ডি এস কে টিভি চ্যানেল

১৯ বছর পর মাতৃভূমির মাটিতে ময়নুলের ফেরা — এক মানবিকতার অনন্য গল্প

১৯ বছর পর মাতৃভূমির মাটিতে ময়নুলের ফেরা — এক মানবিকতার অনন্য গল্প
? ১৯ বছর পর মাতৃভূমির মাটিতে ময়নুলের ফেরা — এক মানবিকতার অনন্য গল্প দীর্ঘ ১৯ বছরের অপেক্ষার অবসান। যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের মাটিতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই শেষে অবশেষে বাংলাদেশে ফিরেছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ময়নুল হক। ভাগ্য যেন তার জীবনটাকে নাটকের মতো ঘুরিয়ে দিয়েছে—তবু শেষ পর্যন্ত দেশের পতাকাই তাকে ফিরিয়ে এনেছে ঘরে। ২০২৫ সালের মে মাসে সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে (UNISFA) টহলে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ন ব্যানব্যাট–৩ হঠাৎ এক অসহায় প্রবাসীকে দেখতে পায়। পরিচয় মেলে—তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ময়নুল হক। প্রায় দুই দশক আগে ঠিকাদারির কাজে খার্তুমে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গৃহযুদ্ধের আগুনে সব কিছু ভস্মীভূত হয়ে যায়—নথিপত্র হারিয়ে ফেলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় পরিবার থেকে। একাকী, অবরুদ্ধ জীবনে কাটিয়েছেন বছর পর বছর। যেদিন বাংলাদেশ সেনারা তাকে খুঁজে পায়, সেদিন তার চোখে ছিল একটাই প্রশ্ন—"আমি কি আবার আমার দেশে ফিরতে পারব?" সেনাসদস্যরা হাত বাড়িয়ে দেন। যোগাযোগ করা হয় তার গ্রামের বাড়ির সঙ্গে, নিশ্চিত করা হয় পরিচয়, আর শুরু হয় দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইথিওপিয়ায় অবস্থিত দূতাবাসের সহযোগিতায় ময়নুলের জন্য ‘ট্রাভেল পারমিট’ ইস্যু করা হয়। আর্থিক সহায়তাও আসে তার ফ্লাইটের খরচের জন্য। অবশেষে ২৯ অক্টোবর আবেই থেকে জুবা হয়ে, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সে চেপে তিনি নামেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে—নিজ মাটির গন্ধে ভরে ওঠে বুক। পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের মুহূর্তে চোখ ভিজে ওঠে তার। কৃতজ্ঞচিত্তে তিনি বলেন, > “বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। ওরা না থাকলে হয়তো আমি কখনও দেশে ফিরতে পারতাম না।” বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও এই মানবিক অভিযানে যুক্ত হয়ে গর্বিত। তারা জানায়— > “দেশের মানুষ যেখানেই থাকুক, প্রয়োজনে আমরা পাশে থাকব।” মানুষের ১৯ বছরের বন্দিদশা শেষে স্বাধীন মাটিতে ফেরার এই গল্প কেবল মানবিকতারই নয়—এটি বাংলাদেশের মর্যাদা, ভালোবাসা আর সেনাবাহিনীর অটুট দায়িত্ববোধের প্রতীক। ❤️??

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


১৯ বছর পর মাতৃভূমির মাটিতে ময়নুলের ফেরা — এক মানবিকতার অনন্য গল্প

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫

featured Image
? ১৯ বছর পর মাতৃভূমির মাটিতে ময়নুলের ফেরা — এক মানবিকতার অনন্য গল্প দীর্ঘ ১৯ বছরের অপেক্ষার অবসান। যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের মাটিতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই শেষে অবশেষে বাংলাদেশে ফিরেছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ময়নুল হক। ভাগ্য যেন তার জীবনটাকে নাটকের মতো ঘুরিয়ে দিয়েছে—তবু শেষ পর্যন্ত দেশের পতাকাই তাকে ফিরিয়ে এনেছে ঘরে। ২০২৫ সালের মে মাসে সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে (UNISFA) টহলে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ন ব্যানব্যাট–৩ হঠাৎ এক অসহায় প্রবাসীকে দেখতে পায়। পরিচয় মেলে—তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ময়নুল হক। প্রায় দুই দশক আগে ঠিকাদারির কাজে খার্তুমে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গৃহযুদ্ধের আগুনে সব কিছু ভস্মীভূত হয়ে যায়—নথিপত্র হারিয়ে ফেলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় পরিবার থেকে। একাকী, অবরুদ্ধ জীবনে কাটিয়েছেন বছর পর বছর। যেদিন বাংলাদেশ সেনারা তাকে খুঁজে পায়, সেদিন তার চোখে ছিল একটাই প্রশ্ন—"আমি কি আবার আমার দেশে ফিরতে পারব?" সেনাসদস্যরা হাত বাড়িয়ে দেন। যোগাযোগ করা হয় তার গ্রামের বাড়ির সঙ্গে, নিশ্চিত করা হয় পরিচয়, আর শুরু হয় দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইথিওপিয়ায় অবস্থিত দূতাবাসের সহযোগিতায় ময়নুলের জন্য ‘ট্রাভেল পারমিট’ ইস্যু করা হয়। আর্থিক সহায়তাও আসে তার ফ্লাইটের খরচের জন্য। অবশেষে ২৯ অক্টোবর আবেই থেকে জুবা হয়ে, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সে চেপে তিনি নামেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে—নিজ মাটির গন্ধে ভরে ওঠে বুক। পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের মুহূর্তে চোখ ভিজে ওঠে তার। কৃতজ্ঞচিত্তে তিনি বলেন, > “বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। ওরা না থাকলে হয়তো আমি কখনও দেশে ফিরতে পারতাম না।” বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও এই মানবিক অভিযানে যুক্ত হয়ে গর্বিত। তারা জানায়— > “দেশের মানুষ যেখানেই থাকুক, প্রয়োজনে আমরা পাশে থাকব।” মানুষের ১৯ বছরের বন্দিদশা শেষে স্বাধীন মাটিতে ফেরার এই গল্প কেবল মানবিকতারই নয়—এটি বাংলাদেশের মর্যাদা, ভালোবাসা আর সেনাবাহিনীর অটুট দায়িত্ববোধের প্রতীক। ❤️??

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল