ফ্রান্সে বসবাসরত মুসলিমদের বিরুদ্ধেই সবচেয়ে বেশি ঘৃণা ও বৈষম্য চালানো হচ্ছে—
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ফ্রান্সে বসবাসরত মুসলিমদের বিরুদ্ধেই সবচেয়ে বেশি ঘৃণা ও বৈষম্য চালানো হচ্ছে—এমন এক চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক জরিপে। এতে দেখা যায়, দেশটির প্রতি ১০ জন মুসলিমের অন্তত ৮ জন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ঘৃণা, বৈষম্য বা বৈরী আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএফওপি (IFOP) এই সমীক্ষা পরিচালনা করে এবং গত মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) লিবারাসিয়ঁ পত্রিকায় প্রকাশ করে। জরিপে অংশ নেন ফ্রান্সের বড় শহরে বসবাসরত ১,০০৫ জন মুসলিম। ফলাফলে উঠে এসেছে, ৮২ শতাংশ মুসলিম নাগরিক মনে করেন, ফরাসি সমাজে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এখন “ব্যাপক” রূপ নিয়েছে।
প্রধান তথ্যগুলো:
৮১% উত্তরদাতা বলেছেন, গত এক দশকে মুসলিমবিদ্বেষ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
৬৬% মুসলিম গত পাঁচ বছরে সরাসরি বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন—যা সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি।
২৫ বছরের কম বয়সি তরুণদের ৭৬% জানিয়েছেন, তারা অন্তত একবার বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
বৈষম্যের মূল কারণ হিসেবে ৫০% মুসলিম ধর্মীয় পরিচয়কেই দায়ী করেছেন।
এমনকি সরকারি সেবা কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকেও মুসলিমরা বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের ক্ষেত্রেও বৈষম্য তীব্র—চাকরির আবেদনকালে ৫১% এবং বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে ৪৬% মুসলিম বৈষম্যের শিকার হন, যেখানে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ৭ ও ৬ শতাংশ।
নারীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে:
বিশেষ করে হিজাব পরিহিত নারীদের প্রতি বৈরিতা ভয়াবহ। জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের ৬৬% জানিয়েছেন তারা শারীরিক হামলার আশঙ্কায় থাকেন।
আস্থা কমছে প্রতিষ্ঠানের প্রতি:
অধিকাংশ মুসলিম (৬৬%) জানিয়েছেন, বৈষম্যের শিকার হলেও তারা কোথাও অভিযোগ করেন না। সংগঠন, প্রতিষ্ঠান এমনকি মসজিদের সাথেও যোগাযোগে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন তারা।
সমীক্ষার ফলাফল ফ্রান্সে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা হ্রাসের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন