ফেনসিডিল পাচারকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের সোর্সহিসেবে পরিচিত তিনজনকে আটক
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৫
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতিতে ফেনসিডিল পাচারকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত তিনজনকে আটক করার পর অভিযুক্ত এসআই কামাল হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগাড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক রবিউল আলম খান।
তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় এসআই কামালকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। প্রমাণ মিললে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের ২২ এপ্রিল জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর কাছ থেকে "শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী কর্মকর্তা" হিসেবে পুরস্কার পেয়েছিলেন এসআই কামাল।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) গভীর রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি বাজার এলাকায় স্থানীয়রা তিনজনকে ফেনসিডিল পাচারের সময় আটক করে সেনাবাহিনীর হাতে সোপর্দ করে। তাদের কাছ থেকে ৪৮ বোতল ফেনসিডিল ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার সুখছড়ি এলাকার রমিজ উদ্দিন (৩৫), লোহাগাড়া সদরের নাজিম উদ্দিন (৪৫) এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার তাজুল ইসলাম (৪৯)। এদের একজন রমিজ উদ্দিন স্বীকার করেন, তারা তিনজনই পুলিশের সোর্স এবং উদ্ধারকৃত ফেনসিডিল এসআই কামাল হোসেনের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। তার দাবি, কামাল হোসেন তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন মাদকগুলো পার্বত্য লামার আজিজ নগরে পৌঁছে দিতে।
সোর্সরা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় এসআই কামাল তাদের ঠিক পিছনে একটি গাড়িতে ছিলেন এবং ওই গাড়িতে ইয়াবাও ছিল। তবে সামনের গাড়ি আটক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি দ্রুত পালিয়ে যান।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লোহাগাড়া থানার কিছু পুলিশ সদস্য মাদক উদ্ধারের পর আদালতে জমা না দিয়ে নিজেরাই পাচার করেন—এমন অভিযোগ আগেও শোনা গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে বৃহস্পতিবার দুপুরে খবর পেয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের কয়েকজন ছাত্র দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা চুনতি বাজার এলাকায় অবস্থান নেন এবং অবশেষে পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী তিনজনকে ফেনসিডিলসহ ধরে ফেলতে সক্ষম হন
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন