ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ভূরুঙ্গামারীতে ড্রেজার দিয়ে অ'বৈধ বালু উত্তোলন: হু'মকির মুখে ১২ কোটি টাকার তীর রক্ষা বাঁধ

ভূরুঙ্গামারীতে ড্রেজার দিয়ে অ'বৈধ বালু উত্তোলন: হু'মকির মুখে ১২ কোটি টাকার তীর রক্ষা বাঁধ
DSK TV chanel সংগ্রীত

ভূরুঙ্গামারীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে ১২ কোটি টাকার তীর রক্ষা বাঁধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সরকারি আইন অমান্য করে দুধকুমার নদ থেকে অবৈধভাবে ও নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে একটি শক্তিশালী চক্র। উপজেলার চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলায় হুমকির মুখে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নবনির্মিত তীর রক্ষা বাঁধ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় বাঁধ ধসে ব্যাপক জনবসতি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নিয়মনীতির তোয়াক্কা নেই

সরেজমিনে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের হামিদ মোল্লার দুই ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও মাইদুল ইসলাম এবং তিলাই ইউনিয়নের খোঁচ বাড়ি এলাকার আসাদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো প্রকার ইজারা বা অনুমতি ছাড়াই তারা নদীর বুক থেকে বালু তুলে বিক্রি করছেন। দৈনিক ৮ থেকে ১০টি ভটভটিতে করে এসব বালু পরিবহন করা হচ্ছে, যা প্রতি গাড়ি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়।

ঝুঁকিতে ১২ কোটি টাকার প্রকল্প

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় ৫শ মিটার দীর্ঘ একটি তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে। অথচ ‘বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০’ অনুযায়ী বাঁধ বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও, ড্রেজার মালিকরা বাঁধের একদম কোল ঘেঁষেই বালু তুলছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল ও মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

"নদীর ভাঙন ঠেকাতে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে ব্লক বসাচ্ছে, আর এই বালু ব্যবসায়ীরা ব্লকের পাশ থেকেই বালু সরাচ্ছে। এতে ব্লকের নিচের মাটি সরে গিয়ে বাঁধটি ধসে যাবে। আমরা বাধা দিতে গেলে প্রভাবশালীদের ভয়ে কথা বলতে পারি না।"

প্রশাসনের নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন

বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ড্রেজার মালিক জাহাঙ্গীর আলম স্বীকার করেন যে, তাদের কোনো প্রশাসনিক অনুমতি নেই। তবে তারা মানুষের ভিটে উঁচু করার জন্য বালু তুলছেন বলে দাবি করেন।

চর-ভূরুঙ্গামারী ইউপি চেয়ারম্যান মানিক উদ্দিন জানান, "বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব।"

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্য দিবালোকে এই ধ্বংসযজ্ঞ চললেও পাউবো বা স্থানীয় প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, "এ বিষয়ে পুলিশের সরাসরি কিছু করার নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা বা বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য ইউএনও বা এসিল্যান্ড মহোদয়ের নির্দেশনা প্রয়োজন।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদলিজনিত কারণে না থাকায় বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এক ধরণের প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যার সুযোগ নিচ্ছে বালু খেকো চক্রটি। অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


ভূরুঙ্গামারীতে ড্রেজার দিয়ে অ'বৈধ বালু উত্তোলন: হু'মকির মুখে ১২ কোটি টাকার তীর রক্ষা বাঁধ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ভূরুঙ্গামারীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে ১২ কোটি টাকার তীর রক্ষা বাঁধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সরকারি আইন অমান্য করে দুধকুমার নদ থেকে অবৈধভাবে ও নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে একটি শক্তিশালী চক্র। উপজেলার চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলায় হুমকির মুখে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নবনির্মিত তীর রক্ষা বাঁধ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় বাঁধ ধসে ব্যাপক জনবসতি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নিয়মনীতির তোয়াক্কা নেই

সরেজমিনে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের হামিদ মোল্লার দুই ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও মাইদুল ইসলাম এবং তিলাই ইউনিয়নের খোঁচ বাড়ি এলাকার আসাদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো প্রকার ইজারা বা অনুমতি ছাড়াই তারা নদীর বুক থেকে বালু তুলে বিক্রি করছেন। দৈনিক ৮ থেকে ১০টি ভটভটিতে করে এসব বালু পরিবহন করা হচ্ছে, যা প্রতি গাড়ি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়।

ঝুঁকিতে ১২ কোটি টাকার প্রকল্প

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় ৫শ মিটার দীর্ঘ একটি তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে। অথচ ‘বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০’ অনুযায়ী বাঁধ বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও, ড্রেজার মালিকরা বাঁধের একদম কোল ঘেঁষেই বালু তুলছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল ও মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

"নদীর ভাঙন ঠেকাতে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে ব্লক বসাচ্ছে, আর এই বালু ব্যবসায়ীরা ব্লকের পাশ থেকেই বালু সরাচ্ছে। এতে ব্লকের নিচের মাটি সরে গিয়ে বাঁধটি ধসে যাবে। আমরা বাধা দিতে গেলে প্রভাবশালীদের ভয়ে কথা বলতে পারি না।"

প্রশাসনের নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন

বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ড্রেজার মালিক জাহাঙ্গীর আলম স্বীকার করেন যে, তাদের কোনো প্রশাসনিক অনুমতি নেই। তবে তারা মানুষের ভিটে উঁচু করার জন্য বালু তুলছেন বলে দাবি করেন।

চর-ভূরুঙ্গামারী ইউপি চেয়ারম্যান মানিক উদ্দিন জানান, "বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব।"

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্য দিবালোকে এই ধ্বংসযজ্ঞ চললেও পাউবো বা স্থানীয় প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, "এ বিষয়ে পুলিশের সরাসরি কিছু করার নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা বা বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য ইউএনও বা এসিল্যান্ড মহোদয়ের নির্দেশনা প্রয়োজন।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদলিজনিত কারণে না থাকায় বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এক ধরণের প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যার সুযোগ নিচ্ছে বালু খেকো চক্রটি। অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।



ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল