ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

এক শিক্ষিকায় কয়েক বছর ধরে চলছে পাঠদান, যান ৩০ কিলো দুর থেকে, হুম'কিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা

এক শিক্ষিকায় কয়েক বছর ধরে চলছে পাঠদান, যান ৩০ কিলো দুর থেকে, হুম'কিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা

মরিচা ধরা টিনের বেড়া আর এতিম শিশুর চাপা আর্তনাদ: ভূরুঙ্গামারীর ১১০টি স্বপ্নের কি কোনো কূল নেই?

মরিচা ধরা টিনের বেড়া আর এতিম শিশুর চাপা আর্তনাদ: ভূরুঙ্গামারীর ১১০টি স্বপ্নের কি কোনো কূল নেই?

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় গোয়াল ঘরের গোবর ফেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খাইরুল ইসলাম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় গোয়াল ঘরের গোবর ফেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খাইরুল ইসলাম

একটি দিন মায়ের জন্য: শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অনাবিল বহিঃপ্রকাশ

একটি দিন মায়ের জন্য: শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অনাবিল বহিঃপ্রকাশ

তেঁতুল গাছের মগডালে নি'খোঁজ বৃদ্ধা: কুড়িগ্রামে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান!

তেঁতুল গাছের মগডালে নি'খোঁজ বৃদ্ধা: কুড়িগ্রামে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান!

দেশে পাঁচটি নতুন উপজেলা অনুমোদন

দেশে পাঁচটি নতুন উপজেলা অনুমোদন

কুড়িগ্রামে বিশ্ব রেড ক্রিসেন্ট দিবস উদযাপন, মানবতার সেবায় তরুণদের আহ্বান

কুড়িগ্রামে বিশ্ব রেড ক্রিসেন্ট দিবস উদযাপন, মানবতার সেবায় তরুণদের আহ্বান

তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর

তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর

তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর

তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর
DSK TV chanel সংগ্রীত

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন আমদানি-রফতানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি কাজের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার মাঝেই বেল্ট মেশিনে সীমিত পরিসরে পাথর ভাঙার কাজ চলছে। প্রতিটি ডিপোতে জমে আছে ভাঙা পাথরের স্তুপ। বাজারে পাথরের চাহিদা থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা পাথর লোড দিতে পারছেন না এবং বেচাকেনা কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি সংকটের কারণে অধিকাংশ ডিপোর পাথর লোডিং মেশিন অলস পড়ে আছে। ট্রাক ও ড্রাম ট্রাকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্থলবন্দরে এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনমজুর শ্রমিকরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকেই জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। ডিপোগুলোতে প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আর খুচরা বাজারেও তেলের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। পেট্রোল পাম্প থেকে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।

ট্রাক মালিকদের ভাষ্য, পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় তারা ট্রাকে পণ্য বোঝাই করতে পারছেন না। অনেক ট্রাক এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে খালি পড়ে আছে। ট্রাক টার্মিনালে খালি ট্রাকের দীর্ঘ সারি এখন নিত্যদিনের চিত্র।

পাথর ভাঙা ও লোড-আনলোড শ্রমিক হাশেম আলী, আছর উদ্দিন ও আব্দুর রহিম জানান, নিয়মিত কাজ না থাকায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বলেন, “তেল সংকটের কারণে ট্রিপের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।”

স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট (ব্যবসায়ী) জহুরুল ইসলাম জানান, “আগে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি ট্রাকে পাথর দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হতো। বর্তমানে দিনে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫টি ট্রাক পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।”

ট্রাক মালিক আরিফ হোসেন বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে একটি ট্রাক তিন দিনেও একটি ট্রিপ দিতে পারছে না।”

আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম জানান, পাথরের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পরিবহন সংকটের কারণে বিক্রি কমে গেছে।

মেসার্স রুমানা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০টি ট্রাকে পাথর লোড হতো। এখন দিনে ১০ থেকে ১২টির বেশি ট্রাক লোড করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ব্যবসায় চরম মন্দা চলছে।”

সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব এ স্থলবন্দরেও পড়েছে, ফলে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে।

সোনাহাট স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আকমল হোসেন এর তথ‍্যমতে, জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদা মতো ট্রাক স্থলবন্দরে না আসায় পাথর বেচা কেনা কিছুটা কমেছে। ব‍্যসায়ীদের ডিপোগুলোতে পাথরের স্তুপ জমে আছে। ভূরুঙ্গামারীর একমাত্র তেলের পাম্পে জ্বালানি সর্বরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারি পরিচালক আমিনুল হক জানান, স্থলবন্দরে এলসি আগের মতোই হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ট্রাক ভারত থেকে বন্দরে ঢুকছে। বাইরে হয়তো বেচাকেনা একটু কমেছে। কিন্তু রাজস্ব আয়ে এর কোন প্রভাব পড়েনি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন আমদানি-রফতানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি কাজের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার মাঝেই বেল্ট মেশিনে সীমিত পরিসরে পাথর ভাঙার কাজ চলছে। প্রতিটি ডিপোতে জমে আছে ভাঙা পাথরের স্তুপ। বাজারে পাথরের চাহিদা থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা পাথর লোড দিতে পারছেন না এবং বেচাকেনা কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি সংকটের কারণে অধিকাংশ ডিপোর পাথর লোডিং মেশিন অলস পড়ে আছে। ট্রাক ও ড্রাম ট্রাকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্থলবন্দরে এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনমজুর শ্রমিকরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকেই জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। ডিপোগুলোতে প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আর খুচরা বাজারেও তেলের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। পেট্রোল পাম্প থেকে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।

ট্রাক মালিকদের ভাষ্য, পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় তারা ট্রাকে পণ্য বোঝাই করতে পারছেন না। অনেক ট্রাক এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে খালি পড়ে আছে। ট্রাক টার্মিনালে খালি ট্রাকের দীর্ঘ সারি এখন নিত্যদিনের চিত্র।

পাথর ভাঙা ও লোড-আনলোড শ্রমিক হাশেম আলী, আছর উদ্দিন ও আব্দুর রহিম জানান, নিয়মিত কাজ না থাকায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বলেন, “তেল সংকটের কারণে ট্রিপের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।”

স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট (ব্যবসায়ী) জহুরুল ইসলাম জানান, “আগে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি ট্রাকে পাথর দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হতো। বর্তমানে দিনে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫টি ট্রাক পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।”

ট্রাক মালিক আরিফ হোসেন বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে একটি ট্রাক তিন দিনেও একটি ট্রিপ দিতে পারছে না।”

আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম জানান, পাথরের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পরিবহন সংকটের কারণে বিক্রি কমে গেছে।

মেসার্স রুমানা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০টি ট্রাকে পাথর লোড হতো। এখন দিনে ১০ থেকে ১২টির বেশি ট্রাক লোড করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ব্যবসায় চরম মন্দা চলছে।”

সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব এ স্থলবন্দরেও পড়েছে, ফলে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে।


সোনাহাট স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আকমল হোসেন এর তথ‍্যমতে, জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদা মতো ট্রাক স্থলবন্দরে না আসায় পাথর বেচা কেনা কিছুটা কমেছে। ব‍্যসায়ীদের ডিপোগুলোতে পাথরের স্তুপ জমে আছে। ভূরুঙ্গামারীর একমাত্র তেলের পাম্পে জ্বালানি সর্বরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।


সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারি পরিচালক আমিনুল হক জানান, স্থলবন্দরে এলসি আগের মতোই হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ট্রাক ভারত থেকে বন্দরে ঢুকছে। বাইরে হয়তো বেচাকেনা একটু কমেছে। কিন্তু রাজস্ব আয়ে এর কোন প্রভাব পড়েনি।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল