ডি এস কে টিভি চ্যানেল

দিনাজপুরে এলপিজি গ্যাস নিয়ে ভোক্তাদের ক্ষোভ

১৩৪১ টাকার সিলিন্ডার বেড়ে ১৭২৮ টাকা, বিক্রি ২২০০-তে

১৩৪১ টাকার সিলিন্ডার বেড়ে ১৭২৮ টাকা, বিক্রি ২২০০-তে

১৩৪১ টাকার সিলিন্ডার ২২০০ টাকায়: দিনাজপুরে এলপিজি গ্যাস নিয়ে ভোক্তাদের ক্ষোভ

দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলা জুড়ে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নিয়ে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন ক্রেতারা। স্থানীয়দের দাবি, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন নির্ধারিত দাম ১৭২৮ টাকা হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২১০০ থেকে ২২০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের অন্তত ২২টি হাট-বাজারে এই অতিরিক্ত দাম নেওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অনেক ক্রেতা অভিযোগ করেন, দোকানিরা পরিবহন খরচ, সরবরাহ সংকট ও কমিশনের অজুহাত দেখিয়ে বাড়তি টাকা নিচ্ছেন। তবে এসব ব্যাখ্যা মানতে নারাজ সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, সরকারি ঘোষণার পরও বাজার নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সুযোগ নিচ্ছেন কিছু ব্যবসায়ী।

একজন ক্রেতা বলেন, আগে যেখানে ১৩৪১ টাকায় সিলিন্ডার পাওয়া যেত, এখন সেটি ২২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। হঠাৎ এত বড় মূল্যবৃদ্ধি সংসারের খরচে বড় চাপ ফেলছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বেশি বিপাকে পড়েছে। রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিকল্পও নেই বলে জানান তারা।

স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একই এলাকায় ভিন্ন দোকানে দামের পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ২১০০ টাকা, কোথাও ২১৫০ আবার কোথাও ২২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, কোনো মূল্যতালিকা ঝুলানো নেই এবং লিখিত রসিদও অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া হচ্ছে না।

ভোক্তাদের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তারা দ্রুত বাজার তদারকি, নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ পেলে অভিযান চালানো হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এলপিজি গ্যাসের বাড়তি দামে শুধু গৃহস্থালি নয়, ছোট হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। তাদের অনেকেই খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে কাহারোলজুড়ে এলপিজি গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জোরালো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬


১৩৪১ টাকার সিলিন্ডার বেড়ে ১৭২৮ টাকা, বিক্রি ২২০০-তে

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

১৩৪১ টাকার সিলিন্ডার ২২০০ টাকায়: দিনাজপুরে এলপিজি গ্যাস নিয়ে ভোক্তাদের ক্ষোভ

দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলা জুড়ে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নিয়ে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন ক্রেতারা। স্থানীয়দের দাবি, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন নির্ধারিত দাম ১৭২৮ টাকা হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২১০০ থেকে ২২০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের অন্তত ২২টি হাট-বাজারে এই অতিরিক্ত দাম নেওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অনেক ক্রেতা অভিযোগ করেন, দোকানিরা পরিবহন খরচ, সরবরাহ সংকট ও কমিশনের অজুহাত দেখিয়ে বাড়তি টাকা নিচ্ছেন। তবে এসব ব্যাখ্যা মানতে নারাজ সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, সরকারি ঘোষণার পরও বাজার নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সুযোগ নিচ্ছেন কিছু ব্যবসায়ী।

একজন ক্রেতা বলেন, আগে যেখানে ১৩৪১ টাকায় সিলিন্ডার পাওয়া যেত, এখন সেটি ২২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। হঠাৎ এত বড় মূল্যবৃদ্ধি সংসারের খরচে বড় চাপ ফেলছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বেশি বিপাকে পড়েছে। রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিকল্পও নেই বলে জানান তারা।

স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একই এলাকায় ভিন্ন দোকানে দামের পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ২১০০ টাকা, কোথাও ২১৫০ আবার কোথাও ২২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, কোনো মূল্যতালিকা ঝুলানো নেই এবং লিখিত রসিদও অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া হচ্ছে না।

ভোক্তাদের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তারা দ্রুত বাজার তদারকি, নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ পেলে অভিযান চালানো হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এলপিজি গ্যাসের বাড়তি দামে শুধু গৃহস্থালি নয়, ছোট হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। তাদের অনেকেই খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে কাহারোলজুড়ে এলপিজি গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জোরালো হচ্ছে।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল