিলেন। এখন র্যাবের হাতে কাগজপত্র পাওয়ার পর তারাই বিপাকে পড়েছেন।
অন্যদিকে, যেসব সরকারি কর্মকর্তার সিল-স্বাক্ষর ব্যবহৃত হয়েছে, তাদের অনেকেই আসলে অস্তিত্বহীন বলে জানা গেছে। পঙ্গু হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবহৃত সিলের নামে কোনো চিকিৎসকই সেখানে কর্মরত নন।
র্যাব বলছে, আগারগাঁও এলাকায় দর্জি, ফটোকপি, টাইপিং ও ফটো স্টুডিওর আড়ালে এভাবেই গড়ে উঠেছে পাসপোর্ট জালিয়াত চক্রের ‘গোপন অফিস’।
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন