দেশে উদ্ভাবন ও গবেষণার ফল যথাযথভাবে সংরক্ষণ না হওয়ায় তা বিদেশে গিয়ে নিবন্ধিত হচ্ছে—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এ বিশ্ব মেধাসত্ত্ব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ‘ব্রেইন-ড্রেইন’ বা মেধা পাচারের বিষয়টি আলোচিত হলেও এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—দেশীয় উদ্ভাবন, গবেষণা ও সৃজনশীল কাজের স্বত্ব যথাসময়ে দেশে নিবন্ধন না হওয়া। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশি উদ্ভাবন বা আইডিয়া বিদেশে গিয়ে পেটেন্ট, কপিরাইট বা ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধিত হচ্ছে, অথচ দেশে তা সুরক্ষিত হচ্ছে না।
শিক্ষামন্ত্রীর ভাষায়, এটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; বরং জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ। কারণ, কোনো উদ্ভাবন বা প্রযুক্তির স্বত্ব যদি অন্য দেশে নিবন্ধিত হয়ে যায়, তাহলে সেই উদ্ভাবন থেকে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ বাংলাদেশ হারায়। ফলে দেশের উদ্ভাবনী সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তার যথাযথ মূল্যায়ন ও ব্যবহার সম্ভব হয় না।
তিনি এ পরিস্থিতিকে সরাসরি প্রশাসনিক দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং সচেতনতার ঘাটতিকে তিনি এর মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। অনেক উদ্ভাবক বা গবেষক জানেন না কীভাবে তাদের কাজের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ করতে হয়, আবার যারা জানেন তারাও অনেক সময় জটিল প্রক্রিয়ার কারণে এগোতে পারেন না।
এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং উদ্ভাবকদের মধ্যে মেধাস্বত্ব বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী দেশের মেধাস্বত্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মেধা ও উদ্ভাবনের অভাব নেই; অভাব রয়েছে সেই মেধাকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও কাজে লাগানোর। তাই নীতিগত সংস্কার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
দেশে উদ্ভাবন ও গবেষণার ফল যথাযথভাবে সংরক্ষণ না হওয়ায় তা বিদেশে গিয়ে নিবন্ধিত হচ্ছে—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এ বিশ্ব মেধাসত্ত্ব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ‘ব্রেইন-ড্রেইন’ বা মেধা পাচারের বিষয়টি আলোচিত হলেও এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—দেশীয় উদ্ভাবন, গবেষণা ও সৃজনশীল কাজের স্বত্ব যথাসময়ে দেশে নিবন্ধন না হওয়া। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশি উদ্ভাবন বা আইডিয়া বিদেশে গিয়ে পেটেন্ট, কপিরাইট বা ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধিত হচ্ছে, অথচ দেশে তা সুরক্ষিত হচ্ছে না।
শিক্ষামন্ত্রীর ভাষায়, এটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; বরং জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ। কারণ, কোনো উদ্ভাবন বা প্রযুক্তির স্বত্ব যদি অন্য দেশে নিবন্ধিত হয়ে যায়, তাহলে সেই উদ্ভাবন থেকে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ বাংলাদেশ হারায়। ফলে দেশের উদ্ভাবনী সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তার যথাযথ মূল্যায়ন ও ব্যবহার সম্ভব হয় না।
তিনি এ পরিস্থিতিকে সরাসরি প্রশাসনিক দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং সচেতনতার ঘাটতিকে তিনি এর মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। অনেক উদ্ভাবক বা গবেষক জানেন না কীভাবে তাদের কাজের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ করতে হয়, আবার যারা জানেন তারাও অনেক সময় জটিল প্রক্রিয়ার কারণে এগোতে পারেন না।
এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং উদ্ভাবকদের মধ্যে মেধাস্বত্ব বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী দেশের মেধাস্বত্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মেধা ও উদ্ভাবনের অভাব নেই; অভাব রয়েছে সেই মেধাকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও কাজে লাগানোর। তাই নীতিগত সংস্কার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন