ন্যায়সঙ্গত সমাজে অতি দারিদ্র্যের কোনো জায়গা নেই : পরিকল্পনা উপদেষ্টা
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ন্যায়সঙ্গত সমাজে অতি দারিদ্র্যের কোনো জায়গা নেই : পরিকল্পনা উপদেষ্টা
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, একটি ন্যায়সঙ্গত সমাজে অতি দারিদ্র্যকে জায়গা দেওয়া যায় না। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ন্যূনতম সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। তাঁর মতে, বাংলাদেশ আর একেবারে গরিব দেশ নয়; আমরা দ্রুতই উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশের পথে। তাই সবার জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারার কোনো অজুহাত আর গ্রহণযোগ্য নয়।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী “ন্যাশনাল কনফারেন্স অন সোশ্যাল প্রটেকশন ২০২৫”-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবেও গ্রহণ করতে হবে। অনেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে না থাকলেও সামান্য ধাক্কাতেই সেখানে নেমে আসতে পারে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “অনেকে নাক বরাবর পানিতে দাঁড়িয়ে আছেন; সামান্য ঢেউ এলেই তলিয়ে যাবেন।”
তিনি আরও জানান, দেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো সঠিকভাবে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। বর্তমানে প্রায় অর্ধেক ভাতাভোগী আসলে যোগ্য নন; রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের কারণে তারা সুবিধাভোগীর তালিকায় নাম তুলেছেন। এতে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ বাদ পড়ে যাচ্ছে। জাতীয়ভাবে সমন্বিত তালিকা তৈরি করা এবং মাঠপর্যায়ের কঠোর তদারকির মাধ্যমেই প্রকৃত উপকারভোগীদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষের জীবিকা টিকিয়ে রাখার ন্যূনতম সুযোগ নিশ্চিত না হলে শিক্ষার সুযোগ বা স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর হবে না। স্বাধীনতার চেতনা কিংবা গত বছরের গণঅভ্যুত্থান—দুটোই সাম্যভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় বহন করে।
তিনি মনে করিয়ে দেন, একসময় রংপুর অঞ্চলকে মৌসুমি দারিদ্র্য বা ‘মঙ্গা’র কারণে চরম দারিদ্র্যপীড়িত হিসেবে দেখা হতো। সংবাদমাধ্যমের কারণে সরকার বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল এবং বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার ফলে সেখানে মৌসুমি ক্ষুধা অনেকটাই কমেছে। তবে নতুন করে নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালীর মতো অঞ্চলে দারিদ্র্য তীব্র আকার নিচ্ছে। এসব এলাকায় বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
শেষে তিনি বলেন, “আমরা কয়েক মাসের জন্য দায়িত্বে থাকলেও একটি কার্যকর রূপরেখা তৈরি করে দিতে চাই। নির্বাচিত সরকার চাইলে সেই পথনকশা অনুসরণ করে এগোতে পারবে।”
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন