নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম |
কুড়িগ্রাম সদরে জেলা প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে গুচ্ছগ্রামের বন্দোবস্তকৃত খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি (খারিজ) করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এতে আরাজি পলাশবাড়ি মৌজার অন্তত ৭২ একর সরকারি জমি বেহাত হওয়ার পাশাপাশি গুচ্ছগ্রামের শতাধিক ভূমিহীন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার উচ্ছেদ হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদরের আরাজি পলাশবাড়ি মৌজার এসএ ২০০১, ২০৭৩ ও ২০৭৪ দাগের নিষ্কন্টক খাস জমিতে ১৯৮৯ সাল থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৫৯টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করেছে সরকার। এমনকি বীরপ্রতীক তারামন বিবিকেও এই মৌজায় জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল। তবে আরএস রেকর্ডে এই খাস জমিগুলো ভুলবশত (ভ্রমাত্মক) কিছু ব্যক্তির নামে অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই রেকর্ড সংশোধনের আবেদন বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন ২০২৩ ও ২০২৫ সালে পৃথক চিঠিতে নির্দেশ দেয় যে—আরএস রেকর্ড সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এসএ রেকর্ড অনুযায়ী যেন সরকারি স্বার্থ রক্ষা করা হয়। কিন্তু বর্তমান এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম যোগদানের পর জেলা প্রশাসনের সেই নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে আরএস অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি শুরু করেন।
গুচ্ছগ্রামবাসীর অভিযোগ, মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও সদর ভূমি অফিসের একটি সিন্ডিকেট এই জালিয়াতির সাথে জড়িত। সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতিমধ্যে প্রায় পৌনে ৩ একর খাস জমির নামজারি সম্পন্ন করে ভূমি উন্নয়ন করও আদায় করা হয়েছে।
গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর আজিম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকার আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছে, কিন্তু এখন এসিল্যান্ড তলে তলে সেই জমি অন্যদের নামে লিখে দিচ্ছেন। আমরা এখন কোথায় যাব?"
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌর ভূমি অফিসের তহশিলদার আব্দুল হাকিম শেখ প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে জানান, আরএস গেজেট হওয়ার পর এসএ অনুযায়ী খাজনা নেওয়ার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম জেলা প্রশাসনের চিঠির গুরুত্ব অস্বীকার করে বলেন, "আরএস রেকর্ড অনুযায়ী নামজারি করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের চিঠি আমি পাইনি, পেলেও তা বিধিসম্মত নয় জানিয়ে উত্তর দিতাম।" যদিও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি স্বার্থ থাকলে আরএস রেকর্ড হওয়ার পরও নামজারি স্থগিত রেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জানান, জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করে এসিল্যান্ড রাষ্ট্রের স্বার্থহানি করেছেন, যা প্রশাসনিক ভাষায় 'অসদাচরণ'। তিনি অবিলম্বে এই অবৈধ নামজারি বাতিল এবং দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বর্তমানে এই ঘটনায় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও উচ্ছেদ আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারের কয়েক দশকের আবাসন উদ্যোগ বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।
স্থান: আরাজি পলাশবাড়ি মৌজা, কুড়িগ্রাম সদর।
মূল অভিযুক্ত: এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস সিন্ডিকেট।
ক্ষতির পরিমাণ: প্রায় ৭২ একর সরকারি খাস জমি ও শতাধিক পরিবারের আবাসন।
নির্দেশনা লঙ্ঘন: জেলা প্রশাসনের ২০২৩ ও ২০২৫ সালের চিঠির আদেশ অমান্য।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম |
কুড়িগ্রাম সদরে জেলা প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে গুচ্ছগ্রামের বন্দোবস্তকৃত খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি (খারিজ) করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এতে আরাজি পলাশবাড়ি মৌজার অন্তত ৭২ একর সরকারি জমি বেহাত হওয়ার পাশাপাশি গুচ্ছগ্রামের শতাধিক ভূমিহীন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার উচ্ছেদ হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদরের আরাজি পলাশবাড়ি মৌজার এসএ ২০০১, ২০৭৩ ও ২০৭৪ দাগের নিষ্কন্টক খাস জমিতে ১৯৮৯ সাল থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৫৯টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করেছে সরকার। এমনকি বীরপ্রতীক তারামন বিবিকেও এই মৌজায় জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল। তবে আরএস রেকর্ডে এই খাস জমিগুলো ভুলবশত (ভ্রমাত্মক) কিছু ব্যক্তির নামে অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই রেকর্ড সংশোধনের আবেদন বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন ২০২৩ ও ২০২৫ সালে পৃথক চিঠিতে নির্দেশ দেয় যে—আরএস রেকর্ড সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এসএ রেকর্ড অনুযায়ী যেন সরকারি স্বার্থ রক্ষা করা হয়। কিন্তু বর্তমান এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম যোগদানের পর জেলা প্রশাসনের সেই নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে আরএস অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি শুরু করেন।
গুচ্ছগ্রামবাসীর অভিযোগ, মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও সদর ভূমি অফিসের একটি সিন্ডিকেট এই জালিয়াতির সাথে জড়িত। সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতিমধ্যে প্রায় পৌনে ৩ একর খাস জমির নামজারি সম্পন্ন করে ভূমি উন্নয়ন করও আদায় করা হয়েছে।
গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর আজিম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকার আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছে, কিন্তু এখন এসিল্যান্ড তলে তলে সেই জমি অন্যদের নামে লিখে দিচ্ছেন। আমরা এখন কোথায় যাব?"
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌর ভূমি অফিসের তহশিলদার আব্দুল হাকিম শেখ প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে জানান, আরএস গেজেট হওয়ার পর এসএ অনুযায়ী খাজনা নেওয়ার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম জেলা প্রশাসনের চিঠির গুরুত্ব অস্বীকার করে বলেন, "আরএস রেকর্ড অনুযায়ী নামজারি করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের চিঠি আমি পাইনি, পেলেও তা বিধিসম্মত নয় জানিয়ে উত্তর দিতাম।" যদিও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি স্বার্থ থাকলে আরএস রেকর্ড হওয়ার পরও নামজারি স্থগিত রেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জানান, জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করে এসিল্যান্ড রাষ্ট্রের স্বার্থহানি করেছেন, যা প্রশাসনিক ভাষায় 'অসদাচরণ'। তিনি অবিলম্বে এই অবৈধ নামজারি বাতিল এবং দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বর্তমানে এই ঘটনায় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও উচ্ছেদ আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারের কয়েক দশকের আবাসন উদ্যোগ বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।
স্থান: আরাজি পলাশবাড়ি মৌজা, কুড়িগ্রাম সদর।
মূল অভিযুক্ত: এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস সিন্ডিকেট।
ক্ষতির পরিমাণ: প্রায় ৭২ একর সরকারি খাস জমি ও শতাধিক পরিবারের আবাসন।
নির্দেশনা লঙ্ঘন: জেলা প্রশাসনের ২০২৩ ও ২০২৫ সালের চিঠির আদেশ অমান্য।

আপনার মতামত লিখুন