ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

মোশাররফের আমলে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল যুক্তরাষ্ট্র

মোশাররফের আমলে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল যুক্তরাষ্ট্র
মোশাররফের আমলে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল যুক্তরাষ্ট্র: বিস্ফোরক দাবি সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন জেনারেল পারভেজ মোশাররফ। সেই সময় দেশটির পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতো যুক্তরাষ্ট্র—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)-এর সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা জন কিরিয়াকু। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে কিরিয়াকু জানান, বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে মোশাররফ পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেন। তার ভাষায়, “২০০১ সালের পর পাকিস্তানে মার্কিন প্রভাব এতটাই গভীর হয় যে, মনে হতো যেন পারভেজ মোশাররফকে কার্যত ‘কিনে নিয়েছে’ ওয়াশিংটন।” “বিপুল ডলার সহায়তা, রহস্যে আচ্ছন্ন ব্যয়” সাবেক এই সিআইএ কর্মকর্তা বলেন, “আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পাকিস্তানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হতো, কেউ নিশ্চিতভাবে জানতো না।” তার দাবি, মোশাররফ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিয়মিত অর্থ সহায়তা নিতেন। তিনি আশঙ্কা করতেন—পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ জঙ্গিদের হাতে চলে যেতে পারে। সেই ভয় থেকেই ওয়াশিংটনকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেন তিনি। ওসামা বিন লাদেনের পালানোর গোপন কাহিনি সাক্ষাৎকারে জন কিরিয়াকু আরও এক চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন নারী সেজে আফগানিস্তানের তোরাবোরা পাহাড় থেকে পাকিস্তানে পালিয়ে আসেন। তার ভাষায়, “মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডে একজন অনুবাদক ছিলেন আল-কায়েদার গুপ্তচর। সে মার্কিন বাহিনীর ভেতর থেকে জঙ্গিদের কাছে তথ্য পাচার করতো। সেই অনুবাদকের সহায়তাতেই লাদেন বোরকা পরে সীমান্ত অতিক্রম করেন।” ‘পারমাণবিক জনক’কে হত্যার নির্দেশ দেয়নি সৌদি আরব আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যে কিরিয়াকু জানান, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের জনক ড. আব্দুল কাদের খানকে হত্যা করার কোনো নির্দেশ সৌদি আরব থেকে আসেনি। এই দাবি বহুদিনের গুজব ও জল্পনাকে নতুনভাবে নাড়া দিয়েছে। তিক বিশ্লেষকদের মতে, মোশাররফের সময় পাকিস্তানে মার্কিন প্রভাব ছিল সর্বাধিক। দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতি থেকে নিরাপত্তা কাঠামো পর্যন্ত—সবকিছুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ছিল প্রকট। কিরিয়াকুর নতুন এই স্বীকারোক্তি সেই সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতার অজানা এক অধ্যায় উন্মোচন করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


মোশাররফের আমলে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫

featured Image
মোশাররফের আমলে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল যুক্তরাষ্ট্র: বিস্ফোরক দাবি সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন জেনারেল পারভেজ মোশাররফ। সেই সময় দেশটির পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতো যুক্তরাষ্ট্র—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)-এর সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা জন কিরিয়াকু। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে কিরিয়াকু জানান, বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে মোশাররফ পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেন। তার ভাষায়, “২০০১ সালের পর পাকিস্তানে মার্কিন প্রভাব এতটাই গভীর হয় যে, মনে হতো যেন পারভেজ মোশাররফকে কার্যত ‘কিনে নিয়েছে’ ওয়াশিংটন।” “বিপুল ডলার সহায়তা, রহস্যে আচ্ছন্ন ব্যয়” সাবেক এই সিআইএ কর্মকর্তা বলেন, “আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পাকিস্তানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হতো, কেউ নিশ্চিতভাবে জানতো না।” তার দাবি, মোশাররফ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিয়মিত অর্থ সহায়তা নিতেন। তিনি আশঙ্কা করতেন—পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ জঙ্গিদের হাতে চলে যেতে পারে। সেই ভয় থেকেই ওয়াশিংটনকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেন তিনি। ওসামা বিন লাদেনের পালানোর গোপন কাহিনি সাক্ষাৎকারে জন কিরিয়াকু আরও এক চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন নারী সেজে আফগানিস্তানের তোরাবোরা পাহাড় থেকে পাকিস্তানে পালিয়ে আসেন। তার ভাষায়, “মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডে একজন অনুবাদক ছিলেন আল-কায়েদার গুপ্তচর। সে মার্কিন বাহিনীর ভেতর থেকে জঙ্গিদের কাছে তথ্য পাচার করতো। সেই অনুবাদকের সহায়তাতেই লাদেন বোরকা পরে সীমান্ত অতিক্রম করেন।” ‘পারমাণবিক জনক’কে হত্যার নির্দেশ দেয়নি সৌদি আরব আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যে কিরিয়াকু জানান, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের জনক ড. আব্দুল কাদের খানকে হত্যা করার কোনো নির্দেশ সৌদি আরব থেকে আসেনি। এই দাবি বহুদিনের গুজব ও জল্পনাকে নতুনভাবে নাড়া দিয়েছে। তিক বিশ্লেষকদের মতে, মোশাররফের সময় পাকিস্তানে মার্কিন প্রভাব ছিল সর্বাধিক। দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতি থেকে নিরাপত্তা কাঠামো পর্যন্ত—সবকিছুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ছিল প্রকট। কিরিয়াকুর নতুন এই স্বীকারোক্তি সেই সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতার অজানা এক অধ্যায় উন্মোচন করেছে।

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল