বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনীতির অঙ্কগুলো এখন আর আগের মতো নেই
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি মনে করেন, বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনীতির অঙ্কগুলো এখন আর আগের মতো নেই। এক সময় ভোট মানেই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠের শক্তি ও জনপ্রিয়তা, যা অনেকটা পেশিশক্তি, গুণ্ডামি আর চাঁদাবাজির ওপর নির্ভর করত। কিন্তু ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন পরবর্তী বাস্তবতায় এই ধারণা ভেঙে পড়েছে। এখন আর হোন্ডার মিছিল বা সশস্ত্র গুণ্ডা দিয়ে ভোটারদের কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করা বা ব্যালট বাক্স ছিনতাই করার দিন শেষ। প্রযুক্তি যখন বিশ্ব রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) যখন মানুষের অস্তিত্ব ও কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন পুরনো কায়দায় ভোট আদায় করা আর সম্ভব নয়।
রনির দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে দুটি সংগঠন সবচেয়ে কার্যকরভাবে AI ব্যবহার করছে। প্রকাশ্যে জামায়াতে ইসলামী এবং আড়ালে হিজবুত তাহরীর—এরা প্রচার ও প্রোপাগান্ডায় প্রযুক্তি দিয়ে প্রভাব বিস্তার করছে। তিনি নিজের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে বলেন, বহুদিনের এক বিএনপি সমর্থক হঠাৎ করেই জামায়াতি ভাবধারায় আকৃষ্ট হয়েছেন। এমনকি একজন কট্টর আওয়ামী লীগপন্থী যুবকও কয়েক মাসের মধ্যে পুরোপুরি জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছেন। তার দাড়ি-টুপি, কথাবার্তা, দৃষ্টিভঙ্গি—সবই পরিবর্তিত হয়ে গেছে।
আরেকটি উদাহরণ টেনে রনি বলেন, তার এলাকায় এক অর্ধ-পাগল যুবক ফোন করে জানিয়েছে—“ভাইয়া, চারদিকে শুধু জামায়াত আর জামায়াত, ঘরে ঘরে জামায়াত।” এই কথাগুলো শুনে তিনি উপলব্ধি করেছেন, অল্প সময়ে জামায়াত মানুষের মনোজগতে এক বিশাল জায়গা দখল করেছে।
তার মতে, চরমোনাই পীরের সঙ্গে জামায়াতের যে মতবিরোধ একসময় ছিল, সেটিও এখন আর নেই। উভয়পক্ষ একই ভাষায় কথা বলছে, একই কৌশল অনুসরণ করছে। ফলে সমাজে একটা মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটেছে—মানুষের ভাষা, আচরণ ও শরীরী ভাষা বদলে গেছে।
রনি সতর্ক করে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পেশিশক্তি, গুণ্ডামি বা চাঁদাবাজি দিয়ে আর ফল পাওয়া যাবে না। মানুষ এখন অনেক সাহসী হয়ে উঠেছে এবং তারা ট্র্যাডিশনাল রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা সত্যিই বড় ধরনের সংকটে পড়বে
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন