"অর্থলোভী প্রতারক ডাঃ কে এম আতিকুল ইসলামরে দায়িত্বহীনতা ও অবহেলায় নিভে গেল তরুণ যুবক হেলালের জীবন"
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৫
"অর্থলোভী প্রতারক ডাঃ কে এম আতিকুল ইসলামরে দায়িত্বহীনতা ও অবহেলায় নিভে গেল তরুণ যুবক হেলালের জীবন"
আর সুনন্দ সেলাশ, সঙ্গপ ৩৯ কিছুদিন পূর্ব থেকে সান লেখে বাপলা দেখতে পাওয়ায় চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে এফআরআই করেন। রিপোর্টে জানা যায়, তার ব্রেনে ছোট একটি টিউমার আছে। ব্রেন টিউমারের সুচিকিৎসার আশায় গিয়েছিলেন ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালের কনস্যালটেন্ট ডাঃ কে এম আতিকুল ইসলামের নিকট। কিন্তু তার কাছে তিনি পেয়েছেন অদক্ষতা, অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার নির্মম প্রতিফলন।
হেলালের এমআরআই রিপোর্টে উল্লেখ আছে তার ব্রেনে ছোট সাইজের (৩.৬৬০২.৬৪০২.১৮) সে. মি. (Macroadenoma of pituitary gland) টিউমার আছে। একজন চিকিৎসক নিকট আত্মীয়ের পরামর্শে হেলাল, একমাত্র ছোট বোন, স্ত্রী, শ্বশুর ও চাচা শ্বশুরকে নিয়ে ডাঃ কে এম আতিকুল ইসলাম এর সাথে ১২/০৭/২০২৫ তারিখ রাতে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল কাকরাইলে সাক্ষাৎ করেন। অর্থলোভী ডাঃ কেএম আতিকুল ইসলাম হেলালের এমআরআই রিপোর্ট দেখে বলেন, এটা দ্রুত অপারেশন করতে হবে। নাকের ভিতরে একটা পাইপ দিয়ে এন্ডোস্কপিক সার্জারীর মাধ্যমে টিউমারটি তিনি অপারেশন করবেন। এটা একটা মাইনর অপারেশনে এতে কোন কাঁটা ছেঁড়া ও ঝুঁকি নাই। তিনি জাপানে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত বাংলাদেশের একমাত্র এন্ডোস্কপিক নিউরোসার্জন। তিনি আরও বলেন, আমি শত শত এ ধরনের অপারেশন করেছি। ৪ (চার) দিন পর হেলাল হেঁটে অফিস করতে পারবেন এবং সুস্থ হওয়ার শতভাগ গ্যারেন্টি দেন। এই সার্জন হেলালের এ ধরনের আপারেশনে কোন ধরনের ঝুঁকি থাকতে পারে এমন কথা একবারও বলেননি। হেলাল নিউরোসাইন্স হাসপাতালে অপারেশন করতে চাইলে এই চতুর চিকিৎসক বলেন, ঐখানে তো আপনারা ৩ (তিন) মাসেও সিরিয়াল পাবেন না। তাছাড়া সেখানে জুনিয়ররা আপারেশন করবে এবং মেশিনপত্রও ভালো না। নিউরোসাইন্সের খরচও এখানকার প্রায় কাছাকাছি। হেলাল তার ছোট শ্যালিকার ২৫/৭/২০২৫ তারিখে বিয়ের অনুষ্ঠান থাকায় অপারেশনটি উক্ত তারিখের পরে যে কোন সময়ে করতে চাইলে প্রতারক এই চিকিৎসক হেলালকে তার বাম চোখ অন্ধ হওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে সময়ক্ষেপন না করার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের মনে ভয় ছিল রোগীকে সময় দিলে এ বোগী তার হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। এতে তিনি কাঙ্খিত অর্থ উর্পাজন থেকে বঞ্চিত হবেন। এক পর্যায়ে হেলালের চিকিৎসা দেশের বাইরে করাতে চাই বললে, তখন এই চিকিৎসক মিথ্যা কথার ফুলঝুড়ি ও ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে বলেন, দেশের বাইরে কেন যাবেন? অনেকেই বিদেশ থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসে আমার কাছে অপারেশন করেছে। ওদের চেয়ে আমি ভাল কাজ করি এবং এধরনের একের পর এক মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে হেলালকে পরের দিন ভর্তি হয়ে যেতে বলেন। চিকিৎসক অপারেশন ব্যয় বাবদ প্যাকেজ মূল্য ২,৬০,০০০/- (দুই লক্ষ ষাট হাজার) টাকা দাবী করেন। তখন উপস্থিত সবাই ২,৫০,০০০/- (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা নিতে বলা হয়। হেলাল তখন সার্জনের কথায় পূর্ন আস্থা ও সরল বিশ্বাসে অফিস থেকে মাত্র ০৫ (পাঁচ) দিন ছুটি নিয়ে ১৪/০৭/২০২৫ তারিখে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তি হতে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানে কোন প্যাকেজ নাই। সার্জন ফি আলাদা এবং হাসপাতালের বিল আলাদা। তখন হেলাল একটি নন এসি কেবিনে ভর্তি হতে চাইলেও সেখানকার কর্মীরা নন এসি কেবিনগুলো নিজেদের হাতে সংরক্ষিত রেখে বেশী দামের এসি কেবিন নিতে হেলালকে বাধ্য করেন। বাধ্য হয়ে হেলাল ৯৩০ নম্বর এসি কেবিনে ভর্তি হয়। ভর্তির সময় হেলালের রক্ত চাপ বেশী ছিল। পরদিন ১৫/০৭/২০২৫ তারিখও তার রক্ত চাপ বেশী ছিল কিন্তু অন্য সকল পরীক্ষা নিরীক্ষার ফলাফল স্বাভাবিক ছিল অর্থাৎ মাথায় ছোট টিউমারটি ছাড়া হেলালের কোথাও কোন সমস্য নেই। বেশী রক্ত চাপ থাকা সত্বেও এই লোভী সার্জন টাকার লোভে ঐদিনই তার অপারেশন করেন। অপারেশন শেষ করে বিষন্ন মুখে এই সার্জন বের হয়ে বলেন, একটা মেজর অপারেশন হয়েছে, আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। একটা টিউমার সম্পূর্ণ এনেছি। আর অন্যটি যেটুকু আমার ক্যামেরায় দেখা গেছে সেটুকু এনেছি। কিছু অংশ রয়ে গেছে। আগামী ২দিন হেলারের জন্য বিপদজনক সবাই আল্লাহকে ডাকেন। সার্জনের অপারেশনের পর এ ধরনের ভাষ্যেই প্রতীয়মান হয় তিনি অপারেশনের সময় এমন কিছু ঘটিয়েছেন যে, হেলাল আর বাঁচবে না। এমআরআই রিপোর্টে ১টি ছোট টিউমারের বিবরন থাকলেও তিনি ২টি টিউমার অপসরনের কথা বলেন, যা তার অদক্ষতা ও ভুল অপারেশনের প্রমান। এছাড়া সার্জনের সাথে স্বাক্ষাৎ কালে এটাকে মাইনর অপারেশন বলেছিলেন। তাৎক্ষনিক সার্জন তার ফি পরিশোধ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। রোগীর লোকজন তাকে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা পরিশোধ করতে চাইলে তিনি বলেন, সম্পূর্ন ফি ১,৩০,০০০/- (এক লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা এক সঙ্গে দিতে হবে। সার্জন অপারেশনের পরে আমাদের কোন অপসারণকৃত টিউমারের স্যাম্পল বায়োপসি করার জন্য দেননি। পরদিন ছোট ২টি ব্রেন টিস্যুর স্যাম্পল দেওয়া হয় বায়োপসি করার জন্য (বায়োপসি রিপোর্টে যার বিবরণ আছে)।
অপারেশনের পরে সাধারন পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে অন্যান্য সাধারন রোগীর সাথে ব্রেনে সার্জারী করা হেলাল কে রাখা হয়। অপারেশন শেষে ১ ঘন্টার মধ্যেই তার জ্ঞান ফিরিয়ে এনে প্রতারক সার্জন ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও রেকর্ড করে রাখেন, রোগী বেঁচে আছে দেখানোর জন্য। কিন্তু সেই ভিডিওতে দেখা যায় রোগী মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। পরদিন সকালে রোগীর জ্ঞান ফিরলে তাকে স্যুপ ও জাউ ভাত খেতে দেওয়া হয়। রোগীর নাকে একটি মোটা পাইপ লাগানো থাকা সত্বেও তাকে ওরাল ঔষধ ও খাবার দেওয়া হয়। এতে রোগীর খুব কষ্ট হচ্ছিল। দায়িত্বরত সেবিকাদের অবগত করলে তারা জানান, সার্জন এ ধরনের নির্দেশ দিয়েছেন
১৬/০৭/২০২৫ইং তারিখ রাতে হেলালের ব্রেইনের ১টি সিটি স্ক্যান করা হয়, উক্ত ফিল্ম সার্জন দেখেন কিন্তু রোগীর স্বজনদের দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ২৯/০৭/২০২৫ ও ১০/০৮/২০২৫ তারিখে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল ব্যাংক হসপিটাল পরিচালক বরাবর আবেদন করেও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। ১৬/০৭/২০২৫ তারিখ রাত ৮:০০টার দিকে সার্জনকে তার চাহিত ১,৩০,০০০/-টাকা পরিশোধ বল্লার পময় তার নিকট রোগীর প্রবস্থা জানতে চাওয়া হয়। সুচতুর এই সার্জন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে বলেন, রোগী অবস্থা তো আপনারাই আমাকে বলবেন। রাত একটু বেশী হলে রোগীর কোন এ্যাটেনডেন্টকে রোগীর কাছে যেতে দেওয়া হয় না। ২/৩ জন অল্প বয়সী অদক্ষ নার্স পোস্ট অপারেটিভে ডিউটিতে থাকেন। অপারেশনের রাতে ও পরের দিন রাতে রোগীর মাথায় প্রচন্ড যন্ত্রনা হয়, ফলে রোগী তার নাকের পাইপ টেনে ছিঁড়ে ফেলেন। এটা দেখার বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কেউ ছিল না। পরের দিন সকালে আমরা রোগীকে আংশিক অচেতন এবং নাকে পাইপ বিহীন দেখতে পেয়ে, এ বিষয়ে সেবিকাদের কাছে হেলালের এটেনডেন্টরা জানতে চাইলে তারা জানান, এ বিষয়ে সার্জনের সাথে কথা হয়েছে কোন অসুবিধা নেই। রোগী ঘুমাচ্ছে তাকে বিরক্ত করবেন না। ১৭/০৭/২০২৫ তারিখ সারাদিন হেলাল ধীরে ধীরে অচেতন থেকে আরো অচেতন হতে থাকে। আত্মীয় স্বজনেরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে বার বার সেবিকাদের অবগত করলে তারা জানান, সার্জনকে ভিডিওকলে দেখিয়েছেন রোগীর অবস্থা। সার্জন ভিডিওকলে রোগী দেখে কিছু ঔষধ পরিবর্তন করে দিয়ে তার দায়িত্ব শেষ করেছেন। কিন্তু রোগীর অবস্থা ধীরে ধীরে অবনতি হতে থাকে। রাত ৮:০০ দিকে সার্জন কে এম আতিকুল ইসলাম এসে হেলালকে পূনরায় ওটিতে নিয়ে উপস্থিত স্বজনদের সবাইকে ডেকে কাউন্সিলিং করেন, অপারেশনের পরে কিছু জটিলতা তৈরী হয়েছে। এখন ঔষধে না কমলে মাথার পানি বের করার জন্য ফুটা করে একটি ড্রেন লাইন করতে হবে, সবার দোয়া চাই। রাত ১১:০০টার দিকে রোগীকে এ্যানেস্থেশিয়া ছাড়াই মাথায় ফুটা করে ড্রেন লাইন করে দিয়ে সার্জন চলে যান। হেলাল সারা রাত অচেতন অবস্থায় পোস্ট অপারেটিভে পড়ে থাকে এবং সকালে তার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হলেও পোস্ট অপারেটিভের কেউ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ১৮/০৭/২০২৫ তারিখ সকাল ১০:০০টার দিকে হেলালের ছোট চাচা এসে হেলালের অবস্থা দেখে তাকে দ্রুত আইসিইউতে নেওয়ার কথা বলেন। তখন ডিউটি ডাক্তার ও নার্সরা তাকে আইসিইিউতে প্রেরণ করেন এবং সকাল ১১:৫৪ মি: আইসিইউতে হেলাল মৃত্যুবরণ করেন। ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল বিল ১,৬৫,৮১৮/- (এক লক্ষ পয়ষট্টি হাজার আটশত আঠার) টাকার জন্য লাশ আটকে রাখেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত বিল আংশিক কমিয়ে ১,৩০,৬৫০/- (এক লক্ষ ত্রিশ হাজার ছয়শত পঞ্চাশ) টাকা বুঝে নিয়ে বিকেল ৪:০০টা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হেলালের লাশ হস্তান্তর করেন।
ঘাতক অর্থলোভী ডাঃ কেএম আতিকুল ইসলাম হেলালকে বাঁচানোর জন্য নূন্যতম চেষ্টাটুকু করেননি। অল্প বয়সী একটা সরল বিশ্বাসী ছেলেকে ভুল অপারেশনের মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করেন। তিনি চাইলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য NINS/DMC/BMU প্রেরন করতে পারতেন অথবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এনে রোগীকে দেখিয়ে পরামর্শ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি ভেবেছেন এসব করলে তার অর্থ আয়ে ভাটা পরবে এবং তার ভুল চিকিৎসার বিষয়ে দেশবাসী জেনে যাবে। তাই সবকিছু গোপন রেখে সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম হেলালকে নির্মমভাবে চিকিৎসার নামে হত্যা করে মায়ের কোল খালি করেছেন। সার্জন ডাঃ কে এম আতিকুল ইসলাম এবং ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন ভাবেই হেলালের মৃত্যুর দায় এড়াতে পারেন না।
হেলাল একজন সদাচারী প্রাণবন্ত হাস্যোজ্জ্বল তরুণ, দুইটি অবুঝ সন্তানের পিতা মাত্র ৮ বছর বয়সেস সড়ক সূর্যটনায় তার বাবাকৈ হারিয়েছিল। তার মা অনেক কষ্ট করে হেলালকে বড় করেছেন। হেলাল ৮ম শ্রেনীতে পড়ার সময় থেকে সংসারের হাল ধরেন এবং লেখাপড়া চালিয়ে যান। মাস্টার্স ডিগ্রী সম্পন্ন করে ডিপিডিসি'তে একটি সম্মানজনক পদে কর্মরত ছিলেন। চিকিৎসা সেবা পাওয়া রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিকঅধিকার হলেও এ ধরনের লোভী প্রতারক চিকিৎসকদের কারণে দেশের মানুষ হারিয়েছে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা। হেলালের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি নিশ্চিত হলেই এধরণের ঘটনায় আর কোন মায়ের বুক খালি হবে না। এ লড়াই শুধু হেলালের জন্য নয় বরং প্রতিটি মানুষের জন্য, যারা চিকিৎসা নিতে গিয়ে অবহেলার শিকার হন। কারণ প্রতিটি জীবন মূল্যবাণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় অবহেলার কোন স্থান নেই।
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন